eআরকি নির্বাচনী অনুসন্ধানমূলক জনমত জরিপ: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ভাবনা

১৭৩ পঠিত ... ১৬:৪৬, জানুয়ারি ০৪, ২০২৪

WhatsApp Image 2024-01-04 at 16.23.45_bdbe0c01

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে গণমাধ্যমে নানামুখী আলাপ আলোচনা চলমান। সেসব আলোচনায় নানা ইস্যু উঠে এসেছে যেগুলোকে এই নির্বাচনে নির্ধারক বলে ভাবা হচ্ছে। বর্তমান জরিপটি মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচিত ইস্যুগুলোর ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অভিমত জানার জন্য করা হয়েছে। এতে করে নির্বাচনকে ঘিরে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া অভিমত ও ধারণাগুলোর একটা তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যাবে। মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচিত ইস্যুগুলোকে তালিকাভুক্ত করার জন্য ২০২৩-এর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গুগল ট্রেন্ড এবং বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। এই তালিকার ভিত্তিতে সার্ভেমাঙ্কি প্লাটফর্মে একটি প্রশ্নমালা তৈরি করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফেসবুক অ্যালগারিদম ব্যবহার করে দেশের সকল বিভাগে আঠারোর বেশি সকল জেন্ডার ও পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়। ২৮ নভেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বরের মাঝে ২১৩৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারী জরিপটিতে অংশগ্রহণ করেন। এদের মাঝে ১৫৭৭ জন অংশগ্রহণকারী জরিপের সবগুলো প্রশ্নের জবাব দেন, যার মধ্যে ৮৭.৬৮ শতাংশ পুরুষ, ১১.৮৫ শতাংশ নারী এবং ০.৩৮ শতাংশ লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর। জরিপে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলাফল তুলে ধরা হলো।

1

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা ভোটের জন্য দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে মনে করছেন

 

    প্রধান ফলাফল

  • এই নির্বাচনে গণমাধ্যম তেমন কেনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী

  • নির্বাচন বিষয়ক মতামত জরিপে অংশগ্রহণে নারীদের আগ্রহ কম পরিলক্ষিত হয়েছে

  • সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশগ্রহণকারী মনে করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব ফেলবে

  • অর্ধেকের বেশী অংশগ্রহণকারী (৫৫%) মনে করেন মার্কিন ভিসা নীতি প্রয়োগ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে

  • অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে অনলাইনের আলাপ-আলোচনা নির্বাচনে প্রভাবে ফেলবে না

  • দুর্নীতি ও অর্থপাচার, লাগামহীন বাজার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের পরিবেশ, রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়া, অসহনীয় যানজট, বিতর্কিত আইন ও নীতিমালা ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ভোট দেবেন বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী। পক্ষান্তরে নাগরিকবান্ধব আইন প্রণয়ন, নারীর প্রতি সহিংসতারোধে সরকারের ভূমিকা এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সরকারের কার্যক্রমকে ভোটের ক্ষেত্রে আমলে নেবেন বলে জানিয়েছেন অর্ধেকের কম অংশগ্রহণকারী

 

3

গণমাধ্যম, বিরোধীদলগুলোর পদক্ষেপ খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না; অভিমত অংশগ্রহণকারীদের

 


. নির্বাচনে গণমাধ্যমের প্রভাব (পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও, ইত্যাদি): গণমাধ্যম এই নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলবে এমন প্রশ্নের উত্তরে জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৮.৪৫ শতাংশ (৭৬৪ জন) কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন। এই পরিমাণ পুরুষের মধ্যে ৪৯.১১ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৪৩.২৪ শতাংশ

. নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব: সর্বাধিক ৩৫.০৭ শতাংশ (৫৫৩ জন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে জানালেও ৩২.৪৭ শতাংশ (৫১২জন) মনে করেন বেশ প্রভাব ফেলবে।  অন্যদিকে মাত্র ২৬.১৯ শতাংশ মনে করে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না

. মার্কিন ভিসানীতি: ৩৫.৫১ শতাংশ (৫৬০ জন) মনে করেন মার্কিন ভিসা নীতি নির্বাচন সংঘটনে কোনো প্রভাবে ফেলবে না (পুরুষদের মধ্যে ৩৬.৫১ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ২৮.১১ শতাংশ)।  অন্যদিকে, ৩০.২৫ শতাংশ ‘কিছুটা’ প্রভাব ফেলবে মনে করলেও ‘বেশ’ প্রভাব ফেলবে মনে করেন ২৫.০৫ শতাংশ। 

. বিরোধী দলের আন্দোলন: ৪৭.১১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন অনলাইনে বিরোধী দলের আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা নির্বাচনে কোনো প্রভাবে ফেলবে না। পক্ষান্তরে, ২২.৯৫ শতাংশ মনে করে কিছুটা এবং ১৬.৮৭ শতাংশ মনে করে নির্বাচনে বেশ প্রভাব ফেলবে

. ভোটপ্রদানে বিবেচ্য বিষয়: ভোটপ্রদানে ভোটাররা যেসমস্ত বিষয় সর্বাধিক বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন সেগুলো হলো দুর্নীতি ও অর্থপাচার (৮১.৪২ শতাংশ), লাগামহীন বাজার (৮০.৬৬ শতাংশ), গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের পরিবেশ (৭৫.২৭ শতাংশ), রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়া (৭৪.৯৫ শতাংশ), অসহনীয় যানজট (৬৯.৫) শতাংশ, বিতর্কিত আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন (যেমন: ডিএসএ, সিএসএ, ওটিটি আইন, ডেটা প্রটেকশন আইন ইত্যাদি) (৬৯.০৬ শতাংশ)। অন্যদিকে ২৯.৯৯ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম (যেমন: বয়স্কভাতা, সার্বজনীন পেনশন স্কিম ইত্যাদি) বিবেচনা করে ভোট দেবেন, ৩১.৮৩ শতাংশ বিবেচনা করবেন কাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম (যেমন: মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনাল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ইত্যাদি) এবং ৩৭.৭৩ শতাংশ বিবেচনা করবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন

বর্তমান জরিপে মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচিত বিষয়াবলিকে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা কিভাবে অনুধাবন করছেন তার একটি ধারণা পাবার চেষ্টা করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মূলধারায় প্রবলভাবে আলোচিত কাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে ততটুকু প্রভাববিস্তারী হয়ে ওঠেনি, অন্তত ভোট বিবেচনায়। তুলনায় নাগরিকবান্ধব আইন প্রণয়ন কিংবা আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন মূলধারায় তেমনভাবে আলোচিত না হলেও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে ভোট বিবেচনায়। মার্কিন ভিসানীতির প্রভাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র অভিমত পাওয়া যাচ্ছে, অথচ মূলধারার গণমাধ্যমে ভিসানীতির ব্যাপক প্রভাব  নির্বাচনে পড়বে বলে আলোচনা দেখা গেছে। তবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার, লাগামহীন বাজার, রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়কে মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যম সমান গুরুত্ববহ বলেই মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।

4

সোশ্যাল মিডিয়া ভোটের সিদ্ধান্তগ্রহণে মোটামুটি ভালোই ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা

পুরো রিপোর্টটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

১৭৩ পঠিত ... ১৬:৪৬, জানুয়ারি ০৪, ২০২৪

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top