বলদ বাড়তে থাকলে ছাগল তো কমবেই!

১৫৫৪ পঠিত ... ১২:৫০, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

দেশে এখন ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩। আর গরু আছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫টি। এসব গরু ছাগলসহ গবাদিপশু ব্যক্তি ও খামারি পর্যায়ে লালনপালন করা হয়। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি শুমারি ২০১৯ এর প্রাথমিক ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে। ওই শুমারিতে অবশ্য ভেড়া, মহিষ, হাঁস, মুরগি, টার্কির সংখ্যাও পাওয়া গেছে। 

এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর সবাই বিস্ময় প্রকাশ করে, এ-ও কী সম্ভব; সারাদিন ম্যা ম্যা করে জনজীবন তেজপাতা করে দেয় ছাগলেরা; অথচ ছাগলের সংখ্যা দেখছি গরুর চেয়ে অনেক কম! 

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চালানো অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর সব তথ্য। গরু-ছাগল বিষয়ক এক সমাজবিজ্ঞানী এ প্রসঙ্গে বলেন, ছাগল অনেক সুসংগঠিত শক্তি; এরা দলবদ্ধভাবে বিরাজ করে। ছাগলের মাঝে আমিত্ব কম; ফলে তারা কখনোই বিভাজিত হয় না। অন্যদিকে গরুর মাঝে আমিত্ব প্রবল। ফলে প্রত্যেক গরু খারিজি পদ্ধতিতে অপছন্দের গরুকে 'ছাগল' বলে চিহ্নিত করায়; অনেক গরুই খারিজ হয়ে ছাগল নাম পায়। চারিদিকে ছাগলের সংখ্যাই বেশি বলে ভ্রম হয়। 

গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি কী সাংস্কৃতিক উত্তরণের পথ নির্দেশ করে! এই প্রশ্নের উত্তরে গরু-ছাগল বিষয়ক এক সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞানী পালটা প্রশ্ন করেন, গরু-ছাগলের আবার সংস্কৃতি কী বলুন! গ্রামীণ জীবন থেকে উঠে আসা গরু-ছাগলের চিন্তা-সংস্কৃতি বলে যদি কিছু থেকে থাকে তা হচ্ছে পটাং করে রেগে উঠে শিং ঘষা; শিং-এর গুঁতোয় ভিন্নমত পোষণকারীদের জীবন বিপর্যস্ত করে তোলা। আর ধরুন ছাগল পাঞ্জাবি পরে তার অনুভূতির হেফাজত করে; গরুও পাঞ্জাবি পরে তার অনুভূতির হেফাজত করে; পার্থক্য কেবল হারমোনিয়াম-ডুগি তবলায়। ছাগলের অনুভূতি জলসাও বোরিং; গরুর অনুভূতির সংগীত সাঁঝও বোরিং। আর ছাগলের সংখ্যা কমে গরুর সংখ্যা বাড়ায় শিল্প-সাহিত্য-সংগীত-চলচ্চিত্র কোথাও কী কোন উন্নতির দেখা পান। উত্তর হচ্ছে পাননা। কারণ গরুর কাজই হচ্ছে একঘেয়ে জাবর কাটা। ওসব গবাদি-বিনোদন কী মুক্ত-আকাশ সংস্কৃতির যুগে কেউ দেখে! 

গরু-ছাগল বিষয়ক অপরাধ বিজ্ঞানীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ছাগলের যেরকম নৃশংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা নজির পাওয়া যায়; তার তুলনায় গরুকে অনেকটা শান্তিপ্রিয় মনে হয় না কী! 

অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, গরু যেহেতু এস্টাবলিশমেন্টের কাছাকাছি শুয়ে বসে থাকে, তাই নৃশংস কাজ গুলো তাদের দিয়ে করিয়ে নেয়। গরু হত্যার দাবী নিয়ে সারাক্ষণ ঘোরাঘুরি করে। গরু তার হত্যার দাবীটিকে 'ন্যায়বিচার' বলে প্রচার করে। হত্যার দাবীকে শিল্পে রূপান্তর করেছে গরু সম্প্রদায়। ফলে ছাগল ও গরু উভয়েই প্রতিহিংসা পরায়ণ; কেউ-ই শান্তিপ্রিয় নয়। 

গরু দীর্ঘদিন ক্ষমতার স্বাদ লাভ করছে; অথচ যে কোন দুর্নীতি ধরা পড়লে সেখানে ছাগলের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অনুসন্ধানে ক্যাসিনোর পে-রোলে থাকা এক গরু জানায়, দুঃখের কথা কী বলবো; আমরা গরুরা হইতেছি আইলসার জাত; ফলে গতর খাটাইয়া চান্দাপাতি  কালেক্ট করতে আমগো অসুবিধা হয়। চান্দা কালেকশনে ছাগলের দক্ষতা প্রবল। আপনি তাকে অপছন্দ করতে পারেন, কিন্তু গাছতলায় হুইয়া হুইয়া, খারিজির আলাপ করার বিলাসিতা করতে গেলে; ছাগলরেই কালেকশানে পাঠাইয়া নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। আমি গরু হইতেছি এ যুগের জমিদার, আর ছাগল আমার গোমস্তা। 

গরুকে জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে এই যে সারাক্ষণ ছাগল বিরোধী প্রচারণা; সেটা কেন! 

গরু উত্তর দেয়, ছাগলের চিকন বুদ্ধি; চাঁদাপাত্তি কালেকশানের ফাঁকে ফাঁকে সে দেখবেন অনুভূতিতে আঘাতের জিগির তুলে ছাগল-সমাবেশ করে গরু হত্যার আহবান জানায়। ছাগল অত্যন্ত ঘৃণাবাদী। এইজন্য এদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হয়। 

ছাগলকে জিজ্ঞেস করা হয়, গরু জানাচ্ছে আপনারা ভীষণ ঘৃণাবাদী! 

ছাগল হেসে বলে, আমরা ঘৃণা হইলে ডাইরেক্ট গিয়া গরুর রগ কেটে দিই। আর গরুর ঘৃণা হইলে ঐটা নিয়া সে গান বান্দে,ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড; একটা কইরা ছাগল ধরো সকাল বিকাল নাশতা করো। ফলে ছাগলরে ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবিটা অত্যন্ত জনপ্রিয় হইয়া যায়। দেখেন গরুও সাম্প্রদায়িক; ছাগলও সাম্প্রদায়িক। কিন্তু গরু শিবিরে লেজ নড়াইয়া 'অসাম্প্রদায়িকতা'র গান বান্ধার লোক অনেক বেশি।  ছাগল গর্ব-প্রকাশ করে, গরু যেহেতু অলস; হাঁটাচলা কইরা খাইতে জানে না; তাই চান্দা কালেকশানে ছাগলের ওপর নির্ভরশীলতা থাকবেই। 

ক্যাসিনো কেলেংকারিতে বার বার নাম আসা এক ভেড়াকে জিজ্ঞেস করা হয়;  কেলেংকারিতে নাম আসা ৩৯টা গরু নিয়া কোন কথা নাই; খালি শুনি ভেড়ার সমালোচনা! 

ভেড়া বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি; গরুরা বে-আইনিভাবে ক্ষমতায় আছে। 

এরপর গরুরা 'হ্যাশ ট্যাগ ধর ধর ভেড়া ধর' ক্যাম্পেইন চালু করে। ভেড়া ভয় পেয়ে বলে, আমি দুঃখিত গরুরা অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গতভাবে ক্ষমতায় আছে। 

গরু-ছাগলের শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান কী সম্ভব! এ প্রশ্নের জবাবে গরু-ছাগল সংঘর্ষ প্রশমন বিশেষজ্ঞ অভিমত রাখেন, চাঁদা-কালেকশান, উচ্চমূল্যে বালিশ বিক্রি সহ দুর্নীতির প্রতিটি শাখায়, গরু ছাগলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে; যত ঝামেলা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা আর গরুর পঞ্চম বাচ্চাটি নিয়ে। এরা টেকাটুকার চক্রে ঢুকতে পারে না বলে হতাশা থেকে সংঘর্ষ করে। আর এই ছাগল ও গরুদের বুঝতে হবে, তাদের গর্ব করার মতো কিছু নাই; দুজনেরই সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটেছে গোয়াল ঘরে। ছাগলের নিজেকে এতো সহি ভাবার কিছু নাই; গরুর নিজেকে এতো স্মার্ট ভাবার কিছু নাই। এই একচুয়ালাইজেশানটা থাকলেই; গরু-ছাগলের ইগোর দ্বন্দ্বটি কমে আসতে বাধ্য।

১৫৫৪ পঠিত ... ১২:৫০, অক্টোবর ২৮, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top