পদত্যাগ, বদলি, ওএসডি ও সাময়িক বরখাস্তের ব্যাপ্টিজম

৩৯০ পঠিত ... ১৬:০৯, জুলাই ২২, ২০২০

 

বিসিএস শো বিজের প্রাণকেন্দ্র সংস্থাপন গির্জা। এখানে পদত্যাগ, বদলি, ওএসডি, সাময়িক বরখাস্তের মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টিং-এ মৃদু শাস্তি পাওয়া দুর্নীতির শিশুরা আসে। তাদের বিশেষ কোন কাজ থাকে না; সকালে এসে চার্চের বেঞ্চে কোট ঝুলিয়ে রেখে দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের শিশুরা চলে যায় ব্যাংক ও শেয়ার বাজারে; কিন্তু কোন দোকানে একটু ভালো চা পাওয়া যায় তার খোঁজে।

অবিসিএস অপরাধীরা যে অপরাধে সাহেদ কিংবা জিকে শামীমের মতো রিমান্ডের ঘানি টানে; তার চেয়ে বড় অপরাধ করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিরা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে ব্যাপ্টিজমের মাধ্যমে শুদ্ধ হয়ে যায়।

তবে এই ব্যাপ্টিজম একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। চেতনাকালে কোন দুর্নীতিবাজ হাওয়াকালের 'কাছের লোক' বলে তকমা পেলে; তখন চেতনার চেকপোস্টের বাবর আলীদের মন পেতে ছুটির দিনে তাদের মাজারগুলোতে মাথা খুঁটে বেড়াতে হয়। ক্ষমতাসীন দলের বাবর আলীদের পদচুম্বন করে; তাকে একটি চামড়ার থলি ভর্তি টেকা-টুকা দিলে; তখন খুক খুক করে কেশে মহানুভব বাবর আলী বলে, আল্লাহ আল্লাহ করেন মিয়া; কী ঝামেলা বাধাইছেন; দেখতেছি কতদূর কী করা যায়।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে ব্যাপ্টিজমের অপেক্ষায় থাকা এক কালের স্কুলের ফার্স্ট বেঞ্চার ওএসডি এসে ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চার রাজনীতির বাবর আলীর পদচুম্বন করলে; বাবর আলীর গর্ব হয়। বিসিএস ওসডি ফিরে গেলে বাবর আলী তার কক্ষ আলো করে বসে থাকা হেলমেট ও হাতুড়ি ভ্রাতাদের সামনে বলে, --লের বিসিএস কতগুলি। ক্ষমতায় না থাকলে আমগো কাছে ভাব লয়। এখন বোঝো ঠেলা। ওসমানিয়া বংশের বাবর আলী ক্লাসে লাস্ট হইলেও একদিন ফার্স্ট বয় আইয়া তার পদচুম্বন করে। সুতরাং গুল্লি মারো পড়ালেখা; চলো চেতনার জিকির ফিকিরে রঙ্গভবনে যাই। দুনিয়াটা মস্ত বড়; খাও-দাও-ফূর্তি করো; আগামীকাল বাঁচবে কীনা তার শিওরিটি নাই। অই পাপিয়া কোথায়, না-চো।

সংস্থাপন চার্চের ওএসডিদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলা হয়। এই ভার হচ্ছে 'পাপের ভার'; ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, জোর করে 'স্যার/ম্যাডাম" ডাকানো ও বৃদ্ধ প্রজাকে নিজ ক্ষমতাবলে 'কান ধরে' দাঁড় করিয়ে রাখার 'বিসিএস অহংকার'-এর পাপের বোঝা।

এই ব্যাপ্টিজমের সিরিয়াল পেতে ছয় মাস থেকে একবছর অপেক্ষা করতে হয়। ৩০০ আসনের বাবর আলী বা নীতি নির্ধারক বাবর আলী সভার কেউ যদি রিকুইজিশান দেয় যে, 'ওএস ডি জাবর আলী আমার ব্যক্তিগত পরিচিত। তার মতো সৎ ও সহি কর্মকর্তা আমার জীবনে দেখি নাই; তাকে আমার জমিদারি এলাকায় পদায়ন করলে বাধিত হই।' এই ডিও লেটারে অবশ্য খুব কাজ হয় না। সংস্থাপন চার্চের কেরানি ফরমান আলী, নেতা বাবর আলীর পাঠানো 'পদায়ন অনুরোধ পত্রে'-র ওপর বসে থেকে বলে, হু ইজ বাবর আলী; সে কী আমাত্বে বেশি বোজে!

ফলে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ব্যাপ্টিজমের সিরিয়াল পেতে সরাসরি কেরানিকে টেকাটুকা দেয়াটাই সবচেয়ে সহি পথ হিসেবে বিবেচিত। এই চার্চের দ্বিতীয় গির্জা প্রধান সংস্থাপন সচিব পোপ যেহেতু কেরানিদের হাতে জিম্মি; তাই তার কাজ চোখ বুঁজে কাগজে সই করা; আর নিজের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য দেন দরবারে রঙ্গভবনের আশে পাশে জগিং করা।

পদত্যাগ, বদলি, ওএসডি ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা যেহেতু দুর্নীতি সম্রাট; তারা জানে কোন ফুলে কোন ভগবান তুষ্ট হয়। তারা দুর্নীতির টাকা ও বউ বাচ্চা সেকেন্ড হোমে পাচার করে দিয়ে; দুর্নীতির জুয়াঘরে আবার কীভাবে পদায়িত হওয়া যায়; সেই চেষ্টায় গড ফাদারদের পা টেপাটেপি করে বেড়ায়।

গুমগঞ্জের গড ফাদার বলে, অনেক কামাইছেন তো; এইবার ফোটেন; আমগোরে কামাইতে দেন; বিসিএস তো দেখতেছি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত; আমগো ক্ষমতা তো কচুর পাতার পানি; চুপেচাপে আপনারা ভালোই খাইয়া গেলেন টেকাটুকা; দোষ হইলো আমার সাহেদ সোনার।

পদত্যাগ, বদলি, ওএসডি ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা যেহেতু দেশব্যাপী ক্যাসিনো বালক; তাই বালিশ-পর্দা-বটি-বাঁশের সরবরাহপত্রে স্বাক্ষর করে টেকাটুকা কামাতে না পারলে তাদের ঘুম হয় না। টেকাটুকার নেশা কোকেনের চেয়েও মারাত্মক; তাই সংস্থাপন পোপের ব্যাপ্টিজমের জন্য আকুল থাকে প্রজাতন্ত্রের দুর্নীতি শিশুরা।

কেউ কেউ বায়তুল মোকাররমের সামনে ও মতিঝিলের চিপায় জ্যোতিষীর কাছে যায়; আংটিতে পাথর ধারণ করে টেকাটুকার পোস্টিং ফিরে পাওয়ার তীব্র কামনায়। ওএসডির স্ত্রী দৌড়াদৌড়ি করে পীর ফকিরের মাজারে। রাতে মুখ ঝামটা দিয়ে বরখাস্ত স্বামীর বাজুতে তাবিজের বাজুবন্ধ বেঁধে দেয়। টেকাটুকার আমদানি নাই মানে বৌ-এর মুখ ঝামটা; অথচ টেকাটুকার আমদানি থাকলে সে পারসোনায় গিয়ে 'বিপাশা বসু' সেজে আসে ; স্বামীর মানভঞ্জনে গান গায়। যে শ্যালক-শ্যালিকারা জমি দখল করে সাইন-বোর্ড টাঙ্গিয়েছিলো, ম্যাজিস্ট্রেটের শ্যালক-শ্যালিকার দখলীকৃত জমি; তারাই এসে ওএসডি দুলাভাইকে উপদেশ দেয়; হজ করে ফেরা শ্বশুর পাকিস্তান আমলে ঘুষ খেয়ে বানানো বাংলোয় বসে অনুতাপ করে, দুর্নীতিবাজ জামাই নিয়ে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না বাপু।

অবশেষে রঙ্গভবনের আশীর্বাদে; চেতনা ভবনের বাবর আলীর সুপারিশে ও সংস্থাপন চার্চের কেরানির 'খুশি হয়ে যাওয়ায়' ব্যাপ্টিজমের দিনটি আসে। সংবিধানের ওল্ড টেস্টামেন্ট ও চাকুরিবিধির নিউ টেস্টামেন্ট অনুযায়ী; চেতনার জমজমের পানি দিয়ে পদত্যাগ, বদলি, ওএসডি ও সাময়িক বরখাস্ত সরকারি শিশুর মাথা ও শরীর ধুইয়ে দেন সংস্থাপন পোপ।

এইসময় গড ফাদার চলচ্চিত্রের ব্যাপ্টিজম দৃশ্যের অনুকরণে পদত্যাগ, বদলি, ওএসডি ও সাময়িক বরখাস্ত শিশুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো হত্যা করা হয়।

ব্যাপ্টিজম শেষে 'নিষ্পাপ ঘোষিত' কর্মকর্তারা আবার ফিরে যান দেশ নিয়ে জুয়ার টেবিলের ডিলার হিসেবে। ফিরে গিয়ে 'সরকারি টাকা ভাগবাটোয়ারা'র ডিলার হয়ে জুয়ার বোর্ডে টেন্ডারের চিপ ছড়াতে থাকে। এই সময় কর্মকর্তা যেন যীশুর মতো শিশু হয়ে পড়েন। দেশপ্রেম ও ধর্মপ্রেমের সৌরভ এয়ার ফ্রেশনার হয়ে ছড়িয়ে থাকে দেশের ভাগ্য নিয়ে জুয়া খেলার শতবর্ষের জুয়াঘরে।

৩৯০ পঠিত ... ১৬:০৯, জুলাই ২২, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top