হরতালে উলুম শোকরানা কোচিং সেন্টার

৬৬৬ পঠিত ... ১৫:২০, মার্চ ২৮, ২০২১

Hortale ulum-min

অনেকদিন হলো হরতাল কালচারের দেখা নেই। কিন্তু হরতাল কার্যক্রম ফিরে এসেছে। নতুন হরতাল করিয়েরা জানে না; হরতাল আবার কী জিনিস; কী করে করতে হয়। মোদি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন; সেরকম সত্যাগ্রহ আন্দোলনের অংশ নাকি! নাকি পশ্চিমবঙ্গের বানধের মতো!

নয়া হরতালকারীরা তাদের তালেব-এলেম কমিটির নির্দেশনায় দলে দলে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয় 'হরতালে উলুম শোকরানা কোচিং সেন্টার' এ।

'মূল্যায়ন হলো না লীগ'দা সেখানে অভিজ্ঞ হেডমাস্টার। আরো আছেন যুগ্ম প্রধানশিক্ষক 'অতিয়তাবাদী দল ভাইয়া'। এ দুজনই একসঙ্গে বসে "হরতালের স্মৃতিকথা ও বাঘমারার স্মৃতিচারণ' করেন। আর ছাত্ররা তা শোনে টান টান উত্তেজনা নিয়ে। কেসস্টাডি ভিত্তিক কোচিং। কুইজ নয়; কম্প্রিহেনসিভ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয় ছাত্রদের।

মূল্যায়ন হলো না লীগদা বলেন, হরতালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে কস্টিউম। আর্মি-পুলিশ-বিজিবি-এলিটফোর্স কত সুন্দর সুন্দর পোশাক পরে। তাই তোমরা চেষ্টা করো এর কাছাকাছি মানের ইউনিফর্ম জোগাড় করতে।

অতিয়তাবাদী ভাইয়া বলেন, চাইলে আমাদের নীচের 'হরতাল জেনারেল স্টোর' থেকে প্যাকেজ পোশাক তোমরা স্বল্পমূল্যে কিনতে পারো।

কথা কেড়ে নেন মূল্যায়নদা, তিনটা জিনিস মাথায় রাখবা; জেন্টল পার্ক আন্ডারওয়ার, হেলমেট আর স্নিকার্স বা কেডস; খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অতিয়তাবাদী ভাইয়া বলেন, তুমি চাইলে তোমার পাতলুনের ওপর জেন্টলপার্ক আন্ডারওয়ার পরে হরতালের সুপারম্যান হতে পারো। এই চাড্ডি হইতেছে সাফল্যের প্রতীক। শৌর্য-বীর্যের প্রতীক। রাজপথের বাহুবলীর স্বচ্ছন্দ অন্তর্বাস।

যেমন ছিলেন মূল্যায়নদা। মাজেদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে হরতালে যিনি একাই একশোটি রিক্সার টায়ার পাংচার করে দিয়ে; একশোটি পরিবারের অনাহার নিশ্চিত করেছিলেন। তাই আজ মূল্যায়ন হলো না লীগের অনাহারি সাধুদের দলের আহবায়ক তিনি।

মূল্যায়নদা বলেন, শুধু হাওয়া ছাড়তেই শিখেছিলাম; হাওয়া দিয়ে দলেশ্বরের মূর্তি ফোলাতে শিখিনি। তাই তো দলেশ্বরের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলাম না। কী হলো এই রাজপথের হাওয়াবলী হয়ে।

অতিয়তাবাদী ভাইয়া বলেন, হরতালে দাদারাই শ্রেষ্ঠ; আমরা চিতা জ্বালাইতে পারি বেটার। আমগো আগুনেশ্বর অগ্নি দেবতার পূজক। আমরা তাই হাওয়া দিয়ে আগুন জ্বালানোর কাজটা শিখেছিলাম। কিন্তু দমকল বাহিনী কাজে দক্ষ হওয়ায়; এ পেশায় তেমন পসার হলো না।

মূল্যায়নদা বলেন, হরতালে অফিসগামী মানুষকে দিগম্বর করেছিলাম দোয়েল চত্বরে তিন নেতার মাজারের সামনে। সেই পাপেই সেইদিন জেন্টল পার্ক চাড্ডি পইরাও শেষ রক্ষা হয়নি; প্যান্ট খুইলা পড়ছে আমগো

দলের পোলাডার। কী বেইজ্জতি হইলো পোলাডা। অরে দেইখা সবাই মেল স্ট্রিপার ভাবছে। তাই বেল্ট ইজ আ মাস্ট। আর ভূড়িতে বেশি চর্বি জমাবানা। শোকরানা মেহেফিলের ফান্ডে বিরিয়ানি খাওয়া কমাও। দেখোনা জেন্টল পার্ক চাড্ডি পইরা; হাতে মোদির ব্যান্ড পইরা ঘুষাইতেছিলো যে বাহুবলী; তার তলপেটটা হইছে চিতল মাছের পেডির লাহান। ফিটনেস খুব জরুরী। তোমরা তাজ ভাইয়ার ফিটনেস সেন্টারে ভর্তি হওনা কেন।

অতিয়তাবাদী ভাইয়া বলেন, এখন এই হরতাল পেশার মাঝ দিয়ে একজন ফুটসোলজার থেকে জেন্টলপার্ক আন্ডারওয়ার পরা আধা মিলিশিয়া হইতে পারলে, এইবার যেমন মোদির গার্ড রেজিমেন্টে ডাক পাইলো সোনার ছেলেরা; তোমরাও ডাক পাইবা এরদোয়ানের গার্ড রেজিমেন্টে। যে যার আদর্শের প্রফেশনাল সৈনিক হইয়া; আরামে থাকবা; খাইবা, ঘুমাইবা, বাচ্চা উতপাদন করবা; তারপর মইরা যাইবা। দুনিয়াটা মস্ত বড় খাও-দাও ফূর্তি করো।

মাদ্রাসা প্রকাশিত একটা 'হরতালে প্রস্তুতিতে কী করিতে হইবে' শীর্ষক লিফলেট ছাত্রদের কাছে ফরোয়ার্ড করে দেয়া হয় নয়াহরতালকারীদের হোয়াটস অ্যাপে। সবাই ডাউনলোড করলে, দাদা ও ভাইয়া তাদের সেন্ড মেসেজ ডিলিট করেন।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে বাস যাত্রী পোড়ানো হয়ে লগি বৈঠা, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে পোড়ামাটির রাজনীতি, গ্রেনেড এটাক; কত অভিজ্ঞতা ঝুলিতে; টিকটিকিরা কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি।

তাই 'চোখের বদলে চোখ এর' চরদখলের লড়াইয়ের দুই বিপ্রতীপ অভিজ্ঞ কমান্ডার যে কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন; সেখানে ছাত্র তো হবেই।

মূল্যায়নদা কোচিং সেন্টার চালিয়ে আছেন বেশ সুখে; তবুও থালাইভার
রঙ্গভবনের জেয়াফত না পেয়ে ভারাক্রান্ত। তাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, দলের ফুটসোলজার না হয়ে; পুলিশ-আর্মি-বিজিবি-এলিট ফোর্স থেকে; মোদি-এরদোয়ানের শান্তি মিশনে চাকরি; কোনটাই পাবার আবার জো নেই। এর মধ্যে আবার স্পিড মানির লেনদেনের ব্যাপার আছে। সুতরাং এখনি শোকরানা মেহেফিলের চেক-খাসজমি বা চাঁদা তোলার ম্যান্ডেট; যার যা আছে তাই দিয়ে; দরকার হলে ফুটপাথের ক্ষুদে দোকানির কাছে ঘন্টা হিসেবে জমা দিয়ে টেকাটুকা জমাও; মাজারে খামে কিছু টেকাটুকা পাওয়া আর কিছু টেকা ইনভেস্ট কইরা ভর্তি পরীক্ষা দেও; তখন রাষ্ট্রের ইউনিফর্ম পাইবা। লাইসেন্স টু এভরিথিং দ্যাট তুমি কল্পনা করতে পারো।

অতিয়তাবাদী ভাই মূল্যায়নদাকে স্মরণ করিয়ে দেন তাদের সাইড বিজনেসের কথা। তারপর দুজন মিলে আর্মিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সিদ্দিকিজ কোচিং সেন্টার আর পুলিশের ভর্তি পরীক্ষার জন্য নজিরবিহীন কোচিং সেন্টারে ভর্তির অনুরোধ রাখেন। যুগটাই প্রফেশনালিজমের।

মূল্যায়নদা, ভিপিএন দিয়ে ফেসবুক খুলে হরতাল প্রচারণা চালানোর জন্য কৌশল রপ্ত করতে ভূপেনের "আমি এক যাযাবর" গানটা বার বার শুনতে বলেন। কারণ ভিপিএন-এ আইপি এড্রেস বদলে সুটযারল্যান্ড থেকে উগান্ডা করে নিতে হয়। কিংবা উত্তর কোরিয়া থেকে চীন করে নিতে হয়। ভিপিএন-এর এই ভার্চুয়াল একনায়কতন্ত্র হচ্ছে ফেসবুক জব্বারের বলি খেলার মতো আনন্দের কাজ।

অতিয়তাবাদী ভাইয়া জিজ্ঞেস করেন, মোদি তো চলেই গেলো; এখন আর হরতাল কেন।

এক ছাত্র উত্তর দেয়, সাতক্ষীরায় উনি যে সাত রকমের ক্ষীর উপহার দিয়েছেন; ঐ খির আমরা সবাই খেয়েছি। এটা মোদি নেশার মদিরার মতো খির। পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার নির্বাচনের ফলাফলে গেরুয়া বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই "জেন্টল পার্ক পুতুল খির ডান্সের'-র শেষ নেই।

মূল্যায়নদা বলেন, এইজন্য নৈশভোট আমি পছন্দ করি। বিজয় উদযাপনে লুঙ্গি ডান্স করো আর গণতন্ত্রের সঙ্গে 'এমনো রাত যেন যায়না বৃথাই' মধুচন্দ্রিমা উপভোগ করো। হিসাব করে দেখবেন মানুষ হত্যার-ধর্ষণের-ভাংচুরের সংখ্যা কম হয়। ভোট হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে আর লাশ পড়ছে বাংলাদেশে; এসব ইলেকশন কালচার ভালো নয়। আল্লার ভীতি শাল্লায় তো গোমাতার ভীতি শিয়ালদায়-এ কেমন লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ! তাই বলি, রাতের ভোট, নির্বাচন কমিশনের ঠোঁট, আর শোকরানা মেহেফিল জোট; এই তিনটা স্তম্ভ র‍্যাম্বো জিয়ার ডিফিকাল্ট পলিটিক্যাল সংবিধানে প্রচলিত হয়েছে। ফাদার অফ ডিফিকাল্ট পলিটিক্স থেকে আজকের যে ক্রোকোডাইল'স মেন ফার্ম পলিটিক্স তৈরি হয়েছে; সেটাতে ফাদার-মাদার-চিলড্রেন হিউম্যানিটি অনেক বেশি।

৬৬৬ পঠিত ... ১৫:২০, মার্চ ২৮, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top