'আমরা শুধু আঙুল চুষতে পারি না, ওকে?' একান্ত সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মহাসচিব 

৬৫৪ পঠিত ... ১৭:২৭, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২

UN-angol-chosha

বিশ্ব আজ ঘোর অমানিশার কবলে। যুদ্ধের করাল গ্রাসে স্থবির বিশ্ব মানবতা। এই ক্রান্তিকালে আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন: জাতিসংঘের ভূমিকা, মূলভাব এবং উপসংহার। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাদের স্টুডিওতে আজ হাজির হয়েছেন 'যেমনে গুতায় তেমনে ঘুরি' খ্যাত  জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আমরা সরাসরি আলোচনায় চলে যাচ্ছি। 

eআরকি: আমাদের অনুষ্ঠানে আপনাকে স্বাগত মি. গুতেরেস। এই যে ইউক্রেনে রাশিয়া সামরিক হামলা শুরু করল। যুদ্ধ শুরু হলো। এই বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা, মূলভাব এবং উপসংহার নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব। 

আন্তোনিও গুতেরেস: আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ। 

eআরকি: কেমন আছেন, মি. মহাসচিব? 

আন্তোনিও গুতেরেস: জি। ভালো। 

eআরকি: আপনার নামটা যেন কী, মি.গুতেরেস? 

আন্তোনিও গুতেরেস: (অবাক হয়ে) স্যরি? আমি গুতেরেস। আন্তোনিও গুতেরেস। 

eআরকি: তথ্যটি আমাদের পাঠককে জানানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তা মি. গুতেরেস, বলুন তো জাতিসংঘের মূলমন্ত্র কী? 

আন্তোনিও গুতেরেস: এ পৃথিবী আপনার (It’s your world)। 

eআরকি: জাতিসংঘ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়, মি. গুতেরেস? 

আন্তোনিও গুতেরেস: ১৯৪৫ সালে। 

eআরকি: আমরা এক্সাক্ট ডেট জানতে চাচ্ছি, মি. গুতেরেস। 

আন্তোনিও গুতেরেস: (কিছুটা ঠাণ্ডা গলায়) ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫। 

eআরকি: ধন্যবাদ! মি. গুতেরেস, আমরা কি জানতে পারি জাতিসংঘের পতাকায় কোন গাছের প্রতীকী আছে? 

আন্তোনিও গুতেরেস: ইয়েস! জলপাই গাছ। এটি শান্তির প্রতীক। 

eআরকি: ধন্যবাদ! মি. গুতেরেস, জাতিসংঘের বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত? 

আন্তোনিও গুতেরেস: (মাথা নিচু করে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা গলায়) জি। বর্তমানে ১৯৩টি দেশ জাতিসংঘের সদস্য। 

eআরকি: ধন্যবাদ, মি. মহাসচিব! আয়তনে জাতিসংঘের ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি? 

আন্তোনিও গুতেরেস: (আরও অতিরিক্ত ঠাণ্ডা গলায়) জি। মোনাকো। জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ টুভ্যালু। বৃহত্তম দেশের নামও বলব? 

eআরকি: রেগে যাবেন না মি.গুতেরেস! আমরা অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। তার আগে বলুন জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র কয়টি। 

আন্তোনিও গুতেরেস: (ভদ্রলোক আর ঠাণ্ডা রাখতে পারলেন না) ধুর মিয়া! রাখেন আপনার পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র! অনুষ্ঠানের প্রায় শেষে চলে এসেছি মানে? এসব রংঢংয়ের মানে কী? 

eআরকি: মি. গুতেরেস, আমরাও জানতে চাই এসব রংঢংয়ের মানে কী? হুদাই একখান জাতিসংঘ বানিয়ে রাখছেন। এটার কাজ কী আসলে? 

আন্তোনিও গুতেরেস: (ইতস্ততভাবে) দেখুন, রাশিয়া ইউক্রেন হামলা করল। এই যে মানবিক বিপর্যয় হচ্ছে। আমাদের না এই ব্যাপারে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করার কথা? 

eআরকি: হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। 

আন্তোনিও গুতেরেস: তাহলে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করছেন না কেন? 

eআরকি: আমরা তো জানি এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই। জাতিসংঘ পারে শুধু বসে বসে আঙুল চুষতে। 

আন্তোনিও গুতেরেস: এক্সিউজ মি?! 

eআরকি: জি! আপনারা পারেন শুধু বসে বসে আঙুল চুষতে। 

আন্তোনিও গুতেরেস: আমরা শুধু আঙুল চুষতে পারি না, ওকে? আমাদের ক্ষমতা সম্পর্কে কোনো আইডিয়া নেই আপনাদের। আমরা চাইলে যেকোনো সময় যুদ্ধ থামাতে…

eআরকি: যুদ্ধ থামাতে পারেন?

আন্তোনিও গুতেরেস: নাহ! যুদ্ধ থামাতে বিবৃতি দিতে পারি। 

(জাতিসংঘের এই বিশাল ক্ষমতার কথা শুনে আমাদের উপস্থাপক যে জানতেন না, তা না। তারপরও তিনি হয়ে পড়লেন স্তম্ভিত, বিমূঢ়, বাকহীন। ঠিক ওই জাতিসংঘেরই মতো)

 

৬৫৪ পঠিত ... ১৭:২৭, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top