করোনা নিয়ে কথা বললেও রয়েছে মৃত্যুর ঝুঁকি : বাংলাদেশের রাজবাড়িতে মিললো প্রমাণ

৪০৬ পঠিত ... ১৫:৫৮, মার্চ ২২, ২০২০

করোনা ভাইরাস নিজেই এক চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে বাংলাদেশের মতো একটা আনপ্রেডিক্টেবল দেশে এসে। আন্তর্জাতিক কিংবা দেশি মিডিয়া যখন বিশ্বের নানান দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা গুনতে ব্যস্ত, তখন আমাদের দেশের পত্রিকার এক কোনে খবর পাওয়া যায় ‘করোনা ভাইরাস নাকি গজব; কী নামে ডাকা হবে করোনাকে; এই নিয়ে কথা কাটাকাটি ও দু-গ্রুপের সংঘর্ষ-নিহত ১ আহত ১১। 

ঘটনা রাজবাড়ির। সদর উপজেলার ভবদিয়া গ্রামের। এক প্রবীণ লোক মারা গেলে গ্রাম্য এক ডাক্তার সন্দেহ প্রকাশ করেন, এই মৃত্য হয়ত করোনা ভাইরাসেই হয়েছে। কিন্তু এদেশের তৌহিদি জনতার কাছ থেকে করোনা ভাইরাস গজব তকমাতো পেয়ে গেছে জন্মলগ্নে চীনে থাকা অবস্থাতেই। করোনা ভাইরাসকে গজব না বললে তারাই বা কেন মেনে নিবে! তারা বললেন, করোনা ভাইরাস না, বলুন গজব। অন্য দল গজব বলেননি! এরপর আর কি! সংঘর্ষ! আহত এবং নিহত। 

শুধু এই ঘটনা না! ‘করোনাভাইরাস’ শব্দটাই আমাদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। গতকাল মিরপুরে করোনায় আক্রান্ত এক রোগী মারা গেলো। আর ওই বাড়ির বাইরে লেগে গেলো উৎসুক জনতার ভিড়। যেন করোনা নয়, কারিনা এসেছে হেথা!

বিদেশ ফেরত ঝুঁকিতে থাকাদের কোয়ারেন্টিনের সিল যেন বিদেশি চকলেটের বাক্স। সেই বাক্সের মধ্যে আছে করোনা ভাইরাস নামক অতি সুস্বাদু এক চকলেট। আত্মীয় স্বজনরা আসছেন সেই চকলেটের ভাগ নিতে। দূরের গ্রাম থেকে কেউ কেউ আসছেন কোয়ারেন্টিনের করোনা ভাইরাস নামক চকলেট কেমন তা দেখতে। প্রবাসীরাও কম যান না! করোনা ভাইরাস নিয়েই আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশিদেরতো দেখতে যাচ্ছেনই। ফাঁকে পাড়ার বাজারে গিয়ে খেয়ে আসছেন রসমালাই, খাইয়েও আসছেন।

এমন পরিস্থিতিতে পারতপক্ষে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা না বলাই উত্তম। কথা বললেই বেড়ে যাবে মৃত্যুর ঝুঁকি! সরকারকে হয়তো হিসেবও রাখতে হতে পারে দু-ভাবে! প্রত্যক্ষ করোনা ভাইরাসে মৃত্যু আর পরোক্ষ করোনা ভাইরাসে মৃত্যু। পরোক্ষ করোনা ভাইরাসে মৃত্যুরও অনেকগুলো উপকরণ থাকতে পারে। করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা কাটাকাটিতে মৃত্যু, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী দেখতে গিয়ে ঠেলাঠেলিতে মৃত্যু, করোনা ভাইরাস সন্দেহ পিটিয়ে হত্যা, করোনা ভাইরাসে মৃত রোগী দেখতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মৃত্য! 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে দেখতে না দেয়ায় রোগীর প্রভাবশালী আত্মীয়ের পিটুনিতে মারা গেলেন ডাক্তার, আর কদিনের মধ্যেই এমন খবর দেখলেও অবাক হবেন না! 

তবে এদিক থেকে সরকারি দল বেশ ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছেন! করোনাভাইরাসের রোগী বাড়াচ্ছেন ৩ এর নামতার হারে। সরকারের অবব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচুর কথা বলার পরও কাউকে আবরার ফাহাদ হতে হচ্ছে না! সত্যি, জাতির এমন সংকট মুহূর্তে এমন ‘ধৈর্য্য’ তো ‘বলিষ্ঠ’ নেতৃত্বেরই প্রমাণ!

 

৪০৬ পঠিত ... ১৫:৫৮, মার্চ ২২, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top