হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ার পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে ঠান্ডা পানি

১০২ পঠিত ... ১৫:৪৯, জানুয়ারি ১৫, ২০২৪

419192079_303328292207129_2741657361410482828_n

সারাদেশে পড়ে গেছে কনকনে শীত। বেশকিছু জায়গায় চলছে শৈত্য প্রবাহ। দুঃস্থ দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগের নেই সীমানা। তবে ভুলে গেলে চলবে না, Every Cloud has a silver lining.

এই কড়া শীতকে বিশেষভাবে কাজে লাগাচ্ছে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো। গোপন সূত্র থেকে জানা যায়, হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়ার পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে বরফ শীতল ঠান্ডা পানি৷ এই পদ্ধতি সর্বপ্রথম বগুড়া মেডিকেল কলেজের ব্যবহারের পর এর শতভাগ সাফল্য দেখে শুরু করেছে অন্যান্য হাসপাতালগুলোও।

হাসপাতালটির সার্জারীর প্রফেসর জামাল এ রাব্বী বলেন, ‘এই আইডিয়াটি মূলত আমার। একদিন রাতে ওয়াশরুমে যেয়ে ট্যাপের পানি দিয়ে হাত ধোবার পর খেয়াল করি হাতে আর কোনো অনুভূতি পাচ্ছি না। টানা তিন ঘণ্টা এই অবস্থাই চললো। আমার স্ত্রী গরম সরিষার তেল, ভ্যাসলিন, লোশন সবকিছুই চেষ্টা করেছে। কিন্তু হাত আর নড়ে চড়ে না। প্রথমে ভাবলাম স্ট্রোক করেছি, পরে বুঝতে পারি আসলে স্ট্রোক না, ঠান্ডা পানির ইফেক্ট। তাই রোগীদের উপরও এক্সপেরিমেন্ট শুরু করি...’

জানা যায়, হাসপাতালে সার্জারি, গাইনি থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায়ই চলছে এই অ্যানেস্থেশিয়া। প্রথমে লোকালি শুরু হলেও এখন তা দিয়ে স্পাইনাল এবং জেনারেলও দেওয়া হচ্ছে। গাইনির অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার মুমু খাতুন বলেন, 'সকাল থেকে ১৫টা সিজারিয়ান সেকশন করলাম। সবাইকেই ঠান্ডা পানি দিয়ে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ কোনো সমস্যা হয়নি...’

শুধু অপারেশন থিয়েটারই নয়, পেডিয়াট্রিকসেও ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে ঠান্ডা পানির ব্যবহার। যেসব বাচ্চারা হাসপাতালে বেশি কাঁদে, রাতে ঘুমোতে দেয় না, তাদের গায়ে ছয় ঘণ্টা পরপর ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে নরমাল পানি। এতে করে তারা ছয় ঘণ্টা নড়চড়া এবং কান্না বন্ধ রাখছে। তবে রাজিয়া সুলতানা নামের এক তরুণী বলেন, ‘আমার বাচ্চা সবকিছুর উর্ধ্বে। পানি ছিটাইছি। কোনো কাম হয় না। তাই মাঝে ওকে নিয়ে বাতাস খাইতে যাই বাইরে। এরপরে এক ঘণ্টা নড়াচড়া করে না...’

১০২ পঠিত ... ১৫:৪৯, জানুয়ারি ১৫, ২০২৪

Top