ওয়ার ইন টকশো সিজন টু: একটি বিশ্লেষণমূলক রিভিউ

৮১৪ পঠিত ... ১৭:৩৭, জানুয়ারি ০৫, ২০২১

অবশেষে মুক্তি পেলো টকশো রুম একশন জনরার অন্যতম সিরিজ ওয়ার ইন টকশো এর দ্বিতীয় সিজন। ৬ বছর আগে একাত্তর টিভির একটি লিক ভিডিও থেকে মুক্তি পাওয়া ওয়্যার ইন টকশো এর প্রথম সিজনে শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াত আইভির টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পারফর্মেন্সের পর দ্বিতীয় সিজনের জন্য দর্শক মহলে আগ্রহের পারদ উর্ধ্বমুখীই ছিলো।

ওটিটি প্লাটফর্মে আচমকা রিলিজ হওয়া দ্বিতীয় সিজনে পারফর্ম করেন ঢাকা ৩৫ আসনের সাবেক আওয়ামী সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মান্নান। শামিম ও আইভির উত্তরসূরি হিসেবে সাবিনা আক্তার তুহিন ও এমএ মান্নান নিজেদের সেরা পারফর্ম উজাড় করে দিতে একটুও কার্পণ্য করেননি। 

সঞ্চালক চরিত্রে অভিনয় করা সাইফুর সাগরের মধ্যস্ততা করার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় সিজন শুরু হয়। এরপর দৃশ্যপটে এসেই ‘তাহলে আমি চলে যাই অ্যা অ্যা অ্যা’ ডায়লগ ডেলিভারি দিয়েই চলে যেতে যান সাবিনা আক্তার তুহিন। তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন এমএ মান্নান। ‘হিজড়া’ শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়েই সিরিজটি ক্লাইমেক্সের প্রবেশ করে। বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই, এরপর আমার আর কিছু মনে নাই।

সাধারণত দারুণ কোন সিরিজের প্রথম সিজনের পর দ্বিতীয় সিজন দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনা। কিন্তু ওয়্যার ইন টকশো এর দ্বিতীয় সিজন এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। সমালোচকদের মতে পারফর্মেন্সে কিংবদন্তীতুল্য পারফর্মার শামিম ও আইভিকে ছাড়িয়ে গেছেন মান্নান ও সাবিনা। 

এই সিজনের সবচেয়ে উপভোগ্য দিক ছিলো ডায়লগ। প্রথম সিজনের তুলনায় উত্তেজনাপূর্ণ শব্দের অধিক ব্যবহার ও একটানা ডায়লগ ডেলিভারিতে পুরো সময় জুড়ে দর্শকরা একটি ঘোরের মধ্যে থাকতে বাধ্য হবে। কোন ডায়লগ কে দিচ্ছে তা বোঝা যাবেনা একদমই। কখন সিনেমা আনমিউট হয়ে যাবে বুঝতেই পারবে না। এরপর টানা এক সপ্তাহ মাথার মধ্যে বেয়াদ্দব শব্দটা বাজতে থাকবে। 

সিজন টু-তে একটি ভাইটাল রোল ছিলো সঞ্চালক চরিত্র সাইফুর সাগরের। প্রথম সিজনে অন্য পারফর্মাররা নানাভাবে শামিম ও আইভিকে শান্ত করতে চেয়েছেন, ফলে ক্লাইমেক্স জমে উঠতে উঠতে বারবার নেমে গেছে। কিন্তু এই সিজনে সাইফুর সাগরের নীরবতার কারণে দুই প্রধান দুই চরিত্রের আনস্টপেবল ডায়লগ ডেলিভারি ক্লাইমেক্সটাকে একদম জমিয়ে তুলেছে। এমন দারুণ পারফর্মেন্সের জন্য সাইফুর সাগর দর্শকদের প্রশংসা কুড়াবেন নিশ্চিতভাবে। 

সিরিজের গল্পকে বাস্তবিক করে তুলতে পরিচালক একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেক্রেড গেমসের পর এত বেশি ও বাস্তবিক শব্দবোমার ব্যবহার সম্ভবত এই সিজনেই করা হয়েছে। শব্দবোমা ব্যবহার রাখডাকও রাখা হয়নি, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিরিজের মতো বিরক্তিকর টুটটুট শব্দ নেই। সেজন্য শুধু চোখ না, এই সিরিজটি দর্শককে কানের সুখও দিবে দারুণভাবে। 

বেয়াদ্দব শব্দের ব্যবহারে পরিচালক যেমন মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তেমনি এই শব্দ ডেলিভারির মধ্যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েন সাবিনা ও মান্নান। ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমায় ফিজিক্স এর ব্যবহার, মেহজাবিনের নাটকে কান্নার ব্যবহারের মতো করে এই সিজনে বেয়াদ্দব শব্দের ব্যবহার প্রশংসা কুড়াবে অনেকদিন। সিরিজ শেষে ১ সপ্তাহ যাবত দর্শকের মাথায় বেয়াদ্দব শব্দটি ঘুরতে থাকবে।

 

৮১৪ পঠিত ... ১৭:৩৭, জানুয়ারি ০৫, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top