সোনামনিদের জন্য ‘ঋণখেলাপিরা কীভাবে আপনাকে ফকির বানায়’

৬৯১ পঠিত ... ১২:৪৭, মে ১৬, ২০২৪

33 (1)

রাফসান দ্য ছোট ভাইয়ের বাবার ঋণখেলাপি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এই আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি নানান দিক। কিন্তু এই ঋণখেলাপির সাথে আসলে দেশের অর্থনীতির কী সম্পর্ক? একজনে ঋণখেলাপির জন্য কীভাবে জিনিস্পত্রের দাম বেড়ে যায়, কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যায়। এমন নানান দিক নিয়ে লিখেছেন আরমান আজাদ

১। ব্যাংক উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ সরবরাহ করে। উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। কিন্তু এই ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের টাকা গাপ করার নিয়ত করেই ঋণ নেয়, কোনো উৎপাদনশীল খাতে ঐ টাকা খরচ করে না। ফলে কর্মসংস্থান বাড়ে না। সোজা বাংলায় চাকরি বাড়ে না। ফলে আপনি ৩০ বছর বয়সেও বাপের হোটেলে বসে খান।

২। ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকের ঋণ দেয়ার সক্ষমতা কমে যায়। অন্য মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিল্প ও এসএমই খাতে ঋণ দিতে পারে না। চাকরি তো নাই নাই প্রায়, ছোটোখাটো ব্যবসা করে খাবেন ঐটাও পারবেন না।

৩। সরকার বাজেট ঘাটতি মিটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ করে। ঋণখেলাপিরা ব্যাংক গাপ করে দেওয়ায় ব্যাংক সরকারকে ঋণ দিতে পারে না। ফলে ঘাটতি মেটাতে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়া টাকা ছাপায়। কিন্তু উৎপাদন তো বাড়ে নাই। উৎপাদিত পণ্যের তুলনায় বাজারে অতিরিক্ত টাকা চলে আসায় মুদ্রাস্ফীতি হয়। ৬০টাকার চাল ৭০টাকা দিয়ে কিনে খেতে হয়। আর না হলে বৈদেশিক ঋণ নেয়, যেটা ঘুরে ফিরে বংশপরম্পরায় আপনার, আপনার সন্তানের, আপনার নাতির পরিশোধ করতে হয়।

৪। লস কমাতে ব্যাংক আমানতকারীদের কম মুনাফা (সোজা বাংলায় সুদ) দেয়। ফলে আমানতকারী সঞ্চয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সুদের হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় ব্যাংকে টাকা রাখলেও প্রতিবছর তার সঞ্চয় কমে যায়, তাই চেষ্টা করে জমি/স্বর্ণ বা অন্য উপায়ে সঞ্চয় সংরক্ষণ করতে। ব্যাংকের মুদ্রা সরবরাহ কমে যায়।

৫। মুদ্রা সরবরাহ না থাকায় ভালো ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে লোন পায় না। পেলেও চড়া সুদ দেওয়া লাগে। ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সুদের যোগান দিতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

৬। অতিরিক্ত দ্রব্যমূল্যের বাজারে মানুষ চেষ্টা করে কোনোমতে খেয়ে-পরে বাঁচতে এবং যথাসম্ভব খরচ এড়িয়ে চলতে। ফলে সে একবেলা রিকশায় চড়া বাদ দেয়, বাড়ির কাজের লোককে বিদায় করে, শখের জিনিস কেনা বাদ দেয়। ফলে ঐসব লোকের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যায় এবং অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে আসে। যে আয়ে আপনি সপ্তাহে একদিন গরুর মাংস খেতে পারতেন, ঐ আয়ে এখন আপনি করল্লা ভাজি দিয়ে ভাত খান।

৭। আপনার শরীর থেকে প্রতিদিন ৫ গ্রাম করে মাংস কেটে নিলে আপনার কেমন লাগত? অথচ আপনার পুষ্টির ভাগ ঋণখেলাপিরা মেরে দিচ্ছে, আপনার গায়ে লাগছে না।

৮। অর্থনীতি সংকুচিত হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে ট্যাক্স বাবদ সরকারের যে আয় হওয়া উচিৎ ছিলো তাও কমে যায়। ফলে সরকার তার পরিচালনা ব্যয় মেটাতে ট্যাক্স বৃদ্ধি করে, ভর্তুকি বাতিল করে, সরকারি সেবার মূল্য বৃদ্ধি করে। এইসব আপনার ঘাড়েই আসে। এইসব কিছুর জন্য ছোট থেকে বড় সব মাপের সব সাইজের ঋণখেলাপি দায়ী। এরপরেও যদি ঋণখেলাপির জন্য আপনার আবেগ কাজ তাহলে আপনার ম্যাট্রিক, ইন্টার, অনার্সের সার্টিফিকেট নিয়ে বাথরুমে যান। কাজ শেষে পিছনে দুইটা ডলা দিয়ে টয়লেটে ফ্লাশ করে দেন। ঐগুলা আপনার দরকার নাই।

৬৯১ পঠিত ... ১২:৪৭, মে ১৬, ২০২৪

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top