এয়ারপোর্ট খুলে দিয়েছি, যা রে যাবি যদি যা...

৬০০ পঠিত ... ১৫:৪৪, মে ৩০, ২০২০

 

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফ দিয়ে দিয়ে বাড়তে দেখে খান সাহেব লাফ দিয়ে ওঠেন, এই দেশে থাকলে তো বেঘোরে প্রাণ দিতে হবে।

মিসেস খান হেসে বলেন, তুমি তো কই মাছের প্রাণ; করোনার সাধ্য আছে নাকি তোমাকে কুপোকাত করবে!

খান সাহেব তার বেয়াই রহমান সাহেবকে ফোন করেন, বেয়াই সাহেব ভাব তো ভালো ঠেকছে না; করোনায় আক্রান্তের সংখ্য জিওমেট্রিক্যাল প্রোগ্রেশনে বাড়ছে; আমরা কী এরিথম্যাটিক্যাল প্রোগ্রেশনে বাঁচতে পারবো! আর তো ভরসা পাই না।

মিসেস খান হাসতে হাসতে বলেন, বেয়াইকে জিজ্ঞেস করো উনার কোম্পানির আনা ওষুধ এফেক্টিভ নাকি কেবলি আশার ইনজেকশান।

টেলিফোনের ওপ্রান্ত থেকে এটা শুনে শরমিন্দা হন রহমান সাহেব। উনি দম নিয়ে বলেন, বেয়াই সাহেব আল্লাহর ইশারা ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। ফলো ইওর ইনার কল। আমাকে তো পরোয়ারদিগার ভেতরে থেকে চাপ দিয়ে বলেছেন, করোনার ওষুধ আনো। আসলে বেয়াই সাহেব কোন ওষুধই এফেক্টিভ না; মেইন ব্যাপার হচ্ছে "ওষুধ যে আশাটা" দেয়। আমরা তো আল্লার রাঁহে আশার সওদাগর হিসেবে পৃথিবীতে এসেছি। উনি ডাক দিলে চলে যাবো।

ফোন রেখে খান সাহেব তার বুক ধরে বসে থেকে "ইনার কলে"-র অপেক্ষা করতে থাকেন।

চকিতে একটা গায়েবি আওয়াজ হয়, নুহের নৌকা ভাড়া করে ভাগোয়াট হয়ে যাও; এই তো সময়।

--গিন্নি নুহের নৌকা কী? বুকের ভেতরে নুহের নৌকার কথা কে যেন বলছে।

বেগম খান একটা খোয়াবনামা বের করে খান সাহেবের বুকের মধ্যের "নুহের নৌকা"-র মানে খোঁজেন।

বিদেশ থেকে ছেলে "হিজ নেম ইজ খান" ফোন করে।

বেগম খান ফোন ধরেই খান সাহেবের ইনার কল নুহের নৌকার কথা জানান।

হিজ নেম ইজ খান বলে, বুঝতেছো না আম্মিজান; স্পেশাল বিমান, চার্টার্ড বিমান, এয়ার বাস; এগুলো হচ্ছে নুহের নৌকার অর্থ। তা যাইবা কই সর্বত্রই তো করোনা!

বেগম খান বলেন, লন্ডনেই যাবো; করোনা ভ্যাকসিন ওখানেই উদ্ভাবিত হবে দেখে নিস।

হিজ নেম ইজ খান বলে, কাল বাদ ফজর চার্টার্ড বিমান শাহজালাল বন্দরে পৌঁছাবে। দুবাইয়ে স্টপ ওভার; আমারেই তুইলা নিও; একলগে লন্ডন যামু গিয়া।

খুব ভোর বেলা বিমানবন্দরের ভি আই পি টার্মিনালে পৌঁছে মি ও মিসেস খান দেখেন, তাদের বেয়াইয়ের ভাই সস্ত্রীক আরেকটি চার্টার্ড বিমানে যাচ্ছেন।

দেখা হতেই বেয়াই-বেয়াইন চতুষ্টয় আহলাদে আটখান হন।

--কোথায় যাচ্ছেন; লন্ডন?
--না বেয়াইন; আমরা গবেষণা করে দেখলাম জার্মানিতে করোনা-ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে ভালো হচ্ছে। তাই ওখানে যাচ্ছি। বাভারিয়ার বাদেন বাদেনে একটা রিসোর্টে থাকবো; নাইনটিন এইটটিনের স্প্যানীশ ফ্লুর সময় ডিউকেরা শুনেছি সেখানে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন।

মিসেস রহমান স্মার্ট ফোন খুলে বাদেন বাদেনের স্বাস্থ্যনিবাসের ছবি দেখান।

মিসেস খান মনে মনে খান সাহেবের ওপর বিরক্ত হন। লোকটা এনালগ যুগে পড়ে আছে; বেয়াইদের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ হতে পারেনি।

মি খান স্ত্রীকে সামলাতে বলেন, আল্লাহ ভরসা। লা ইলাহা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জোয়ালেমিন।

মি রহমান আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলে কাতর হয়ে ওঠেন।

এই সময় বন্দুক হাতে যুবক সিকদার ভ্রাতৃদ্বয় প্রবেশ করে ভি আই পি লাউঞ্জে; পুলিশ গিয়ে গার্ড অফ অনার দিয়ে তাদের পৌঁছে দেয় এয়ার বাসে; তারা ব্যাংককে হেলথ টুরিজমে যাচ্ছে। ঢাকায় পাপিয়া ভাইরাসের কারণে তারা উন্নয়নের প্রেশার রিলিজ করতে পারছে না। তাই থাই প্যাং পুং ইয়ার কাছে ছুটে যাচ্ছে আশার ছলনে ভুলি।

খান সাহেব ভ্রু-কুঞ্চিত করে বলেন, বেয়াই আপনারা কাদেরকে যে বাইশশো পরিবারের মেম্বর করেছেন বুঝিনা; এই সিকদার ভ্রাতৃদ্বয় ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ইস্ট ব্যাংকে ঢুকে, ৫০০ কোটি টাকা লোন চেয়ে বিফল হলে; দুধ চা খেয়ে এমডিকে গুলি করে দিতে চেয়েছে; আর পুলিশ তাদের জামাই আদর করছে।

রহমান সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, মূল্যবোধের অধঃপতন বেয়াই সাহেব সবই মূল্যবোধের অবক্ষয়।

মিসেস খান আর মিসেস রহমান এতো বর্ষের শান-সৌকতের বেনিফিশিয়ারি হয়েও কেন যেন বলেন, কেউই তো আর এদেশে কম বড় ঋণখেলাপী নয়!

৬০০ পঠিত ... ১৫:৪৪, মে ৩০, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top