নিজেদের সবচেয়ে সুখী মানুষ ভাবতে চান ঢাকাবাসী

৯৪ পঠিত ... ১৭:৩১, জুলাই ১১, ২০২৪

24

প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বসবাস ঢাকা শহরে। দৈনিক আরও ৩০ লাখের মতো চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন নিয়মিত। ঢাকার মতো একটা শহরে বাসে উঠলেই আপনার মনে হবে ইউরোপের কোনো প্রাচীন নগরিতে সাইট সিইং এর জন্য উঠেছেন। আপনাকে আস্তে-ধীরে ঢাকার প্রত্যেকটা বিল্ডিং, অলি-গলিতে বাস থামিয়ে, আপনার চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করাই যেন ঢাকার লোকাল বাসের ড্রাইভারদের প্রধান উদ্দেশ্য।  

বাস থেকে অফিসে যাওয়ার পথে রাস্তায় দাঁড়ানো ফুড কার্ট থেকে, সকাল সকাল মুখোরোচক নাস্তা খেতে গিয়ে যে কারও স্মরণ হবে সেই ছোটোবেলায় মায়ের হাতে মাখিয়ে দেওয়া ডিম-ভাজি, আলু-ভর্তা, ডালের কথা। কতদিন পর এমন সুস্বাদু খাবার খেয়েছিলেন সেটা তার মনে না থাকলেও, তিনি নিশ্চিত যে তার প্লেটের খাবারের মতো হাইজেন মেইন্টেইন করা খাবার আপনি ঢাকা শহর ছাড়া আর কোথাও পাবেন না।

নাস্তা করেই কারও জিরিয়ে নেওয়ার মুড হলে আধা ঘণ্টার জন্য একটা বাসে ওঠে যেতে পারেন। বাসে বসে অফিসের সামনে যেতে যেতে নাস্তা প্রায় হজম হয়ে যাবে। অফিসে গিয়ে ফুল এনার্জি নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

কাজ শেষে শহুরে বিশুদ্ধ হাওয়ায় প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে নিতে ঢাকার নাগরিকদের মনে হবে, গত জন্মের বিশেষ কোনো পূণ্যের কারণেই হয়ত ঢাকা শহরে থাকতে পারছেন।

ঢাকার নাগরিকদের পরম ভাগ্য! তারা ঢাকা শহরে থাকতে পারছেন, ছুটির দিনে ৩০০ টাকার সিএনজি ভাড়া দিয়ে, ১০০ টাকার প্রবেশ টিকিট কিনে, একটু আরাম করে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছ দেখতে, হাঁটতে হাঁটতে বাদাম খেতে যেতে পারছেন।

ঢাকার মানুষ নিজেদের ঘরে বন্দী করে রাখে বলেই মাঝে মাঝে লোড শেডিং দিয়ে তাদের ঘরের বাইরে আসার সিগন্যাল দেওয়া হয়। যেমন সিগন্যাল দেওয়া হয় গ্যাস লাইনে গ্যাসের ফ্লো কমিয়ে দিয়ে। সারাদিন গ্যাস ফ্লো করলে সবার অনেক বেশি বেশি খাবার রান্না করার সম্ভবনা থাকে, বেশি বেশি খেলে তাদের যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে তেমনি ভালো প্রভাব ফেলবে কর্মদক্ষতাতেও।

ঢাকার মনোরম পরিবেশে থাকতে খবির উদ্দিন সরকার  প্রথম এসেছিলেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে। এমন সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন পরিবেশে থাকতে পেরে, ৩০ বছর ধরে বাড়ি যান না কোনো ছুটিতে। তার মতে, ঢাকা শহর নাকি তাকে জাদু করে রেখেছে। ঢাকার বাইরে বের হওয়ার কথা চিন্তা করলেও শ্বাসকষ্ট হয়।

এমন একটা শহরকে বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ঢাকাবাসী বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটা পরিকল্পনার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে। ঢাকার মানুষদের সবচেয়ে সুখী মানুষ ঘোষণা করার জন্য ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা পয়েন্টে গণ স্বাক্ষর নেওয়া হবে। সেটার প্রেক্ষিতে সরকারের কাছে সুখী মানুষ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানাবেন তারা।  

 

৯৪ পঠিত ... ১৭:৩১, জুলাই ১১, ২০২৪

Top