বার্থডে অনার (আ ট্রিবিউট ফ্রম মুরাকামি)

৩০০ পঠিত ... ১৭:০৭, জানুয়ারি ২৪, ২০২২

bday-honor-murakami-

মূল: হারুকি মুরাকামি

অনুবাদ: আলভী আহমেদ

আমার জন্মের গল্প দিয়ে শুরু করি। এ পৃথিবীতে এসেছিলাম ১২ জানুয়ারি, ১৯৪৯-এ। এর মানে দাঁড়ায়, আমি হলাম সেই প্রজন্মের অংশ যে প্রজন্মকে পৃথিবী চেনে ‘বেবি-বুম’ জেনারেশন নামে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন মাত্র শেষ হয়েছে। যুদ্ধ শেষে যারা টিকে গেছেন, তারা বড় করে একটা স্বস্তির শ্বাস নিলেন। এরপর বিয়ে করে ফেললেন, একের পর এক বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দিতে লাগলেন। যুদ্ধ শেষে পরবর্তী চার পাঁচ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে গেল। ‘বেড়ে যাওয়া’ শব্দ দুটো দিয়ে বিষয়টা হয়তো পরিষ্কার বোঝানো যাবে না। বলতে হবে, বিস্ফোরণ। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটল। এরকম বিস্ফোরণ পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি। সেই অদ্ভুত সময়ে জন্ম নেওয়া নামহীন, সংখ্যাহীন অসংখ্য শিশুর একজন হলাম আমি। 

ভয়াবহ বোমা হামলার পর জাপানে যে ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট ছিল, সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আমরা তখন একটু একটু করে বড় হচ্ছিলাম। ময়দানের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু শুরু হয়েছে স্নায়ু যুদ্ধ। সেই কোল্ড ওয়ারের মধ্যে দেশটা যখন দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেষ্টা করছে, তখন আমরা কৈশোরে পা দিয়েছি। ৬০-এর দশকের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে কাউন্টার-কালচারে দীক্ষা নিয়েছি। আদর্শবাদে টগবগ করে ফুটছি আর প্রতিবাদ করছি একটা রক্ষণশীল, অনমনীয় পৃথিবীর বিরুদ্ধে। আমেরিকান রক ব্যান্ড দ্য ডোরস কিংবা জিমি হেন্ডরিক্স (শান্তি!) শুনছি। এবং তারপর, এগুলো পছন্দ হোক বা না হোক, এমন একটি বাস্তব জীবন গ্রহণ করতে চেয়েছি যা খুব একটা আদর্শবাদী নয় আবার সে জীবনটাকে রক অ্যান্ড রোল টাইপের জীবনও বলা যাবে না।

আমরা এখন মধ্য পঞ্চাশে। মাঝের সময়টুকুতে পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। মানুষ চাঁদে গেছে। বার্লিনের দেয়াল আজ নেই। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, আমার জীবনে সুখ বা অসুখ, আশা বা হতাশার মধ্যে যে ভারসাম্য তাতে ওই ঘটনাগুলোর বিশেষ কোনো প্রভাব নেই। একে একে অনেকগুলো জন্মদিন আমি পার করে ফেলেছি, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিজের চোখে ঘটতে দেখেছি। তবু মনে হয়, আমি সবসময় আমার মতোই আছি। অন্য কিছু হতে পারতাম না।

আজকাল যখন গাড়ি চালাই, তখন সিলভার কালারের সিডি বাজিয়ে দিই। এবং এই জিনিসগুলো দেখে বুঝতে পারি, একবিংশ শতাব্দীতে ঢুকে পড়েছি। নিজের মধ্যে কোনো পরিবর্তন টের পাই বা না পাই, এটুকু নিশ্চিত যে পৃথিবী তার পুরনো গতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা কখনো থামিয়ে দেয়নি। 

ঠিক একইভাবে, প্রতি বছর একবার করে আমার জন্মদিন আসে। নিঃশব্দে আসে। এই জন্মদিনগুলোতে কি নিজের মধ্যে আনন্দ অনুভব করি? উত্তরটা হলো, খুব একটা না। আপনি আগে ছিলেন ৫৩, এবার ৫৪। এতে নিজের কৃতিত্ব কী আছে বুঝতে পারি না।

ধরা যাক, ডাক্তার আপনাকে বলল, আপনি মাত্র ৫২ বছর বাঁচবেন। এরপর খেল খতম। সুতরাং, মৃত্যুর পর আপনার সম্পত্তির কী হবে তার একটা উইল করে যান, বিলি বন্টনের ব্যবস্থা করুন।

৫২ পার হলো। আপনি মরলেন না। পুরো বছরটা বহাল তবিয়তে বেঁচে রইলেন। এবং আপনার ৫৪-তম জন্মদিনের ভোরে জেগে উঠলেন—তখন অবশ্যই সেটা একটা বিশেষ কিছু। উদযাপন করতেই পারেন। একটা নৌকা ভাড়া করে টোকিও উপসাগরের মাঝখানে যেয়ে আতশবাজি পোড়াতে পারেন।

আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হলো, ডাক্তারের তরফ থেকে আমাকে এখনো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। আমাকে কেউ বলেনি যে অমুক দিন বা অমুক বছরের মধ্যে তোমার মৃত্যু হবে। তাই জন্মদিনে যখন নিজেকে জীবিত আবিষ্কার করি, ব্যাপারটা নিয়ে বাড়াবাড়ি উচ্ছ্বাস দেখানোর মতো কিছু খুঁজে পাই না। বড়জোর ডিনারে আমি একটা বিশেষ ওয়াইনের বোতল খুলি। এটুকুই। এই ওয়াইনের বোতল খোলার ব্যাপারটাতে পরে আবার ফিরে আসব।

তবে আমার মতো লোকেরও জন্মদিন নিয়ে একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আছে। যদিও এটা হয়তো কেবলমাত্র আমার জন্যই অদ্ভুত। ব্যক্তিগত অদ্ভুত অভিজ্ঞতা!

সেদিন ছিল আমার জন্মদিন। টোকিও অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে রেডিও শুনছিলাম। সাধারণত খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি আমি। ভোর চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে উঠে কফি বানাই। আমার স্ত্রী হয়তো তখনো ঘুমাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে এক স্লাইস টোস্ট খাই এবং কফির মগ হাতে স্টাডিরুমে ঢুকি। এরপর লেখা শুরু করি। ব্রেকফাস্ট তৈরির সময় রেডিওর খবর শোনা আমার পুরনো অভ্যাস। অবশ্য রেডিওর খবরে শোনার মতো খুব বেশি কিছু নেই। তবু শুনি। ওই যে বললাম, অভ্যাস।

সেদিন সকালে, কফির পানি যখন গরম হচ্ছিল, রেডিওর ঘোষক তখন সেই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক ইভেন্টগুলির একটা তালিকা ঘোষণা করছে। সেই ইভেন্টগুলো কখন এবং কোথায় ঘটবে তার বিশদ বিবরণ সহ। আমি জেনে গেলাম, সম্রাট আনুষ্ঠানিকভাবে সেদিন একটা গাছ রোপণ করবেন। একটা বড় ব্রিটিশ যাত্রীবাহী জাহাজ ইয়োকোহামায় নোঙর করবে। অফিশিয়ালভাবে সেদিনটা ছিল জাপানে চুইংগাম দিবস। এই বিশেষ দিবসের সম্মানে দেশ জুড়ে কিছু অনুষ্ঠান হবে। আমি জানি, কথাটা খুব হাস্যকর শোনাচ্ছে। কিন্তু আমি বানিয়ে বানিয়ে এসব বলছি না। সত্যিই চুইংগাম দিবস বলে একটা দিন আছে।

রেডিওর সেই অনুষ্ঠানের শেষ আইটেম হিসেবে ঘোষক পড়ল বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামের একটা তালিকা যাদের জন্মদিন ১২ জানুয়ারি। এবং তাদের মধ্যে আমার নামও ছিল! 

ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামি আজ তার . . . তম জন্মদিন উদযাপন করছেন, ঘোষক বললেন। 

নিজের নাম শুনে হকচকিয়ে গেলাম। পানি গরম হচ্ছিল যে হট কেটলিতে তার ওপর প্রায় ছিটকে পড়লাম। 

ওয়াহ! এটাই ছিল আমার প্রতিক্রিয়া। আমি প্রায় চিৎকার করে উঠেছিলাম। অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে ঘরের চারপাশে তাকালাম। আমার মনে একটা অনুভূতি খেলা করল, আমার জন্মদিন আর শুধু আমার একার নয়! এখন তাহলে সেটা পাবলিক ইভেন্ট হিসাবে তালিকাভুক্ত!

শেষপর্যন্ত পাবলিক ইভেন্ট?

কী জানি! পাবলিক ইভেন্ট হোক বা না হোক, এটুকু নিশ্চিত হলাম যে অন্তত সে মুহূর্তে জাপানজুড়ে কিছু লোক ঘোষণাটা শুনেছে। এবং খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও আমার ব্যাপারে কিছু ভাবনা তাদের মাথায় হয়তো খেলে গিয়েছে। কী রকম ভাবনা হতে পারে সেগুলো? 

  • আজ তাহলে হারুকি মুরাকামির জন্মদিন?
  • বাহ, হারুকি মুরাকামির বয়স তাহলে . . .।
  • আরে বাহ, হারুকি মুরাকামির মতো লোকদেরও তাহলে জন্মদিন আছে!

যদিও এই এত ভোরে খুব কম লোকই ঘুম থেকে উঠেছে এবং রেডিওর এই হাস্যকর বকবকানি শুনছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা কি বিশ বা ত্রিশ হাজার হবে? তাদের মধ্যে কতজন লোক আমার নাম জানে? আগে শুনেছে? দুই-তিন হাজার হবে? আমার কোনো ধারণা ছিল না।

পরিসংখ্যানগুলোকে মনের এক কোণে সরিয়ে রাখার পর মনটা কেমন যেন নরম হয়ে গেল। এই ধুলোমাটির পৃথিবীর সঙ্গে এক কোমল, প্রাকৃতিক বন্ধন অনুভব করলাম।

 একজন মানুষ যখন জানে আজ আরেকজন মানুষের জন্মদিন তখন সে একটা বিশেষ বন্ধন অনুভব করে। এটা ছিল সেইরকম বন্ধন। কিছুক্ষণের জন্য আমি আমার মনের চোখে এই বন্ধনটির রূপ-রং-রস অনুভব করার চেষ্টা করলাম। এরপর মাথায় বিচ্ছিন্নভাবে অনেকগুলো চিন্তা পরপর খেলে গেল। সেগুলোর কোনো মাথামুন্ডু নেই। আদর্শ এবং আদর্শের সাথে আপোস, স্নায়ু যুদ্ধ, জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এসব উচ্চমার্গীয় ভাবনা মাথায় এল। ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার কথা ভাবলাম। বুড়ো হলাম, উইল করলাম এবং ডাক্তারের ভবিষ্যদ্বাণীকে মিথ্যা প্রমাণ করে জন্মদিন উদযাপনের জন্য জাপান উপসাগরে নৌকা ভাসালাম। সেখানে আতশবাজি পোড়ানো হলো।

মাথা কাজ করছিল না। তাই চেষ্টা করলাম, চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে কফি বানানোয় মন দিতে।

কফি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর একটা মগে ঢেলে স্টাডিতে ঢুকলাম। ডেস্কে বসে অ্যাপল ম্যাক চালু করে দিনের কাজ শুরু করলাম। স্টেরিওতে তখন লো ভলিউমে জার্মান কম্পোজার ফিলিপ টেলিম্যানের ‘কনসার্টোস ফর উডউইন্ড ইনস্ট্রুমেন্ট’ বাজছিল। বাইরে তখনও অন্ধকার। দিনটা সবে শুরু হয়েছে। সেটা ছিল বছরের একটা বিশেষ দিন, কিন্তু একই সাথে একেবারে সাধারণ একটা দিন। আমি আমার কম্পিউটারে কাজ করছিলাম।

হয়তো সামনের বছরগুলোতে আমার সেই নাটকীয় জন্মদিন আসবে, যখন আমি টোকিও উপসাগরে নৌকা ভাড়া করে বেড়াতে যাব। আতশবাজির উৎসব করব। এবং সত্যিই যদি এমন ইচ্ছা আমার মনে জাগে, বিনা দ্বিধায় সে কাজ করব—যে যাই বলুক না কেন। কিন্তু যে দিনটার গল্প এখন বলছি, সেদিন অন্তত তেমন ইচ্ছে জাগেনি। সুতরাং সেই জন্মদিনে আমার পরিকল্পনা ছিল, বছরের বাকি দিনগুলোর মতোই ডেস্কে বসে থাকব, চুপচাপ নিজের মতো লিখব। 

আগেই বলেছি, আমার জন্মদিন ১২ জানুয়ারি। ইন্টারনেটে ঘেঁটে একবার দেখেছিলাম, এই দিনে আর কার কার জন্মদিন আছে। সেই তালিকায় জ্যাক লন্ডনের নাম খুঁজে পেয়ে রোমাঞ্চিত বোধ করেছিলাম। স্পাইস গার্লসদের একজনের জন্মদিনও অবশ্য একই দিনে। কিন্তু আমি স্পাইস গার্লসদের চেয়ে জ্যাক লন্ডনকে নিয়ে বেশি রোমাঞ্চিত ছিলাম। কারণ বছরের পর বছর ধরে এই মহান লেখকের একনিষ্ঠ পাঠক আমি। 

‘হোয়াইট ফ্যাং’ এবং ‘দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড’-এর মতো তাঁর বিখ্যাত বইগুলো আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। শুধু তা-ই নয়, তাঁর যে গল্পগুলো খুব বেশি বিখ্যাত নয়, সেগুলোও পড়েছি। তাঁর জীবনীও আমার পড়া। তাঁর লেখার সরল অথচ দৃঢ় ভঙ্গি আমার অসম্ভব পছন্দ। ঔপন্যাসিক হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি খুব পরিষ্কার। এবং যেরকম সরলভাবে সাধারণ কিছু কথা দিয়ে তিনি বড় একটা শূন্যতার অনুভূতি আমাদের মনে জন্ম দেন, আমি তা ভালোবাসি। সবসময়ই তাঁকে একজন মহান লেখক হিসাবে ভেবেছি। আমি বিশ্বাস করি যে তিনি যেটুকু সম্মান পেয়েছেন, তারচেয়েও বেশি পাওয়ার দাবি রাখেন।

জ্যাক লন্ডন এবং আমার জন্মদিন একই দিনে—এই তথ্য আমাদের মধ্যে একটা অন্তরঙ্গ বন্ধন তৈরি করে দিয়েছে। তাঁর জন্ম ১২ জানুয়ারি, ১৮৭৬-এ। আমার ৭৩ বছর আগে। 

১৯৯০-এর প্রথম দিকে ক্যালিফোর্নিয়া গিয়েছিলাম। এমনিতেই গিয়েছিলাম, বেড়ানোর জন্য। তখন ঠিক করি, এই কিংবদন্তী লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। সোনোমা কাউন্টির গ্লেন এলেন নামে এক জায়গায় জ্যাক লন্ডনের একটা ওয়াইন ফার্ম ছিল। সেবার সেখানে গিয়েছিলাম আমি। 

আরও নির্দিষ্ট করে ঘটনাটা যদি বলতে চাই, প্রথমে আমার মাথায় আসেনি জ্যাক লন্ডনের কথা। নাপা ভ্যালি ওয়াইন তৈরির জন্য বিখ্যাত। অনেকগুলো ফার্ম বা ওয়াইনারি আছে সেখানে। আমি একটা গাড়ি ভাড়া করে সেই ওয়াইন খামারগুলো ঘুরে দেখছিলাম। তখন আমার মাথায় হুট করে চিন্তাটা খেলে গেল। মনে পড়ল, আশেপাশেই কোথাও জ্যাক লন্ডনের একটা খামার ছিল। গাইড বই ঘেঁটে জায়গাটা বার কয়েক চক্কর দিলাম। ১৯০৫ সালে তিনি গ্লেন এলেনের একটা ওয়াইনারি কিনেছিলেন এবং সেটাকে প্রায় ১৪ শ একরের একটা বড় আকারের পরীক্ষামূলক ওয়াইন খামারে পরিণত করেছিলেন। ১৯১৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। খামার পরিচালনার পাশাপাশি সেখানে বসেই তিনি উপন্যাস লিখতেন। 

সেই খামারের প্রায় ৪০ একর জায়গা নিয়ে পরবর্তীতে জ্যাক লন্ডনের নামে স্টেট হিস্টোরিক পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এবং জায়গাটা সংরক্ষিত। ভারি সুন্দর একটা জায়গা। আমি যখন সেখানে পৌঁছলাম, তখন সূর্যের স্বচ্ছ আলো জ্বলজ্বল করছে। একটা মৃদু হাওয়া ভেসে আসছিল পাহাড়ের ওপাশ থেকে। সেই শান্ত বাতাস ঘাসগুলো ছুঁয়ে যাচ্ছিল, যেন আদর করছিল। শরতের সেই বিকেলে আমি জ্যাক লন্ডনের রুম এবং ডেস্কের দিকে তাকিয়ে ছিলাম যা একসময় আমার প্রিয় লেখক ব্যবহার করতেন। 

আমার জীবনে যেসব স্মৃতি সবসময় জ্বলজ্বল করে তার মধ্যে এই স্মৃতিটা অন্যতম। তাই প্রতি বছর এই স্মৃতি স্মরণ করে আমার জন্মদিনে জ্যাক লন্ডন ওয়াইনের (ক্যাবেনেই সোভেনিয়ন) একটা বোতল খুলি। এই বিশেষ ওয়াইন অবশ্য জ্যাক লন্ডন যেখানে থাকতেন সেই গ্লেন এলেনে তৈরি নয়। ঠিক পাশেই কেনউড জেলায় তৈরি। কিন্তু এই ওয়াইনের বোতলের সাথে ‘জ্যাক লন্ডন ভিনিয়ার্ড’ নামটা যুক্ত আছে। এবং এর লেবেলে আছে সেই নেকড়ের ছবি যা ‘হোয়াইট ফ্যাং’-এর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হয়েছিল। 

জ্যাক লন্ডন মাত্রাতিরিক্ত মদ খেতেন এবং তাঁর লিভারের দফারফা করে মাত্র ৪০ বছর বয়সে মারা যান। আমি জানি, জন্মদিনে তাঁর উদ্দেশ্যে টোস্ট করার চেয়েও আরও ভালো কোনো পন্থায় তাঁকে স্মরণ করা সম্ভব। তবু এই আশায় আমি আমার গ্লাসটা তুলে ধরি যে এই অসামান্য আমেরিকান লেখক যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। 

[হারুকি মুরাকামি সম্পাদিত ‘বার্থডে স্টোরিস’ বইয়ের ভূমিকা থেকে এই লেখাটা ইষৎ সংক্ষেপিত আকারে অনুবাদ করা হলো।]

 

৩০০ পঠিত ... ১৭:০৭, জানুয়ারি ২৪, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top