কাজাখস্তানের পথে পথে

৩০১ পঠিত ... ১৫:৩৪, জানুয়ারি ১৫, ২০২২

kazakhsthan-

কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহর আলমাতির সিটি হল আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছিলো। কাজাখ অর্থনীতির রূপকার নূর সুলতান নাজারবায়েভের ভাস্কর্য ভাঙছিলো বিক্ষোভকারীরা। তাদের বিক্ষোভ নাজারবায়েভের পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে কাজাখস্তান। তার পরিবারের সদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতির সব কটি খাত। নাজারবায়েভ সংসদ থেকে রাজনীতিকদের বিদায় করে সেখানে ব্যবসায়ীদের বুলবুলি আখড়াই বসিয়েছেন এই অভিযোগ সবার মুখে মুখে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, 'টেকাটুকা ফার্স্ট' এই শ্লোগান দিয়ে নাজারবায়েভ কাজাখস্থানের মানুষের বাক-স্বাধীনতা, মানবাধিকার, শিক্ষা-সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক অধিকার সব কেড়ে নিয়েছেন। রাশিয়ার কট্টর শাসক পুতিনের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছেন তিনি, এ অভিযোগ লোকের মুখে মুখে। ২০১৯ সালে নাজারবায়েভ তার টুকিয়ে আনা কাসিম টোকায়েভকে সরকার প্রধান করে, নিজে রয়ে যান পাপেট মাস্টার হিসেবে।

জানুয়ারীর দুই তারিখে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ফুঁসে ওঠে কাজাখস্তানের মানুষ। সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয় আলমাতি নগরী, উন্মত্ত হয় পশ্চিমের শহর ঝানাওযেন। কাজাখ জ্বালানী মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তেলের দাম নির্ধারিত হয়েছে। তেল-অর্থনীতির সমৃদ্ধ এই দেশে এসব গাল-গল্প সাধারণ মানুষ আর বিশ্বাস করে না। মাইনাস তাপমাত্রার প্রবল শীত উপেক্ষা করে জনতা পথে নামে। শুরু হয় গণগ্রেফতার। প্রায় বারো হাজার মানুষকে টেনে হিঁচড়ে পিক আপে তুলে নিয়ে যায় এলিট ফোর্স আর সাদা পোশাকের পুলিশেরা। খোলা হয় ডিটেনশান সেন্টার। আইনজীবী নিয়োগ বা কোন রকম আইনি সুবিধা পায়নি গ্রেফতার কৃতরা। গুম হওয়া অথবা কথিত ক্রসফায়ারের শিকার নিহত জনতার লাশ খুঁজতে আত্মীয়-স্বজন ভীড় জমায় শহরের মর্গগুলোতে।

জাতীয় নেতা নূর সুলতান নাজার বায়েভের টোকাইয়া আনা পুতুল প্রেসিডেন্ট, কাসিম টোকায়েভ বলেন, বিদেশের মাটিতে বসে কাজাখাস্তানের উন্নয়নের সরকার পতনের 'যন্ত্র ঐ একটাই ষড়যন্ত্র'  চলছে। বিদেশ থেকে টাকা এনে গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দেয়া আমার সরকার পতনের চেষ্টা চলছে।

রাশিয়ার লৌহমানব পুতিন ঘোষণা করেন, কাজাখস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক রক্তের আখরে লেখা। আমরা নূর সুলতানের টোকাইয়া আনা টোকায়েভের পাশেই আছি।

রাশিয়া সেনা প্রেরণ করে কাজাখস্তানের এলিট ফোর্সকে ডিটেনশন সেন্টার চালানো ও জননির্যাতনের শিল্পকলার প্রশিক্ষণ দিতে থাকে।  

এরকম মানবাধিকারহরণের কুরুক্ষেত্রে ভাই পলায়নে যায়, বোন তার বাসনা হারায়। অথচ নূর  সুলতানের  সাইবার যোদ্ধা ওরফে সাইবদরেরা অভিযোগ তোলে, প্রাণের নেতা নূর সুলতানের মূর্তি ভেঙেছে যারা, তারা কাজাখস্তানের পরাজিত শক্তি। উন্নয়নকে হিংসা করে এরা। আর এদের উস্কানি দিচ্ছে সুশীলেরা। ভোটে দাঁড়াইলে যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়, তারা অন্ধকারের পথ ধরে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেছে। ছাগু কুনহানকার। আপনার পোগোতিচিলতার পক্ষে থাকুন, দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিন।

কাজাখ সরকার দেশের বাইরে বসে কাজাখস্তানের উন্নয়নের সরকারের সমালোচনা করলে অনাবাসী কাজাখদের পাসপোর্ট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। কাজাখ সরকারের সাইবার যোদ্ধারা ফেসবুকে ঘুরে ঘুরে উন্নয়নের শত্রু চিহ্নিত করছে। তাদের দেয়া তথ্যের যাচাই বাছাই চলছে। কাজাখ সরকারের এ ঘোষণায় অনাবাসী কাজাখদের মাঝে কিছুটা খুশির আমেজ। এতে তাদের পশ্চিমা পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেলো এই অনুপ্রেরণায় সরকার সমালোচনার মাত্রা বেড়ে গেছে। অনাবাসীদের দাবী, কয়েকজন ইউটিউবারকে এতো গোণার দরকার কী। কাজাখস্তানের উন্নয়নের মিডিয়া তো সারাক্ষণ সরকার সমর্থনে টকশো করছে। এগুলো দর্শক পায় না, সেই দোষ কী অনাবাসীদের।

কাজাখস্তানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার দায়ে প্রতিদিনই কাজাখ নাগরিকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বাসায় বাসায় যাচ্ছে কাজাখ পুলিশ,আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে সাদা কাগজে মুচলেকা নিতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এরা গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী হয়েছে, অথচ বহির্বিশ্বে তেল-অর্থনীতির উদীয়মান দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে পরাজিত শক্তির দোসরেরা।

কাসিম টোকায়েভ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন, পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলো কাজাখিস্তানের স্বাধীনতার শত্রুদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট লিখছে। এরকম সংস্থা থাকা ভালো, কিন্তু তা যখন 'যন্ত্র ঐ একটাই ষড়যন্ত্রে' লিপ্ত হয়, তখন গ্রহণযোগ্যতা হারায়। মনে রাখা দরকার, গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছি আমরা, রক্ত আরো দেবো, কিন্তু দেশকে কিছুতেই স্বাধীনতার শত্রুদের হাতে যেতে দেবো না। জ্বালানী তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনার পরেও যারা রাজপথে দেশের ক্ষতি করছে, তারা কেন চুলকায়, আমি তাহা জানি।

৩০১ পঠিত ... ১৫:৩৪, জানুয়ারি ১৫, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top