যেভাবে কাটে বিএনপি বিষয়ক মন্ত্রী মাহমুদুল হাছানের বিএনপিময় প্রতিটি দিন

৩০০৪ পঠিত ... ২৩:২০, এপ্রিল ৩০, ২০২০

অলংকরণ: মুবতাসিম আলভী

 

মাহমুদুল হাছানের আজকে দারুণ ঘুম হয়েছে। ঘুমের মধ্যেই হুট করে মনে হলো, বিএনপির আমলে কোন সকালেই এমন দারুণ ঘুম হয়নি তার। সকাল সকাল দারুণ ঘুমের সাথে এমন দারুণ ভাবনায় ঘুমের মধ্যেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে কাঁথাটা টেনে নিলেন, একপাশ ফিরে আরও একটু ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। বিএনপির সময় আবার চলে আসলে হয়তো এইসব আরামদায়ক ঘুম ঘুমাতে পারবেন না।

ঘুমের মধ্যে আবিষ্কার করলেন, কে যেন তার মাথাটিকে টিপে পিষে ফেলতে ফেলতে তাকে মেরে ফেলতে চাইছে। ঘুমের মধ্যে বিএনপি কোথা থেকে আসলো ভাবতে ভাবতে আতঙ্কে চোখ খুলে দেখেন বিএনপি না, ওনার বউ কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। মনে মনে বিএনপিকে দুটো গালি দিলেন তিনি। শালা, বিএনপি আসলেই খারাপ, এত সুন্দর আলতো একটা স্পর্শকেও স্বপ্নে এসে এমন ভায়োলেন্ট বানাইতে হবে!

বউয়ের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিতে না দিতে আবারো মনে হলো, 'আরেহ! বিএনপির সময়ে কখনোই আমার বউ এত আলতো আদরে সকালে ঘুম ভাঙ্গায় নি। নাহ, এই সময়টা মিস করা যাবে না। লম্বা করতে হবে।'

হাছান সাহেবের বউ বললেন, উঠো! ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি নাস্তা বানাতে যাই।
হাছান সাহেব হাত ধরে ফেললেন। বললেন, তোমার হাতের স্পর্শ ভালো লাগছে, আরো কিছুক্ষণ থাকো।

হাছান সাহেবের বউ এমন খুনসুটিতে মুচকি হেসে টিনেজ ন্যাকামিপূর্ণ গলায় বললেন, পাগল একটা।

হাসান সাহেব বললেন, হ্যাঁ পাগল! বিএনপির জন্য পাগল।

স্বামীর মাথায় হাত বুলানো রোমান্টিক সময়ে অন্য কেউ চলে আসলে কারোরই ভালো লাগবে না। হাছান সাহেবের স্ত্রীরও লাগেনি। এক ঝাপটায় সজোরে হাতটা সরিয়ে নিয়ে মুখ ঝামটা দিয়ে তিনি বললেন, 'উঠলে উঠো, না উঠলে নাই! এমন ঢং করতে পারবো না।'

হাছান সাহেব বেশ অবাক হলেন। অবাক হয়ে মুচকি হাসতে হাসতে আবারো মনে মনে ভাবলেন, 'শালার বিএনপির সময় আমার বউ কখনো এত মিষ্টি করে রাগও করেনি!'

শুয়ে শুয়ে বিএনপি নিয়ে ভাবলে চলবে না। দুপুরে একটা সংবাদ সম্মেলন আছে, সেটাও বিএনপির জন্য মিস করা খারাপ হয়ে যাবে। সকালের নাস্তা সেরে তার জন্য কিছুটা প্রস্তুতি নিতে হবে। বিএনপির আমলের উপর কী কী দোষ চাপানো যায় তার একটা লিস্টও করা জরুরি। যদিও লিস্ট লাগে না আজকাল! কোন সমস্যার সাথে বিএনপি যোগ করে দিলেই হয়ে যায়। তাও, একটু রিয়ালিস্টিক করা দরকার বিষয়টা। একেবারে অযৌক্তিক দোষ দিলে আজকাল ফেসবুকে পোলাপান ট্রল করে।

আজকের আলুভাজিটা বেশ ভালো হয়েছে। মাহমুদুল হাসানের মা এমন দারুণ আলুভাজি বানাতেন। এরপর বানাতেন তার শাশুড়ি। আর এখন বানায় তার বউ। কিন্তু দারুণ বিষয় হচ্ছে, এই তিন মহিয়সীর আলুভাজিও তিনি বিএনপি বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় খেয়েছেন। 'বিএনপির আমলে এমন দারুণ আলুভাজি খেতে পারিনি' এমন কথা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন হাছান সাহেব। থাকুক এখন। আগে বউয়ের সকালের মিষ্টি রাগটা ভাঙাতে হবে।

: আলুভাজি দারুণ হয়েছে। একদম শাশুড়ি আম্মার হাতের রান্না। অনেকদিন এমন দারুণ রান্না খাইনা।

এই কথা বলার পরই হাছান সাহেবের বউ আধ খাওয়া রুটি, আলুভাজিসহ প্লেটটা সামনে থেকে নিয়ে চলে গেলেন। হাসান সাহেব কিছু বুঝে উঠার আগেই পাশ থেকে কাজের মেয়ে হাসতে হাসতে বললো, 'স্যার! আইজ আলুভাজি আমি করছি!'

বিএনপিকে আরেক দফা দোষ দিয়ে হাছান সাহেব উঠে চলে গেলেন।

ধান কাটা নিয়ে নাকি কি একটা ঝামেলা হয়েছে, তা নিয়েই আজ কিছু কথা বলবেন। অফিসের সামনেই সব ঠিকঠাক করা হলো। তবে মাহমুদুল হাছান ঠিক করলেন আজকে বিএনপি নিয়ে কোন কথা তিনি বলবেন না! সকাল থেকে বিএনপির কারণে দুইবার বউয়ের সাথে রাগারাগি হয়েছে। তবে, তাকে নিয়ে ফেসবুকে সবাই হাসাহাসি করে কেন তা জানতে চাইবেন তিনি।

: আমাকে নিয়ে সবাই ফেসবুকে হাসাহাসি করে কেন বলেন তো?
: স্যার, আপনি সবকিছুতে বিএনপিকে দোষ দেন সেজন্য হাসে। অনেকে তো আপনাকে বিএনপি বিষয়ক মন্ত্রীও বলে।
: সবকিছুতে বিএনপির দোষ দেই এইটা কে বললো? এই যে ধান কাটার বিষয়টা। কৃষকের ধান কেটে কারা সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে চায় সেটা যে বিএনপির মার্কা দেখলেই বোঝা যায় তা আমি আপনাদের বলেছি এখনো?

মাহমুদুল হাছান গাড়িতে বসে আছেন। মনটা খারাপ তার। বিএনপিকে অফিশিয়ালি দোষ দিতে পারেন নাই। ক্যাজুয়াল বক্তব্যটা সাংবাদিকরা ছাপাবে কি না কে জানে। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে দেখা যাক।

: সিদ্দিক।
: জ্বে স্যার।
: বিএনপিকে নিয়া আমার বক্তব্যটা পুচকে সাংবাদিকরা ছাপাবে? কী মনে হয় হয় তোমার?
: আপনার কথা না ছাপাইয়া কই যাইবো স্যার! অলরেডি ছাপাইয়া দিছে। আমি মাত্র ফেসবুকে লাভ দিয়ে শেয়ার করলাম। একটা কথা কি জানেন স্যার?
: কী?
: বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেও আপনি বিএনপিকে নিয়ে এখনকার মতো ভাবেন নাই! এমনকি আমার মনে হয়, বিএনপির কেউও বিএনপি নিয়ে এতটা ভাবে না...

মাহমুদুল হাছান ভেবে দেখলেন, বিএনপির সময়েও বিএনপিকে নিয়ে তিনি আসলেই এত ভাবেননি। মনে পড়লো, বিএনপির আমলে মানুষ এত চিন্তাও করতো না। সে সময়ে চিন্তাশীল মানুষও জন্ম নেয় নাই। এই সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ হাছান সাহেবের মতো একটা চিন্তাশীল মানুষ পেত না।

বাসায় এসে হাছান সাহেবের মন কিছুটা খারাপ হলো। হাছান সাহেবের স্ত্রী তাকে না জানিয়েই বাপের বাড়ি চলে গেছে। ফোন দিয়েছেন, ফোনও ধরেনি। হাছান সাহেব মন খারাপ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুমানোর আগে বিএনপিকে খুব গালিগালাজ করলেন। নিশ্চয়ই ওরাই ওকে ভুল বুঝিয়েছে...

সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখলেন, পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় বড় করে লেখা 'বিএনপির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত মাহমুদুল হাছান, স্ত্রীর অভিযোগ'...

৩০০৪ পঠিত ... ২৩:২০, এপ্রিল ৩০, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top