যেভাবে ফ্রান্স বরাবরই একটা অসভ্যদের দেশ!

৪৮৮৩ পঠিত ... ১৫:২৯, অক্টোবর ২৯, ২০২০

ফ্রান্স বরাবরই একটা অসভ্যদের দেশ। তাতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু কীভাবে? ফরাসী লোকদের অসভ্যতার কিছু নমুনা দিই দেখেন-

 

১. ফ্রান্সের যে কোন সরকারী-আধাসরকারী-বেসরকারী অফিসে সেবা নিতে যান, ঘুষ নেওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে পেয়ে যাবেন। ঘুষ যেন তাদের জাতীয় কালচার। ফরাসী জাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। অথচ, ফ্রান্সের মানুষের ফেইসবুক আইডিগুলোতে ঢুকলেই দেখবেন, পোপের জন্য তাদের কি ভালোবাসা! ভাবখানা এমন, পোপ তাদের ঘুষ খাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুমতি দিয়েছেন। ঘুষ খাওয়ার সময় ফরাসীদের ধর্মানুভূতি বড্ড নীরব থাকে। বেশী কথা উঠলে চার্চে ঘুষের টাকার কিছু অংশ দান করে দেয়। ব্যস, চারিদিকে ধন্য ধন্য পড়ে যায়। (আর লাঞ্চের পরে গেলে অফিসে ঘুষ দেওয়ার লোকও খুঁজে পাবেন না। জিগ্যেস করলেই বলবে, চার্চে গেছে প্রার্থনা করতে!)

২. ফরাসী দেশে পবিত্র রমযান মাসে ফরাসিরা সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশী বাড়িয়ে ফেলে, আর রোজাদাররা কষ্ট পান।  খ্রিস্টানদের দেশ তো, এরকম হওয়ারই কথা!

৩. ফ্রান্সে প্রতি শীতকালে প্যান্ডেল খাটিয়ে মাইক লাগিয়ে চার্চের অর্ধশিক্ষিত ফাদাররা সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম আর বিভিন্ন রীতি রেওয়াজ নিয়ে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে, নারীদের বিষোদগার করে- আর ফরাসিরা 'ঠিক ঠিক' বলে তাদের সমর্থন করে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে পাদ্রীদের অনুসারীরা চাপাতি দিয়ে কোপায়, না হলে তার ক্যারেক্টার মব অ্যাসাসিনেশন করে, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল করে তাকে সামাজিক, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু বানিয়ে ফেলে। তাই ভয়ে ইদানিং এসবের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে কেউ আর মুখ খোলে না।

৪. ফরাসী পুরুষদের যেখানে সেখানে প্যান্টের জিপার খোলার সংস্কৃতি আছে- হোক সেটা মূত্র বিসর্জনের উদ্দেশ্যে বা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে। 

৫. ফরাসীদের মধ্যে এই যে সারাদিন ধর্ম নিয়ে উন্মাদনা, কিন্তু ফ্র্যান্সের অধিকাংশ চার্চ না কি খালি থাকে, প্রার্থনা করার লোক পাওয়া যায় না। পরে বুঝলাম, অধিকাংশ ফরাসী নাগরিক সোশ্যাল মিডিয়াতেই নিজেদের ধর্মটা ঠিকমতো পালন করে থাকে, তাদের চার্চে যাওয়ার দরকার পড়ে না। বিশেষ করে ফরাসী নায়ক-নায়িকাদের আইডিতে গিয়ে তাদের নোংরা কথা বলা, যীশুর পথে আসার উপদেশ দেওয়া, আফটার লাইফে গড তাদের জন্য কী কী শাস্তি রেডি করে রেখেছে- এগুলো বর্ণনা করা ফরাসীদের দৈনন্দিন ধর্মচর্চার অংশ।

আরও আছে, কিন্তু অনেক রাত হয়েছে, ঘুম পাচ্ছে। আর লিখতে ইচ্ছে করছে না।

কিন্তু ফ্রান্স, আমাদের কিন্তু ভুললে চলবে না... 

লেখক: আবির হোসেন  

৪৮৮৩ পঠিত ... ১৫:২৯, অক্টোবর ২৯, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top