সমতন্ত্র না জানলেই No Ball!

২৬৭ পঠিত ... ১৮:২৪, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩

SomotontroSomotontro (1)

লেখা: বোকা দাস

একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে খেলার আগে নিশ্চিতভাবে ক্রিকেটের অনেগুলো স্কিল শিখতে হয় এবং সেগুলো পরিপূর্ণ অ্যাপ্লাই করতে জানতে হয়। সেজন্যই যারা জাতীয় দলের পাইপ লাইনে থাকে বিসিবি তাদের সকল ধরনের সুযোগ তৈরি করে দেয়, সঠিকভাবে পরিচর্যা করে তাদের প্রস্তুত করা হয়। প্রতিনিয়ত অনুশীলন, ম্যাচ প্র্যাক্টিস, মানসিক দক্ষতা বাড়ানো থেকে শুরু করে এমনকি মিডিয়ায় এসে কীভাবে কথা বলবে সেটাও শেখায়।

সবকিছু দেখে বিসিবির যদি মনে হয় এই ছেলে বা মেয়েটি এখন দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সার্ভিস দিতে পারবে তখনই তাকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দেয়। আর সে তখন হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তার প্রতিটি পদক্ষেপে সে গায়ে জড়িয়ে রাখে বাংলাদেশকে এবং নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করলে খুব দ্রুত সে হয়ে ওঠে দেশের তরুণ প্রজন্মের আদর্শ! তরুণরা যেমন তার খেলার ধরন পছন্দ করে, তেমন পছন্দ করে তার লাইফস্টাইল এবং মতাদর্শ।

সম্প্রতি জাতীয় দলের তরুণ এক ক্রিকেটার অভিষেক ম্যাচেই দারুণ ক্রিকেট খেলে আলোচিত হয়। তার দেয়া পূর্বের কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসও আলোচনায় আসে। সেখানে তিনি নানাভাবে নারীর প্রতি বৈষম্য প্রকাশ করেছেন। সবাই যেহেতু ভিন্নভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাদের মতাদর্শও ভিন্ন হবে। কিন্তু কোনো মতাদর্শেই কোনো ধরনের বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে যে ছেলেটি ভালো ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার দিকে তাকিয়ে থাকে দেশের কোটি কোটি মানুষ। সে যদি বৈষম্য চর্চা করে এবং এর প্রচার করে তবে বৈষম্য আরও প্রকটভাবে সাধারণ মানুষের মনে প্রবেশ করবে। তার অনুপ্রেরণায় হয়তো কেউ ভাবতেই পারে, হ্যাঁ মেয়েরা চাকুরি করলে সমাজ উচ্ছন্নে যাবে!

যেখানে এমন বৈষম্যমূলক ভাবনা ভেঙে দিয়ে সমতন্ত্রের আদর্শে সমাজ তৈরি করার জন্য কাজ করছে হাজার হাজার মানুষ, একটু একটু করে পুরানো ভাবনা ভেঙে আধুনিক এবং নারী পুরুষের জন্য সমান একটা সমাজ তৈরি চেষ্টা চলছে সেখানে ক্রিকেটারের এমন বক্তব্য আমাদের পুরো সমাজকে আরও পিছিয়ে দেবে!

বিসিবি যেমন ক্রিকেটারদের সমস্ত দায়িত্ব নেয়, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের জন্য যেমন আলাদা কোচ রয়েছে, তেমন ক্রিকেটারদের মানসিকতা থেকে সকল ধরনের বৈষম্য দূর করতে খুব দ্রুত সমতন্ত্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। যিনি ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটার সংশ্লিষ্ট সকলকে বৈষম্যহীন মানসিকতা তৈরি করে সমতার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করবেন।

কারণ এখন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের যোগ্যতায়, জিতেছে এশিয়া কাপ, নারী ফুটবল দল জিতেছে সাফ। গ্রামের কৃষি থেকে শহরের কর্পোরেট অফিস, বিজ্ঞান, ব্যবসায় সব জায়গায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এমন এগিয়ে যাওয়ার সময়ে একটা বৈষম্যমূলক বার্তা, একটা বৈষম্যমূলক কথা টেনে ধরতে পারে এগিয়ে যাওয়ার লাগাম। বিশ্বের কাছে আমরা পরিচিত হতে পারি বৈষম্যমূলক মানসিকতার জন্য, যাকে ক্রিকেটীয় ভাষায় বলে নো বল! আর একটা নো বল যেমন খেলায় পিছিয়ে দিতে পারে, তেমন বৈষম্যের নো বলে পিছিয়ে পড়তে পারে পুরো দেশ! তাই সবাইকে সমতন্ত্র জানতে হবে, অর্থাৎ, এই বিশ্ব যে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ পাওয়ার, সেটা জানতে হবে। সমতন্ত্র না জানলেই হয়ে যেতে পারে নো বল!

২৬৭ পঠিত ... ১৮:২৪, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top