যে কারণে বসুন্ধরার কারও কোনো দোষ নাই

২৮০২ পঠিত ... ১২:১১, এপ্রিল ২৮, ২০২১

BN

মানুষ অন্যের সাফল্যে ঈর্ষা করে। এটাই জগতের নিয়ম। এই যে বসুন্ধরা গ্রুপ, দেশের 'শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান'— নিউজফিড ভর্তি এখন এদের হেটার। আপনি কি জানেন এই ঘৃণার কারণ কী?

ওদের টাকা আছে, আপনার টাকা নাই। ওদের নামে টয়লেট পেপার আছে, আপনার নামে নাই। এটাই মেইন কথা। আবার হতে পারে আপনি বসুন্ধরা গ্রুপে চাকরির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু চাকরিটা হয় নাই। তাই এখন কোম্পানি ও কোম্পানির লোকের নামে কুৎসা রটাচ্ছেন।

একই কারণে মানুষ 'বসুন্ধরা' গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আলম ও তার চার নিষ্পাপ পুত্রের গায়ে কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে। এটা যে এবারই প্রথম, এমন না।

২০০৬ সালে 'হুমায়ূন কবির সাব্বির' নামে বসুন্ধরা টেলিকমিউনিকেশন্সের পরিচালককে আর্থিক লেনদেনজনিত কারণে হত্যার অভিযোগ আসে শাহ আলমের দ্বিতীয় (সম্ভবত) ছেলে 'সাফিয়াত সোবহান সানভীর' এর বিরুদ্ধে। কাঁচের বোতলের ভাঙা অংশ মাথার পেছনে ঢুকিয়ে মেরে ফেলা হয় সাব্বিরকে। এরপর গুলশানের ১০৪ নম্বর সড়কে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ৩/জি নম্বর বাসার ছাদ থেকে সাব্বিরকে ফেলে দেওয়া হয়।
সানভীর কাউকে মারতে পারে, এই কথা নিঃসন্দেহে মিথ্যা, বিশ্বাস করা অসম্ভব। তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তাকে দেশ থেকে পালাতে সহায়তা করেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিলো তিনি ২১ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে এই মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

আমি হলে ফ্রি'তেই ধামাচাপা দিয়ে দিতাম। নিরপরাধীর জন্য টাকা চাইবো কেনো? আশ্চর্য ব্যাপার!

সাব্বির নিহত হওয়ার দিন গুলশানের ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন 'পাপিয়া' ও 'রাত্রি' নামের দুই যৌনকর্মী। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছিলেন, সানভীর তাদের সামনেই সাব্বিরকে মেরে মেঝেতে ফেলে দেন। পরে তারা বেরিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির সামনে সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখেন।

'পতিতা' দেখে ভ্রু কুঁচকানোর কিছু নাই। অসহায়, দুঃখীকে সাহায্য করতে আপনার ভালো না লাগতেই পারে, সানভীরের ভালো লাগে!
পরে অবশ্য সাক্ষ্য প্রদানের জন্য 'রাত্রি' বা 'পাপিয়া' কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় নি। বেকসুর খালাস পেয়ে যায় সানভীরসহ বাকি অভিযুক্তরা।

২০০৭ সালের অক্টোবরে, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম, তার স্ত্রী আফরোজা বেগম, এবং চার ছেলের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে আট বছর জেলের আদেশ দেয় আদালত। কিন্তু নয় সদস্যের কমিটির কাছে প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বুঝিয়ে পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান শাহ আলম। কমিটি চলাকালীন সময় কর ফাঁকির ক্ষতিপূরণ হিসেবে তখন সরকারকে ২২০ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়।

এগুলো উইকিপিডিয়ার কথা। কিন্তু উইকিপিডিয়া যেহেতু মানুষই লিখে, আমার ধারণা এগুলো বানানো। ফ্যাব্রিকেটেড বলা যায়।

এখন আবার আরেক তামাশা নিয়ে মেতে আছে মানুষ। সানভীরের ভাই ৪২ বছর বয়সী সায়েম সোবহান আনভীর নাকি কলেজ পড়ুয়া প্রেমিকার আত্মহত্যায় নাকি প্ররোচনা দিয়েছেন। গুলশানে এক লাখ এগারো হাজার টাকায় মেয়েটিকে ভাড়া নিয়ে দিয়েছিলেন দানবীর আনভীর। বউ বাচ্চার বাইরে সামান্য এক কলেজ বালিকার প্রতি স্নেহ-মায়া-মমতা আপনাদের কয়জনেরই বা আছে!

বরং দোষ দিন মেয়েটিকে, যে কুয়া থেকে বের হয়ে সমুদ্র দেখে ঝাপ দিয়েছে।

আমার বিশ্বাস, মেয়েটি আসলেই ৫০ লাখ টাকা চুরি করেছে। আত্মহত্যা করেছে যাতে ঐপারে বসে ৫০ লাখ টাকা ভালোভাবে একা একা উপভোগ করতে পারে।

হাহাহা...

২৮০২ পঠিত ... ১২:১১, এপ্রিল ২৮, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top