ঢাকায় কমছে হাফপ্যান্ট ও স্লিভলেস পরার প্রবণতা  

২৮৫ পঠিত ... ১৭:০৩, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩

Halfpant

ঢাকায় হুট করে কমে গেছে হাফপ্যান্ট পরা ছেলে-মেয়ের সংখ্যা। জুলাই মাসের আগে যেখানে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জন হাফপ্যান্ট পরিধান করত, সেখানে আগস্টের শেষের দিকে সেই সংখ্যা কমতে কমতে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।   

অনেক আধুনিক অফিসে কর্মীরা গরমে আরাম ও ফ্যাশনের অনুসঙ্গ হিসেবে হাফপ্যান্ট পরিধান করতেন। বিশেষ করে সফটওয়্যার পার্ক ও অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিগুলোতে হাফপ্যান্টই বলতে গেলে অফিশিয়াল পোশাক। হাফপ্যান্ট জনপ্রিয় ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। জুলাই এরপর এইসব অফিস ও শিক্ষার্থীদের মাঝে হাফপ্যান্ট পরা মানুষের সংখ্যা কমেছে। কাউকে এখন আর খুব একটা হাফপ্যান্ট পরতে দেখা যায় না।

হাফপ্যান্টের পাশাপাশি স্লিভলেস ও হাফ জামা ও ব্লাউজ পরার পরিমাণও কমেছে তরুণীদের মাঝে। আগে যারা স্লিভলেস পরতেন জুলাই মাসের পর থেকে এই সংখ্যা কমে এখন একদম শূন্যে এসে ঠেকেছে। কেউ কেউ পরছেন হাতমোজা ও পা মোজাও।

কমেছে শাড়ি পরার পরিমাণও। শাড়ি পরলেও শরীরের প্রতিটি অংশকে সম্পূর্ণ আবৃত রাখতে অনেকে ব্যবহার করছেন চাদর।

ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশের চিত্রও প্রায় একই বলে জানিয়েছেন আমাদের কাল্পনিক অনুসন্ধানি সাংবাদিক।

জানা গেছে, ঢাকার দুই মেয়রসহ অন্যান্য শহরের মেয়রদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ঢাকার জনজীবনের এই বিশাল পরিবর্তন আসে। মূলত এডিস মশার বিস্তার ও এর বংশবৃদ্ধিতে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মানুষ হাফপ্যান্ট ও স্লিভলেস পরা ছেড়ে দিয়েছে।

এই সাফল্যে দেশের অনেক ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা মেয়রদের প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি আরও বড় সাফল্যের জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। এমনই এক নেতা বলেন, ‘জিন্সপ্যান্ট পরলে কামড়াতে পারে এমন কিছু মশা বানান পারলে। আর সম্ভব হইলে প্রোডাকশন আরও বাড়াইয়া দেন। এখনও দেখি পরিপূর্ণ পর্দায় আসে নাই।’

তবে হাফপ্যান্ট ও স্লিভলেস পরা কমে যাওয়ার কারণে প্রতিদিনের টার্গেট মিলাতে কিছুটা হিমসিম খাচ্ছেন এডিস মশারা। বিষয়টি নিয়ে মেয়রদের উপর কিছুটা অসন্তোষের কথা জানিয়েছে এডিস মশা সোসাইটি। এডিস মশা সোসাইটির এক সহ-সভাপতি বলেন, ‘মুখ ছাড়া তো এখন আর কামডানোর জায়গা নাই। সবাই ফুল হাতা পরে, সবাই ফুলপ্যান্ট পরে। আমরা টার্গেট মিলাতে পারি না। এই তো গতকালকে টার্গেট ছিলো আমি ১০ জনকে এনকাউন্টার করবো, কিন্তু বিকেল পর্যন্ত করতে পারছি শুধু ৫ জনকে। এরপর ফুটপাতে গিয়ে ছেঁড়া জামার গরিবগুলাকে কামড়ে টার্গেট পুরা করতে হইছে।’

তবে এই সমস্যা নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না মশারা। এমনই একজন বলেন, ‘মেয়ররা নিশ্চয়ই চেষ্টা করছেন। সিঙ্গাপুর থেকে আরেকটা ঔষধের লট আসতে দেন। ওই ঔষধ খাইলে জামার উপর দিয়াও কামড়ানো যাবে।’

২৮৫ পঠিত ... ১৭:০৩, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩

Top