আমার মাইয়া বাংলা কইতে পারে না

২৪৩ পঠিত ... ১৬:৫৬, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪

429089388_1415698185709313_1616339116432105204_n

সোনারগাঁ থেকে ছোট খালা বেড়াতে আসে ঢাকায় বড় বোনের বাসায়। বোনের স্বামী কুইক রেন্টাল ব্যবসায় বেশ সুনাম ও মালপানি কামিয়েছে। ফলে তারা ফকিরেরপুল থেকে বসুন্ধরায় এসেছে; আর লিভারপুলে একটি সেকেন্ড হোম কিনেছে। ছোট খালার স্বামী সরকারি দলের সহ সভাপতি; সোনারগাঁ-তে সেও পাঁচতলা দালান তুলেছে; কিন্তু উন্নয়নে কুইক রেন্টাল দুলাভাইয়ের ধারে কাছেও যেতে পারেনি।

ছোট খালা অনেক পিঠা-পুলি তৈরি করে এনেছে বড় বোনের মেয়ে সিনথিয়ার জন্য। টিফিন বাটি খুলে ডাকে, ঐ সিনথিয়া এদিকে এসো মামণি!

বড় আপা বলে, কারে ডাকস তুই! হেই তো বাংলা বোঝে না। ইংরেজিতে কথা কয়। ছুডুবেলা থাইকা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে যে!

: তাইলে এখন উপায়! তুমি ডাইকা দেও বুবু।

সিনথিয়ার মা ডাকে, সিনথিয়া কাম হিয়ার; মিট ইওর খালামণি।

: বুবু তুমি দেহি ফটাফট ইংরাজি কইতাছো!

নাকে ঝুলতে থাকা চশমাটা একটু তুলে বড় আপা বলে, শিখতে হইছে; তোর বড় দুলাভাইয়ের পার্টি-পুটিতে যাইতে হয়। ঐ একটু চালাইয়া নিই আর কি!

সিনথিয়ার কানে ইয়ারফোন থাকায় সে শুনতে পায় না। ছোট খালা তার মেয়েটিকে বলে, মালা যাও তুমার সিনথিয়া আপু মুনিরে ডাইকা আনো! পিডা-পুলি খাইবো!

মালা ঘরে ঢুকতেই সিনথিয়া ল্যাপটপের ডালা বন্ধ করে বলে, গেট লস্ট!

মালা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে মা'র কাছে ফিরে আসে কাঁদো কাঁদো চেহারা নিয়ে।

এবার সিনথিয়ার মা যায়, অই তুই মালারে এত জোরে ধমক দিলি ক্যান; প্লিজ বিহেভ ইওরসেলফ।

: প্লিজ টেল হার টু চেঞ্জ দ্যাট আনকুথ ফ্রক।

: আস্তে বল; শুইনা ফালাইবো! এতো দেমাগ দেখাইস না!

: প্লিজ মা; আমার প্রজেক্ট ওয়ার্ক আছে। আই নিড দিস স্পেস।

মা বেরিয়ে যেতেই সিনথিয়া ল্যাপির ডালা ল্যাপে নিয়ে বলে, আই এম ব্যাক বেবি।

ওপ্রান্তে বাঁকা দাঁতে হাসি দিয়ে সালমান বলে, ভাল্লাগতেসে না বোড় লাগতেসে! ক্যাফে ফ্লো-তে আইসা পড়ো! আজ শুধু কফি খাবো না; অনেক কিছু খাবো!

: ডোন্ট ইউ ডেয়ার, প্লেবয়! আই ডোন্ট ট্রাস্ট ইও; আজ সিনথিয়া তো কাল ফওজিয়া! এইসব সেলিব্রেটি দিয়া আমার পোষাবে না! ফা- ইউ।

: ডোন্ট ইউ নো মি; দেখবা তোমার ব্যালকনির লগে ঝুলতেছি! আই উইল বি দেয়ার ইন টেন মিনিটস! জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ!

: নোপ নো নো সালমান; আই উইল কিল ইও। বাসায় গেস্ট আছে! মান ইজ্জত কিচ্ছু থাকবে না!

টরেন্টো থেকে মেজখালা এসেছে। আড়ং-এ গেছে শপিং করতে। মন খারাপ নিয়ে ছোটোখালা বোনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে! মালা আড়ষ্ঠ হয়ে সোফায় বসে টিভি দেখছে।

বড় আপা বলে, তোর দুলাভাই মেয়েরে আস্কারা দিয়া মাথায় তুলছে। অরে লন্ডন পাঠাইব। কইছে, আমগো মাইয়া ব্যারিস্টার সারা হইবো! মালা তুমি তোমার আপুনির ওপর রাগ হইয়ো না। ওর মনডা আবার খুব নরম। ইংলিশ মিডিয়ামে পইড়া একটু ফুং ফাং হইছে আর কী!

মেজ খালা একগাদা শপিং ব্যাগ নিয়ে ঢোকে। পেছনে ড্রাইভারের হাতে আরো কিছু প্যাকেট।

বড় আপা বলে, তুই যে পুরা বাজার তুইলা আনছস!

মেজখালা তার ছোট বোনের দিকে চোখ যেতেই চিৎকার করে, আরে তুই; চেহারা কী বানাইছস! তোরে দেইখা তো এখন আমগো বড় বোন মনে হইতেছে! একদম মেইন টেইন করিসনি নিজেকে। দেখিস আবার তোর সহ-সভাপতি মডেল কন্যারে রোজ গার্ডেন বানাইয়া সেইখানে না তোলে!

: মেজবু যে কী কও; মালা আছে না এইখানে!

: সো হোয়াট? শি ইজ গ্রোন আপ। তোদের এত করে বললাম ক্যানাডার ইমিগ্রেশনের জন্য অ্যাপ্লাই কর! তোর জামাই কীসের সরকারি দল করে যে সেকেন্ড হোম বানাইতে পারে না!

এমন সময় সিনথিয়ার ঘর থেকে ধুপ ধাপ শব্দ আসে। সালমান ব্যালকনি বেয়ে উঠে এসে হাতে একটা লাল কাপড় ঝুলিয়ে ফচকেমি করছে; আর সিনথিয়া তাকে ম্যাটাডোরের ষাঁড়ের মতো তেড়ে যাচ্ছে, গেট লস্ট; গেস্ট লস্ট স্যামি।

এবার উঠে ছোট খালা সেখানে যায়; গিয়ে দেখে একটা ছেলে পড়ার টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে আর সিনথিয়া বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে তাকে বালিশ বই খাতা কলম ছুঁড়ে মারছে!

সালমান ছোট আপাকে দেখে বলে, এই বুয়া আমাকে বাঁচাও! শি ইজ ম্যাড; শি ইজ ব্যাড!

ছোট আপা ঘরের দরজা বড় করে খুলে রাখায় সালমান লাফ দিয়ে টেবিল থেকে নেমে ড্রইংরুমে ঢুকে পড়ে, সিনথিয়ার মার দিকে তাকিয়ে বলে, আন্টি শি ইজ ম্যাড শি ইজ ব্যাড!

মেজ খালা হাসে, এই ছেলে তুমি ইউটিউবে কীসব তিড়িং বিড়িং শো করো তাই না!

মালা  সালমানকে চিনে ফেলে হেসে বলে, ইনফ্লুয়েন্সার; ইনফ্লুয়েন্সার!

সালমান ঘুরে বলে, থ্যাংক ইউ। এইতো একটা ফ্যান পেয়ে গেলাম; কী অটোগ্রাফ নেবে নাকি প্রিটি গার্ল!

বড় আপা চশমার ফাঁক দিয়ে রেগে গোল গোল করে তাকাতেই; সালমান দু'হাত জোড় করে বলে, সরি আন্টি ভুল হইছে; এপোলজি টু অল বলে সে সিঁড়ি দিয়ে ধপ ধপ শব্দ করে পালিয়ে যায়।

ছোট আপা হাসতে হাসতে বলে, বদমাইশ ছেলেটা আমারে বুয়া বলছে!

মেজ আপা জোর করে, চল ইভনিং-এ তোরে পারসোনাতে নিয়ে যাই। কানিজ আলমাস তোরে ডেন্টিং পেন্টিং করে ঐশ্বরিয়া রায় বানিয়ে দেবে!

সংকোচে সিনথিয়া ঘরের মধ্যে গুম মেরে বসে আছে। ছোট খালা বলে, আসো তোমার জন্য পাঠা বানাইয়া আনছি। কথা বুঝলা নাকি ইংরাজিতে ট্রান্সলেট করতে হইবো; ঐ মালা একটু ইংরেজিতে ডাক অরে।

সিনথিয়া এসে ছোটখালাকে হাগ দেয়; তারপর সবার সঙ্গে বসে কাঠবেড়ালির মতো কুটুস কুটুস করে পিঠা খায়।

২৪৩ পঠিত ... ১৬:৫৬, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top