দেশি SCAM

৯০৪ পঠিত ... ১৬:২৩, মার্চ ২০, ২০২৪

6 (2)

গত রোজায় আমার এক চাচী মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ইফতারি পাঠাইছে। মোটামুটি ইফতারির সব আইটেমই ২ কেজি, ৩ কেজি, ৫ কেজি করে। কিন্তু মেয়ের শ্বশুরের জিনিসটা পছন্দ হয়নি৷ ওনার হিসেবে বর্তমান বাজার বিবেচনায় পরিমাণ অনেক কম। পোলার শ্বশুরবাড়ির এত নিচু মানসিক দেখে উনি খুবই হতাশ হলেন। ঠিক করলেন, একটা শিক্ষা দিবেন। এই ছোটলোকদের উনি উলটা উপহার পাঠাবেন। দেখিয়ে দিবেন, কারও বাড়িতে উপহার পাঠালে কতটা পাঠাতে হয়!

পরেরদিন উনি পালটা একটা ট্রাকে করে ছেলের শ্বশুরবাড়িতে ইফতারির সব আইটেমই ১৫ কেজি করে পাঠালেন।

পুরা ব্যাপারটায় আমার চাচী বেশ খুশী হলেন৷ ঘরের জন্য কিছু রেখে বাকিগুলো বাড়িতে ৩০% ডিসকাউন্টে বিক্রি করে দিলেন।

ইদের সময় চাচী নতুন একটা স্ট্র‍্যাটেজি নিলেন। সেমাই পাঠালেন ১ প্যাকেট, চিনি পাঠালেন ২৫০ গ্রাম সাথে একটা কনডেন্স মিল্কের কৌটা। কাপড়ও পাঠালেন। মেয়ের শ্বশুরের জন্য একটা গামছা আর মেয়ের জামাইয়ের জন্য একটা লুঙ্গী।

মেয়ের শ্বশুরের আবারও মেজাজ খারাপ হলো। দেখিয়ে দিবেন বলে উনি আবারও পালটা একটা ট্রাকে করে পুরো বাড়ির সবার জন্য কাপড়, রোজার ইদের সব আইটেম পাঠিয়ে দিলেন। চাচী এইসবও বিক্রি করলেন।

এই রমজানেও চাচীর একই প্ল্যান ছিল। বাড়ির সবার কাছ থেকে অগ্রীম টাকাও নিয়ে নিলেন। জিনিসপত্র আরও বেশি আসবে ভেবে পাশের আরও দুই বাড়ি থেকেও অগ্রীম টাকা নিলেন।

১০০ গ্রাম করে ইফতারির ১০ টা আইটেমে করে পাঠিয়ে দিলেন মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু রোজার ১ সপ্তাহ চলে গেলেও এখনও ফিরতি কিছুই আসেনি। তার উপর আজ ওনার বেয়াই ফোন করে জানিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ, ওনারা বেশ খুশী। যা উপহার পাঠানো হয়েছে তা দিয়ে ওনারা এই রোজা শেষ করে ইদও সামলিয়ে ফেলবেন। সামনের রোজার জন্যও অনেক কিছু রাখা যাবে।

এদিকে আমরা চাচীকে অগ্রীম টাকা দিয়ে এখন আর ইফতারি কিনতে পারছি না৷ চাচী টাকা ফেরতও দিচ্ছে না৷ টাকা চাইলে বলতেছে, ওনার মেয়ের শ্বশুরের নামে প্রতারণার মামলা করতে৷

মামলাটা কত ধারায় কীভাবে করলে সুবিধা হবে কেউ জানাইয়েন।

৯০৪ পঠিত ... ১৬:২৩, মার্চ ২০, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top