ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত হুডি পরার জন্যই এসব করেছি: কাল্পনিক সাক্ষাৎকারে সাজিদ

১৭২৯ পঠিত ... ১৮:১৭, আগস্ট ২৫, ২০২২

Du-hoodier-jonnoi

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা চলাকালে সাজিদ উল কবির নামে এক ভুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও বিগত তিন বছর ধরে এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। এই ডিজিটাল যুগে এসেও এমন একজন পড়াশোনাকামীর সন্ধানপ্রাপ্তি অত্যন্ত কৌতুহল জাগানিয়া। এ কারণেই eআরকি’র বিশেষ প্রতিবেদক জারিন তাসনিম টেলিপ্যাথির মাধ্যমে আজ সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে এই সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণের স্থান: ঢাবির পোস্টারে ছেয়ে থাকা সাজিদের রিডিং রুম ।

প্রতিনিধি: সাজিদ ভাই, কেমন আছেন?

সাজিদ: আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো আছি।

প্রতিনিধি: ঢাবিতে চান্স না পেয়েই তিন বছর ক্লাস করলেন, কেন জানতে পারি?  

সাজিদ: দেখুন, নেসেসিটি নোস নো ল, প্রয়োজন কোনো আইন মানে না। ক্লাস নাইন-টেন থেকেই আমার ঢাবির লোগো সম্বলিত হুডি পরার তীব্র ইচ্ছা। এই লোগোওয়ালা হুডির জন্য আমি যে কোনো কিছু করতে পারি। বিশ্বাস করবেন না, এসএসসির পর থেকে টানা তিন বছর আমি এই হুডিকে স্বপ্ন দেখেছি। বড় ভাইরা যখন এই হুডি পরে সামনে দিয়ে হেঁটে যেতেন, মাঝে মাঝে আমার মনে হতো কোনো স্বর্গের দেবদূত হেঁটে যাচ্ছে। অপলক তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাবার পর মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়ি। মানুষের একসাথে দশটা ব্রেকাপের সমানও হবে না এই কষ্ট। এর পরেই আমি চিন্তা করলাম অন্য কী উপায়ে আমি ইচ্ছাপূরণ করতে পারি।

প্রতিনিধি: তারপর?

সাজিদ: তারপর আর কী, ঢাবিয়ানরা তো কথায় কথায় খোঁটা মারে, ‘আগে চান্স পেয়ে দেখান’। আমি ভাবলাম ,চান্সের মায়েরে বাপ। চান্স না পেয়েই দেখাই। এক্ষেত্রে আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইয়ু ক্যান’এর মতো কিছু পছন্দের সিনেমা । তবে ডি ক্যাপ্রিও আমার আইডল ।

প্রতিনিধি: বেশ, চমৎকার। আপনার তিন বছরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন।

সাজিদ: ফ্যান্টাস্টিক একটা জার্নি ছিলো। অভিজ্ঞতা সবসময়ই অমূল্য। তিন বছরে ছা, ছপ , শিঙ্গারাকে আপন করে নিয়েছি, স্লোগানগুলোকে আত্মস্থ করেছি, শ্যাডোতে ফটোকপি করেছি, টিএসসিতে ভেলপুরী খেয়েছি, হাকিম চত্ত্বরে খিচুড়ি খেয়েছি, অনেকগুলো বন্ধু পেয়েছি, প্রেম হয়েছে, টিউশন করেছি, কীভাবে ঢাবিতে চান্স পেতে হবে এই পরামর্শ দিয়েছি। সবকিছু আমার কাছে এক চমৎকার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

প্রতিনিধি: সাজিদ ভাই, প্রথম হুডি পরার অনুভূতি যদি শেয়ার করতেন পাঠকদের সাথে! 

সাজিদ: একটা মারাত্মক জিনিস মনে করাইছেন আপা । যেদিন প্রথম আমি ঢাবিয়ান হিসেবে হুডি পরি, খুশিতে আমার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। ঢাবির হুডিটা পরার পরে আমার মনে হইলো এই কাপড়টা পৃথিবীর বাইরে থেকে স্পেশালি ঢাবিয়ানদের জন্য আনা। এত মোলায়েম ,মসৃণ। যেদিন প্রথম হুডিটা পরে বের হলাম, তিনটা মেয়ে প্রপোজ করলো, বুঝেনই তো ব্যাপারটা …(লাজুক হাসি)

প্রতিনিধি: হা হা হা। এই তিন বছরে একটা বিয়ে করে ফেললেই সব সেটেল হয়ে যাইতো কিন্তু ভাই। যাই হোক, এরপর কী প্ল্যান ছিলো?

সাজিদ: এরপরের প্ল্যান ছিলো আরও বড়। স্বপ্ন দেখতাম আইবিএ থেকে এমবিএ করবো। চান্স তো পাবো না জানি, ওইখানেও কারও বদলে এক বছর পড়ালেখা করবো। আই ওয়াজ গোয়িং টু মেক ফ্রেন্ডস, আইবিএরই একটা স্মার্ট মেয়েকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছিলাম। আমাদের একটা ফুটফুটে বাচ্চা হবে , জন্মের পরদিন থেকে ফটফট করে ইংরেজি বলবে। এরপর শেষমেষ একটা আত্মজীবনী লেখার প্ল্যান ছিলো। কিন্তু এর আগেই তো…

প্রতিনিধি: ধরা খাওয়ার পর কেমন অনুভব করছেন?

সাজিদ: এভরিথিং হ্যাজ আ প্রাইস। তিন বছর মধুর সময় কাটানোর পর দু’তিন দিন একটু খারাপ সময় যেতেই পারে। ইটস নট আ ভেরি বিগ ডিল। ট্যুরে যাওয়া আর ক্লাস করা পর্যন্ত করলেই আসলে অনার্স পাশ করে ফেলতে পারতাম। কোন দুঃখে যে পরীক্ষা দিতে গেলাম! একটু রিগ্রেট তো হয়ই।

১৭২৯ পঠিত ... ১৮:১৭, আগস্ট ২৫, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top