বন্ধু টড আমাকে যেমন একটা গল্প লিখতে বললো

১৯২ পঠিত ... ০০:২৩, জুন ০৩, ২০২০

 

আমার বন্ধু টড চায় তারে এমন একটা গল্প লিখে দিই, যা তারে বিছনায় মেয়ে এনে দেবে। 'তুমি এমন গল্প লিখছো যা পড়ে মেয়েরা কান্দে।' সে বলে, 'আবার এমন গল্পও লিখছো যা পড়ে মেয়েরা হাসে। এবার তাইলে  একটা গল্প লেখো যা পড়লে মেয়েরা লাফ দিয়া আমার বিছনায় চলে আসবে।'   

আমি তারে বোঝানোর চেষ্টা করি যে গল্প ঠিক এইভাবে কাজ করে না। সত্যি যে কিছু মেয়ে আমার গল্প পড়ে কান্দে। আবার কিছু পুরুষ আছে যারা...' 

'পুরুষ বাদ'- টড আমার কথা শেষ করতে দেয় না। 'পুরুষদের আমি চাইতেছি না। আমি তোমারে আগেভাগে বলে রাখতেছি, যে কাউরে আমার বিছনায় নিয়া আসবে এমন গল্প তুমি লিখবা না, খালি মেয়েদের আসতে হবে। পরে যাতে মনকষাকষি না হয় তাই আগেই বলে রাখলাম।'

আমি ধৈর্য নিয়া তারে আবার বোঝানোর চেষ্টা করি, যে ব্যাপারটা ঠিক এইভাবে কাজ করে না। গল্প কোনো জাদুমন্ত্র বা হিপ্নোথেরাপি না; একটা গল্প কিছু অনুভুতি, কিছু অন্তরঙ্গ, এমনকি বিব্রতকর কিছু মুহূর্ত  অন্যের সাথে শেয়ার করার একটা মাধ্যম মাত্র। এইটা... 

'দারুণ' আবারও আমারে থামাইলো টড।' পাঠকদের সাথে এমন বিব্রতকর কিছু শেয়ার করো যাতে মেয়েরা লাফ দিয়া আমার বিছনায় চলে আসে।' টড কথা শুনবেই না। সে কখনও কথা শোনে না, অন্তত আমার কথা শোনে না।  

টডের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় ডেনভারে একটা পাঠচক্রে। সেদিন সন্ধ্যায়, তার ভালোলাগার গল্পগুলোর কথা বলতে গিয়া টড এমনই উত্তেজিত হয়ে পড়ছিলো যে সে তোতলাইতে শুরু করলো। তার আবেগ-উত্তেজনা ব্যাপক যদিও এইটা খুব স্পষ্ট যে তা প্রকাশের উপযুক্ত ধরণটা সে রপ্ত করতে পারে নাই। তার সাথে আমার অনেক কথা হইছে এমন না। তবে লক্ষ্য করছি ব্যক্তি হিসেবে সে ভদ্র, স্মার্ট। যার প্রতি আপনি আস্থা রাখতে পারেন। টড সেই লোক ডুবন্ত জাহাজ বা জ্বলন্ত বাড়ি দেখলে যারে আপনি পাশে পাইতেন চান৷ এমন ব্যক্তি বিপদ দেখলে যে আপনারে ফালায়ে লাইফবোট নিয়া পালায়ে যাবে না৷    

কিন্তু এই মুহূর্তে, আমরা জ্বলন্ত বাড়ি বা ডুবন্ত জাহাজে নাই। আমরা উইলিয়ামসবার্গের একটা ফাঙ্কি ন্যাচারাল ক্যাফেতে বইসা অর্গানিক সয়ামিল্ক খাইতেছি। খাইতে খাইতে কিছুটা বিষন্নভাব আসছে। এই এলাকায় যদি কোনো বাড়িতে আগুন লাগতো বা অদূরে জাহাজ ডুবতো, ভাবতে পারতাম কেন টডরে আমি ভালোবাসি। কিন্তু তারে একটা গল্প লিখে দিতে বইলা টড যখন পীড়াপীড়ি শুরু করলো, তারে হজম করা কঠিন হইলো।   

'গল্পের নাম দিবা 'টড দ্য ম্যান', সে বললো- অথবা খালি টড। সত্যি বলতে কী, 'টড' নামটাই ভালো। ফলে পাঠিকারা এইটা পড়ার সময় শুরুতে ধরতে পারবে না যে গল্পটা কোথায় যাইতেছে, এবং শেষে যখন চমকায়ে যাবে-বুম! তারা টেরও পাবে না কি জিনিস তাদের ধাক্কা দিছে। হঠাৎ আমার প্রতি তারা অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকাবে। হঠাৎ তারা টের পাবে তাদের বুকে ধুকপুকানি  শুরু হয়ে গেছে। ঢোক গিলে তারা বলবে, 'টড, তুমি কি আশেপাশে কোথাও থাকো?' অথবা 'এইভাবে আমার দিকে তাকাবা না, প্লিজ।' এমন স্বরে বলবে যার অর্থ আসলে উল্টা: 'প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ এইভাবেই আমার দিকে তাকায়ে থাকো।'  আমি ওদের দিকে ওইভাবেই তাকায়ে থাকবো, আর মুহূর্তের  মধ্যে, -অনেকটা ম্যাজিকের মতো-  ঘটনা ঘটে যাবে। আমি চাই ঠিক এইরকম একটা গল্প তুমি আমারে লিখে দিবা। কথা বুচ্ছো?   

আমি বললাম, 'টড, প্রায় এক বছর তোমার খোজ নাই। তোমার সাথে কী ঘটছে? নতুন কিছু হইছে? আমারে জিগাও আমি কেমন আছি, আমার বাচ্চা কেমন আছে৷'

'আমার সাথে কিছু ঘটে নাই।' অধৈর্য টড বললো, 'আর আর ওই বাচ্চা ছেলেটা। ওর ব্যাপারে কোনো কিছু জানা বাকি নাই আমার৷ কয়েকদিন আগে রেডিওতে তোমার একটা ইন্টারভিউ শুনলাম। পুরা ইন্টারভিউতে খালি ওর কথাই বললা। ও এইটা কেমনে করলো, ওইটা কেমনে বললো। ইন্টারভিউয়ার তোমারে জিগাইলো, লেখালেখি বিষয়ে, ইজরায়েলের ব্যাপারে, ইরানের হুমকির ব্যাপারে৷ আর তুমি কি করলা, সবকিছুতে বাচ্চাটারে টেনে আনলা যেন ও কোনো মহাপ্রতিভাধর শিশু৷'   

অলংকরণ: মুবতাসিম আলভী

'ও কিন্তু আসলেই অনেক স্মার্ট।' আমি আত্মপক্ষ সমর্থনের ভঙ্গিতে আস্তে বললাম।  'জীবনরে দেখার ওর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে। আমাদের প্রাপ্তবয়স্কদের চাইতে আলাদা সেই ভঙ্গি।' 

'আচ্ছা, বুঝছি। তাইলে তো ভালই। -টড দ্রুত বললো, 'এবার বলো, আমারে গল্পটা তুমি লিখে দিবা? নাকি না? 

তো, আমার জন্যে ভাড়া করা ইজরায়েলী কনসুলেটের পাঁচ-তারকা-সদৃশ তিন তারকা হোটেলের একটা কাঠের মতো দেখতে কিন্তু আসলে প্লাস্টিকের ডেস্কে বইসা আছি, টডের জন্যে গল্পটা লেখার চেষ্টা করতেছি। খুব আবেগী কিছু খুঁজে বের করতে হিমশিম খাইতেছি যা মেয়েদেরকে লাফ দিয়া টডের বিছনায় উঠায়ে দেবে। আমি অবশ্য বুঝতেছি না টড নিজে মেয়ে খুঁজে নিতেছে না কেন?    

সে দেখতে ভালো, আকর্ষণীয় একজন পুরুষ। ছোট শহরের দামি রেস্তোরার কোনো সুন্দরী ওয়েট্রেসরে ঘায়েল করে বাসায় নিয়া যাওয়া তার জন্যে ওয়ান-টুর ব্যাপার হওয়ার কথা। হয়তো এইটা তার প্রবলেম, নারীদের প্রতি যথেষ্ট লয়ালটি প্রকাশ পায় না তার আচরণে। রোম্যান্টিকতার দিক দিয়া বলতেছি। কারণ জ্বলন্ত বাড়ি বা ডুবন্ত জাহাজের ক্ষেত্রে, আগেই বলছি, টডের প্রতি আপনি পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন। হয়তো আমার গল্পটা এমনভাবে লেখা উচিত যাতে মেয়েরা টডকে লয়্যাল ভাবে। অথবা উল্টাও হইতে পারে: এমন একটা গল্প যা সমস্ত পাঠিকাদের কাছে পরিষ্কার বুঝায়ে দেবে যে লয়্যালটি আর নির্ভরশীলতা ওভাররেটেড জিনিস, বুঝায়ে দেবে যে তোমার হৃদয় যা বলে তা ভালো। ভবিষ্যৎ নিয়া হুদাই দুশ্চিন্তা কইরা লাভ নাই। তোমার হৃদয়কে ফলো করবা, টডের বাচ্চা গর্ভে ধারণ করবা, যতদিনে টড হয়তো বহুদূরে চইলা গেছে, হয়তো আয়োজন করতেছে মঙ্গলগ্রহে নাসার স্পন্সর করা কোনো কবিতা পাঠের আসর। পাচ বছর পরে, টিভিতে লাইভ দেখাবে যে সেই ইভেন্ট টড উৎসর্গ করছে তোমারে আর সিলভিয়া পাথরে। লিভিং রুমের সেই টিভি স্ক্রিন দেখায়ে তুমি হয়তো বলবা, 'স্পেসস্যুট পরা লোকটাকে দেখতেছো, টড জুনিয়র? উনি তোমার বাবা।'

অথবা এই গল্প আমার হয়তো লেখা উচিত। এমন এক নারীর গল্প যার সাথে টডের মতো একজনের দেখা হয়; যে টড আকর্ষণীয়, অনন্ত প্রেমের প্রেমিক ও অন্যান্য সব বা*ছাল যা ফাকবয়দের ব্যাপারে সারা দুনিয়া বিশ্বাস করে সবই তার আছে। টড তারে ব্যাখ্যা কইরা বিবর্তন বোঝায়, কেন নারীরা একগামী হয়া উঠছে কারণ তারা তাদের সন্তান-সন্ততিরে রক্ষা করতে চায় আর কেন পুরুষরা বহুগামী কারণ তারা চায় যতবেশি নারীর গর্ভে তার জৈব সত্ত্বার বীজ ছড়ায়ে যায় এবং এই ব্যাপারে আসলে তেমন কিছু করার নাই। এইটাই প্রকৃতির নিয়ম। যেকোনো রক্ষনশীল প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বা 'কেমনে আপনার হাজবেন্ডরে ধরে রাখবেন'-মার্কা একটা আর্টিকেলের চাইতে এই নিয়ম শক্তিশালী।

'তোমারে বর্তমানে, এই মুহূর্তে, বাঁচতে হবে।' গল্পের লোকটা বলবে। তারপর সে ওই নারীর সাথে শোবে এবং একসময় সেই নারীর হৃদয় ভাঙবে। নারীরা যেকোনো মুহূর্তে  ছুড়ে ফালায়ে দিতে পারে এমন সস্তা পুরুষদের মতো আচরণ তার হবে না। তার আচরণ হবে টডের মতো। অর্থাৎ সে জীবনে যতই বাঁশ খাক না কেন, তারপরেও সে দয়ালু, মার্জিত ভদ্র এবং ভয়াবহ আবেগী। আর চমকপ্রদ তো বটেই। এই কারণেই  টডরে সেই নারীর ছাইড়া যাওয়া আরও কষ্টসাধ্য হবে। কিন্তু, শেষপর্যন্ত সে উপলব্ধি করবে যে 'তবুও সম্পর্কটা মূল্যবান' ছিলো। কঠিন কাজ হইতেছে এই 'তবুও সম্পর্কটা মূল্যবান' অংশটা। বাকি অংশগুলা মেলানো আমার জন্যে ওয়্যারলেস ইন্টারনেটে মোবাইল সংযোগের মতো সহজ। কিন্তু 'তবুও সম্পর্কটা মূল্যবান' অংশটা জটিল। ঠিক কিভাবে টডের সাথে গল্পের নারীর অপ্রত্যাশিত দেখা হবে এবং দুজনে পালাবে আবার শেষে কিভাবে টড চলে যাওয়ার পরে এই নারী গভীর দুঃখবোধের সাথে এই চিন্তাশীল উপলব্ধি করবে?  

'ঘুম ভেঙে সে দেখলো, টড চলে গেছে,'- টড পেইজ থেকে পড়া শুরু করলো - 'তবে তার শরীরের গন্ধ রয়ে গেছে, শিশুর চোখের জলের মতো সেই গন্ধ।'

পড়া থামাইয়া হঠাৎ আমার দিকে হতাশ চোখে তাকাইলো টড, 'এইটা কী বা*? আমার ঘামে গন্ধ হয় না। ধূর বা*! আমার তো ঘামই হয় না। আমি একটা ডিওডোরান্ট কিনছি যেইটা চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে, আর খালি বগলে না, আমি সারা গায়ে স্প্রে করি, এমনকি হাতে পর্যন্ত। তাও দিনে  অন্তত দুইবার। এই রকম গল্প পড়লে কোনো মেয়ে আর আমার সাথে যাইতে রাজি হবে না!' 

'শেষ পর্যন্ত পড়ো আগে'- আমি বলি, 'গল্পটা ভালো। লিখে শেষ করার সময়, আমি নিজেও কানছি।'  

'তোমার জন্যে ভালো। খুব ভালো। আমি লাস্ট কবে কানছি জানো? আমার মাউন্টেন বাইক থেকে পইড়া যখন মাথা ফাটাইছি আর মাথায় বিশটা সেলাই লাগছে তখন। এইটারে বলে কষ্ট।  তার উপরে আমার মেডিকেল ইন্সুরেন্সও ছিল না, তাই তারা যখন আমারে সেলাই করতেছিলো, আমি না পারছি চিল্লাইতে, না পারছি বাকি সবার মতো দু:খ করতে। কারণ আমার মাথায় তখন চিন্তা, টাকা কই পাবো? ওইদিন লাস্ট কানছিলাম। আর বিষয় হইলো, তুমি যেহেতু কানছো, গল্পটা নিশ্চয়ই মর্মস্পর্শী। কিন্তু তা আমার নারী বিষয়ক সমস্যা সমাধানে তো কোনো কাজে আসতেছে না।'

'আমি একটা কথাই বলতে চাইতছি যে গল্পটা ভাল।' আমি বলি- 'গল্পটা লিখতে পেরে ভাল্লাগছে।'  

'কেউ তোমারে ভাল গল্প লিখতে বলে নাই।- টড বিরক্ত হয়া বললো। 'তোমারে বলছি আমারে হেল্পাবে এমন একটা গল্প লিখতে। যা তোমার বন্ধুরে একটা কঠিন সমস্যার সমাধান দেবে। অনেকটা এমন যে, আমি তোমারে বলছি রক্ত দিয়া আমার জীবন বাঁচাইতে আর তার বদলে তুমি লিখছো একটা ভালো গল্প। সেই গল্প আমার ফিউনারালে পইড়া খুব কানতেছো।'

'তুমি মারা যাও নাই। তাছাড়া শিগগির মারাও যাইতেছো না তুমি।', আমি বলি।  

'মারা যাইতেছি। হ্যাঁ আমি মারাই যাইতেছি। আমি একলা আর আমার জন্যে একলা থাকা মইরা যাওয়ার মতোই। এইটা কি তুমি বোঝো না? কিন্ডারগার্টেনে পড়া চালাক চালাক কথা বলা কোনো বাচ্চা আমার নাই যার কথা সুন্দরী স্ত্রীর সাথে আমি শেয়ার করতে পারি। আর এই গল্পটা? সারা রাত আমি ঘুমাই নাই। বিছনায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি: এই তো হয়ে আসতেছে, আমার ইজরায়েলি লেখক বন্ধু জীবনের দিশা দেখাইতে যাইতেছে। আমারে এখন থেকে আর একলা থাকতে হবে না। আর এই মধুর ভাবনা যখন ভাবতেছি তখন তুমি লিখতেছো একটা ভালো গল্প!'   

একটা সংক্ষিপ্ত নীরবতার শেষে আমি টডরে বলি, আমি স্যরি। ছোট্ট এই নিরবতা আমার ভেতরের দুঃখবোধকে জাগায়। টড মাথা নাড়ে। বলে যে আমার গল্পে ঘামের গন্ধ আনা ঠিক হয় নাই। বলে সে নিজেও একটু বেশি বিচলিত হয়া পড়ছিলো। ভুলটা তারই। তার উচিত হয় নাই এরকম গল্প লিখতে বলার মতো হাস্যকর বোকামি করা। বলে, সে আসলে একটু ডেসপারেট হয়া গেছিলো। 'কিছু সময়ের জন্যে আমি ভুলে গেছিলাম, গল্প লিখতে তোমার মেটাফোর প্রয়োজন, প্রজ্ঞাসহ আরও কতকিছু লাগে। আমার কল্পনায়, মনে হইছিলো খুব সহজ কিছু, মজার কিছু। কোনো মাস্টারপিস না। হালকা কিছু। যা শুরু হবে এইভাবে 'আমার বন্ধু টড আমারে এমন একটা গল্প লিখতে বললো যা তারে বিছনায় মেয়ে আইনা দেবে।' আর শেষ হবে কোনো কুল পোস্টমডার্ন কায়দায়। অর্থহীন একটা গল্প, তবে যেন তেন  অর্থহীন না। সেক্সি অর্থহীন। রহস্যময়।'  

'আমি পারবো,' এক মুহূর্ত  থাইমা আমি তারে বলি। 'তোমার জন্যে এইরকম গল্পও আমি লিখতে পারবো।'   

[এটগার কেরেট: ইসরায়েলী লেখক। চমকপ্রদ, উদ্ভট, ম্যাজিক্যাল,,সুক্ষ্মরস ও গভীর জীবনবোধের গল্প লেখক হিসবে বিখ্যাত]

১৯২ পঠিত ... ০০:২৩, জুন ০৩, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top