জরাসন্ধ'র রম্যগল্প 'ক্ষতিপূরণ'

২৭৬ পঠিত ... ১৩:৫৫, জুলাই ২৩, ২০১৯

দিনকাল বদলে গেছে। পুলিশকেও ‘জনপ্রিয়’ হবার চেষ্টা করতে হয়। পাড়ার তিন-চারজন গণ্যমান্য ভদ্রলোককে থানায় ঢুকতে দেখে ওসি উঠে দাঁড়িয়ে চোখে মুখে একটি মোলায়েম হাসির প্রলেপ মাখিয়ে বললেন, ‘আসুন, আসুন। কী খবর?’

গণ্যমান্যরা গম্ভীর। মিনিট দুই নীরবে কেটে যাবার পর সকলের আগে মুখ খুললেন বোস মশাই, ‘মদনটা ছাড়া পেয়েছে দেখলাম।‘  

ওসি হাসলেন, 'আজ্ঞে, জেল তো আর কাউকে বরাবরের জন্যে আটকে রাখে না।'


ভট্টাচার্য মশাই বললেন, ‘কিন্তু আমাদের তো ঘুমটুম বন্ধ। কখন কার বাড়িতে ঢোকে।‘
দারোগা ভরসা দিলেন, ‘অতো ভয় পাবার কী আছে? আমরা তো আছি।‘  

ওরা বিশেষ আশ্বস্থ হলেন বলে মনে হল না। হালদার মশাই মন্তব্য করলেন, ‘সাপের সঙ্গে এক বাড়িতে বাস করা যায়, কিন্তু দাগী চোরের সঙ্গে এক পাড়ায় থাকা যায় না।‘

দারোগা জানতে চাইলেন, ‘কী করতে চান তাহলে?’

সেটা তিনি নিজেও জানেন না। তাই নিয়েই কিছুক্ষণ পরামর্শ হল। গণ্যমান্যরা বাড়ি ফিরলেন।

দিন কয়েক পরে পাড়ায় কার গোয়াল থেকে গরু চুরি মামলায় মদনাকে হাজতে পুরে দেওয়া হল। সাক্ষীরা সবাই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। কেউ বললেন, রাত দশটায় তাঁকে ঘটনাস্থলে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। কেউ বললেন, দুদিন আগে কার কাছে খোঁজ নিচ্ছিল গরুটা কত দুধ দেয়। মোক্ষম সাক্ষ্য দিলেন ভট্টাচার্য মশায়। রাস্তায় ঘনঘন হাম্বারব শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলেন মদনা একটা গরুর দড়ি ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হ্যা, গরু তাঁর চেনা।

ছমাসের জেল হলো মদনার। সবাই নিশ্চিন্ত।

জেলের নিয়মমত মেয়াদ থেকে কিছুটা মাপ পেয়ে মাস পাঁচেক পরেই সে বেরিয়ে এলো।

সে ওসি বদলি হয়ে গেছেন। নতুন যিনি এসেছেন তাঁর সঙ্গে এখনো পাড়ার লোকের তেমন জানাশুনা বোঝাপড়া হয়নি। হঠাৎ একদিন রাত-দুপুরে ‘চোর চোর’ বলে চেঁচিয়ে উঠলেন ভট্টাচায্যি গিন্নী। কর্তা ধড়মড় করে উঠে পড়ে দেখলেন ওদিকের দরজাটা খোলা। তিনটে লোক বেরিয়ে যাচ্ছে জিনিসপত্তর নিয়ে। সকলের পিছনে মদনা। মাথায় মস্ত বড় একটা ট্রাঙ্ক।

ভট্টাচায্যি মশাই চেঁচাতে গেলেন, গলার স্বর ফুটল না। মদনা যেতে যেতে একবার থামল। আপশোসের স্বরে বললো, ‘সেবার আপনার বড্ড ক্ষেতি হয়ে গেল ঠাকুর মশাই। মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে এসে প্রাচিত্তির করতে অনেকগুলো টাকা বেরিয়ে গেলো। এবার আর কিছু লাগবে না। সত্যি কথাই বলবেন।‘

[লেখাটি কুমারেশ ঘোষ প্রবর্তিত রঙ্গ ব্যঙ্গ পত্রিকা যষ্টিমধুর ‘ভাদ্র, ১৩৭৯ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বর্তমান লেখাটি কুমারেশ সম্পাদিত বই ‘যষ্টিমধু নির্বাচিত সংকলন’ থেকে প্রকাশিত।]      

২৭৬ পঠিত ... ১৩:৫৫, জুলাই ২৩, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top