রাজধানী ঢাকায় কৃষকলীগের কর্মীদের যে ১০টি অবদানের কথা আপনি জানেন না

৬৭৭ পঠিত ... ১৭:৪৫, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

রাজধানীতে কার্যত কোনো কৃষিজমি নেই, কৃষকও নেই। তবে এখানে কৃষক লীগের নেতা-কর্মীর কোনো কমতি নেই। রাজধানীতে কৃষক লীগের পদধারী নেতাই আছেন প্রায় ৮ হাজার।

যেখানে কৃষক ও কৃষি নেই, সেখানে এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? জানতে আমাদের কৃষি-গবেষকরা শাইখ সিরাজকে মনে মনে একবার স্মরণ করে কাজে নেমে পড়েন। এরপর আমরা যা জানতে পারি, রাসেল ভাইও তা বিশ্বাস করবেন না। ইতিহাসের একেবারে 'বিলিভ ইট অর নট' অংশ থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো থেকে জেনে নিন রাজধানী ঢাকায় কৃষিক্ষেত্রে কৃষকলীগের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা।


১# গুলিস্তানে ফুল চাষ

কৃষকলীগ মূলত এখানে এক ধরণের বিশেষ ফুলের চাষ শুরু করেন। যেটা আবার কোন কোন মহলে সবজি নামেও পরিচিত। গুলিস্তানের আশেপাশে পার্কগুলোতে চাষাবাদ হওয়া এই বিশেষ ফুলটির বাজারজাতও এখান থেকেই হয়। সেই থেকে এই এলাকার নাম গুলিস্তান। যার বাংলা অর্থ ফুল বাগান।

 

২# মিরপুরের সেচ প্রকল্প

ঢাকা কৃষকলীগের সেচ প্রকল্পের হার্ট মিরপুর। মিরপুর থেকেই সারা ঢাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া এই পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করায় কৃষকলীগের অবদান রয়েছে অনেক। কৃষকলীগের এই প্রকল্পকে বলা যায় 'কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা' প্রকল্প। তাদের এই বিশেষ প্রকল্পের কারণেই বৃষ্টির ৩ ঘন্টার মধ্যে মিরপুরের কোমর সমান পানি টাকনু সমান হয়।

 

৩# গাবতলি থেকে জেলেদের জন্য গাবের কষ সরবরাহ

জেলেদের কথা বিবেচনায় এখানে অনেক আগে থেকেই গাব চাষের সূচনা করেন কৃষকলীগ। এখানকার গাব থেকেই ঢাকার বাইরের জেলেদের (বা জেলেলীগ থাকলে জেলেলীগ) জাল ও নৌকাকে টেকশই করতে গাবের কষ সরবরাহ করা হয়। প্রান্তিক মানুষের সাথে কৃষকলীগের এমন সম্পর্কের ধরুন যদিও এই এলাকার নাম হওয়া উচিত ছিলো কৃষকলীগতলা। কিন্ত কৃষকলীগ-এর মহানুভবতায় এই অঞ্চলের নাম গাব ফলের নামেই নামকরণ করা হয়।

 

৪# গুলশান-গুল্ম থেকে বনসাই

গুলশানের কৃষকলীগ গুল্মজাতীয় গাছের একটি অভিজাত প্রজাতি আবিষ্কার করেন। অনেক গবেষণার পর এই গুল্মজাতীয় গাছকে একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ গাছে পরিণত করেন কৃষকলীগ। এই গাছগুলাই বনসাই গাছ নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, এয়ারপোর্ট রোডের বনসাই গাছগুলো গুলশান কৃষকলীগেরই পরিশ্রমের ফসল। কিন্তু বরাবরই পাদপ্রদীপের নিচে থাকতে চাওয়া কৃষকলীগ তার ক্রেডিট দাবি করেন না।

 

৫# সোনারগাঁ হোটেলের নামকরণ

ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত ৫ তারকা হোটেল প্যান-প্যাসিফিকের ইংরেজি নামের সাথে সোনার বাংলার সোনারগাঁ যুক্ত করাও কৃষকলীগের অবদান বলা যায়। ঢাকায় থাকতে থাকতে নিজেদের কৃষকলীগ পরিচয়ের কথা হুট করে মনে পড়ে গেলে প্রায়ই তারা একটা গ্রাম্য পরিবেশ ও নামের অভাবে ভোগেন। তখনই সোনারগাঁ হোটেলে গিয়ে একটু ঘুরে টুরে কিংবা নামের দিকে তাকিয়ে গ্রামে আছেন বলে মনে মনে ফিল নেন!

 

৬# ফ্লাইওভারে কৃষি খামার

ঢাকা শহরের বিভিন্ন ফ্লাইওভারের উপরে বৃষ্টির সময় থইথই করা পানি জমা থাকতে দেখাটাকে আমরা কাকতালীয় কোন ভুল মনে করলেও এটা আসলে কৃষকলীগের বিশেষ পরিকল্পনার অংশ। ঢাকা শহরের চাষের জমির অভাবটা (মূলত নেই!) বুঝতে পেরে তারা ফ্লাইওভারে ফসল চাষের পরিকল্পনা করেন। সেজন্য আগে থেকে পানি ধরে রাখার পরিকল্পনা থেকেই এই কাজ। কৃষকলীগ এই প্রকল্পে সফল হলে ফ্লাইওভারেও মানুষ পাবে সবুজের ছোঁয়া।

 

৭# নীলক্ষেতে নীল চাষ

জানা যায়, এখানেই কৃষকলীগের কর্মীরা নীল চাষের শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই অনুসারেই জায়গাটির নাম নীলক্ষেত হয়ে ওঠে। দেশে এখন আর কোন নীল ক্ষেত না থাকলেও, জামা কাপড়ে নীল দেয়ার সংস্কৃতি নীলক্ষেতে কৃষকলীগের নীল চাষের পর থেকেই শুরু হয়!

 

৮# বনানীর বন-বনানী

এই এলাকায় কৃষকলীগের কর্মীরা বনভূমি উৎপাদনের জন্য করেছিলেন কঠোর সাধনা। বন-বনানী গড়ে না উঠলেও, এলাকাটির নাম হয়ে ওঠে বনানী। বন গড়ে তুলতে না পারলেও কৃষকলীগের এই কঠোর সাধনার কথা ইতিহাস মারফত জানতে পেরে মুগ্ধ হয়ে ফুয়াদ কৃষকলীগকে উৎসর্গ করে 'তোর জন্য আমি বন্য' গানটি রচনা করেন।

 

৯# ধানমন্ডিতে বাম্পার ধান-চাষ

ধান চাষের জন্য সারাদেশে উন্নত মানের ধানের বীজ সরবরাহের কাজটি কৃষকলীগ ধানমন্ডি থেকেই করতেন । সেই থেকে জায়গাটির নাম ধানমন্ডি। ধানের সাথে মুন্ডি বা মাথাকে বীজের রূপক অর্থ হিসেবে ধরা ধরা হয়। মূলত ধানমুন্ডি নামটি হালকা বিবর্তিত হয়ে ধানমন্ডি হয়ে যায়। কৃষকলীগ ধানের বীজ সরবরাহ বন্ধ করার পর আমাদের দেশ থেকে গোয়াল ভরা ধান টার্মটা হারিয়ে গেছে।

 

১০# হাতিরঝিল-কলাবাগান যৌথ খামার

হাতিরঝিলে ছিলো হাতির খামার! সাথে ঝিল। ছিলে থাকতো ছাগল। ছাগল ঝিলের ঘাস-লতা পাতা খেতো। আর কলাবাগান থেকে আসত আস্ত কলাগাছসহ কলা। কলা গাছ খেতো হাতি, কলা খেতো কৃষকলীগের খামারীরা আর কলার ছামড়া খেতো ছাগল। হাতি-কলা-ছাগল-কলাগাছ-মানুষ-ঝিল একসাথে এত প্রজাতির মেলাবন্ধন রূপকথার মতো শুনালেও এই যৌথ খামারের প্রবর্তক কৃষকলীগই। রূপকথার মতো শোনায় বলেই এই খামার এখনো দৃষ্টিগোচর হয়নি কারো!

৬৭৭ পঠিত ... ১৭:৪৫, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top