এটগার কেরেটের গল্প: পেয়ারা

২২৫ পঠিত ... ০৬:০১, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

প্লেনের এঞ্জিন থেকে কোনো শব্দ আসতেছে না। কোনো শব্দই না। তার কয়েক সারি পেছন থেকে খাকি ফ্লাইট এটেন্ডেন্টদের মৃদু কান্নার শব্দ আসতেছে। ডিম্বাকার জানলা থেকে স্কেডি  নিচের দিকে ঘুরে বেড়ানো মেঘের দিকে তাকাইলো। তার মনে হইলো টুকরা পাথরের মতো বিশাল এক গর্ত সৃষ্টি কইরা প্লেনটা পইড়া যাইতেছে- একটু পড়েই যে গর্ত আবার বাতাসে ভরাট হয়া যাবে, গর্তের কোনো চিহ্নই থাকবে না। 

'পইড়ো না। প্লিজ, অন্তত পইড়া যাইয়ো না।', স্কেডি বললো। 

স্কেডি মারা যাওয়ার ৪০ সেকেন্ড আগে ধবধবে সাদা জোব্বা পড়া একজন ফেরেশতা উদয় হইলো। ফেরেশতা স্কেডিরে বললো, তারে শেষ ইচ্ছাপূরণের সুযোগ দেয়া হইছে। স্কেডি বোঝার চেষ্টা করলো ইচ্ছাপূরণের সুযোগ বলতে আসলে ঠিক কী বুঝানো হইতেছে। এই ইচ্ছাপূরণের সুযোগ কি লটারিতে জেতা টাকার মতো? না কি কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ  অর্জন করা আজীবন সম্মাননা টাইপ প্রশংসাসূচক কিছু?   

ফেরেশতা কাঁধ ঝাকাইলো। 'জানি না' -আন্তরিকভাবে বললো ফেরেশতা৷ 'আমারে খালি বলা হইছে আইসা তোমার  শেষ একটস ইচ্ছাপূরণ কইরা দিয়া যাইতে। কেন তা বলে নাই।' 

'লজ্জার কথা।', স্কেডি বললো, 'কারণ ব্যাপারটা অদ্ভুত মজার। বিশেষ কইরা, এই মুহূর্তে যখন আমি এই দুনিয়া ছেড়ে যাইতেছি, জানতে খুবই ভাল্লাগবে আমি জাস্ট আরেকজন লাকি গাই নাকি আমি পিঠ চাপড়ানিটাইপ সান্ত্বনা পুরস্কার নিয়া চলে যাবো। 

'মাত্র ৪০ সেকেন্ড। তারপর আপনি পটল তুলবেন।' ফেরেশতা বললো, 'এই ৪০ সেকেন্ড যদি ঘ্যান ঘ্যান কইরা কাটাইতে চান। আমার প্যারা নাই। নো প্রবলেম। খালি মনে রাখেন যে, আপনার সুযোগের দরজা কিন্তু বন্ধ হয়ে যাইতেছে।' 

স্কেডি একটু ভেবে দ্রুত তার ইচ্ছা ঠিক কইরা নিলো। অবশ্য ফেরেশতারে জানাইতে ভুললো না যে তার কথা বলার ভঙ্গি অদ্ভুত, অন্তত একজন ফেরেশতা হিসাবে৷ 

'ফেরেশতা হিসাবে' বলতে কী বুঝাইতেছেন?' ফেরেশতারে কথা বলতে আপনি কোনোদিন শুনছেন? এমন একটা কথা আমার সম্পর্কে আপনি বইলা বসলেন!' 

'কখনও না।', স্কেডি স্বীকার করলো।  

হঠাৎ ফেরেশতারে কিছুটা কম ফেরেশতাসুলভ মনে হইলো তার, কিছুটা কম আকর্ষনীয়। তবে স্কেডির ইচ্ছার কথা শুনলে তার যে চেহারা হইলো তার তুলনায় এগ্লা কিছুই না। 

'পৃথিবীতে শান্তি?'- ফেরেশতা চিল্লায়ে উঠলো। 'পৃথিবীতে শান্তি?' আমার সাথে ফাইজলামি করতেছেন?' 

আর তখনই স্কেডি মারা গেলো।  

স্কেডি মারা গেলো আর রয়ে গেলো সেই ফেরেশতা। রয়ে গেলো তার শোনা  সবচেয়ে  বিরক্তিকর ও জটিল ইচ্ছারপূরণের দায়িত্ব নিয়া। বেশিরভাগ সময় লোকে তার স্ত্রীর জন্যে নতুন গাড়ি বা বাচ্চার জন্যে এপার্টমেন্ট চায়। বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন চাওয়া। সুনির্দিষ্ট চাওয়া। কিন্তু পৃথিবীতে শান্তি আনা বড় কঠিন জিনিস। 

প্রথমত, লোকটা তারে যেমনে প্রশ্ন করতেছিলো যেন সে এটিএন্ডটি ডিরেক্টরি। তারপর কি সাহস তার কথা বলার ভঙ্গি নিয়া প্রশ্ন তোলে!  আর সবচাইতে খারাপ পৃথিবীতে শান্তি আনার দায়িত্ব দিয়া গেছে!  স্কেডি যদি মইরা না গেলে ফেরেশতা তারে হার্পিসের মতো ধইরা থাকতো আর ইচ্ছা না বদলানো পর্যন্ত ছাড়তো না। কিন্তু এগ্লা বইলা তো লাভ নাই। লোকটার আত্মা এতক্ষণে সপ্তম বেহেশতে আর কে জানে সে কখনও তার দেখা পাওয়া যাবে কিনা। 

ফেরেশতা গভীর নিশ্বাস নিলো। 'পৃথিবীতে শান্তি। এইটাই,' সে বিড়বিড় করলো। 'জাস্ট পৃথিবীতে শান্তি। এইটাই।' 

এইসব যখন চলতেছিলো, ততক্ষণে স্কেডির আত্মা পুরাপুরি ভুইলা বসেছিলো যে সে কোনো একসময় স্কেডি নামের এক লোকের সাথে ছিলো এবং পুনরুত্থিত হইছে, বিশুদ্ধ ও সম্পূর্ণ দাগহীন, সেকেন্ডহ্যান্ড কিন্তু নতুনের মতোই ভালো, একটা ফলের মতো। হ্যা ফলেরই মতো। একটা পেয়ারার মতো।  

এই নতুন আত্মার কোনো চিন্তা নাই। একটা পেয়ারা চিন্তাভাবনা করতে পারে না। কিন্তু অনুভুতি আছে। পেয়ারাটা  সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন করা এক ভয় টের পাইলো। তার ভয়টা ছিলো গাছ থিকা পড়ে যাওয়ার ভয়। 

এমন না যে ভয়রে বর্ণনা করার ভাষা এর ছিলো। যদি থাকতো, মোটামুটি এমন হইতো, 'ও মাই গড!' আতঙ্কিত পেয়ারাটা যখন গাছে ঝুলতেছিলো, পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস বইতে লাগলো। 

মানুষ তলোয়ার দিয়া হালচাষ করা শুরু করলো। নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার শুরু হইলো। কিন্তু পেয়ারাটার জন্যে এইসব কোনো স্বস্তি আনতে পারলো না। কারণ গাছটা উচা, জমিন বহুদূরের ও যন্ত্রনাদায়ক। 'খালি পইড়ো না', ভাষাহীন পেয়ারাটা শিউড়ে উঠলো, 'প্লিজ পইড়া যাইয়ো না।'

২২৫ পঠিত ... ০৬:০১, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top