আর 'বখাটে কাট' নয়, এবার ইঞ্চিমত কাট

১৬৮ পঠিত ... ১৬:৫৩, আগস্ট ২২, ২০১৯

প্রতিদিন ঘটে যাওয়া অসংখ্য অপরাধের তদন্ত করে কোন কূল কিনারা করতে না পারায় পুলিশ ক্রমশ সমাজবিজ্ঞানী হয়ে উঠতে থাকে। সমাজ গবেষণা করে তারা আবিষ্কার করে মাথার চুলের সঙ্গে অপরাধের যোগাযোগ অত্যন্ত ঘনিষ্ট। 

সর্বদলীয় সুশীল সভা ডাকা হয়। পুলিশের সমাজবিজ্ঞানী উপস্থিত সুশীলদের উদ্দেশ্যে বলে, মানুষের লাইফ স্টাইলের সঙ্গে তার আচরণের নানা যোগসূত্র রয়েছে। কেউ যদি উদ্ভট পোশাক পরে, উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটে, যা দৃষ্টিকটু ও অস্বাভাবিক, সেটি তার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই ফেলে। এ কারণে এটি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সবার আগে দরকার সচেতনতা। 

একজন সুশীল জানায়, কয়েক দশক ধরে চুল-দাড়ি কাটার কাজ করছি। সব সময়ই তরুণেরা সমসাময়িক হেয়ার স্টাইল ফলো করে। হেয়ার স্টাইল ব্যাপারটা মানুষের ব্যক্তিগত শখ আর ইচ্ছার ব্যাপার। সবাইকে পুলিশের মতো করে চুল কেটে দিলে আপনাদের স্টাইলের বিশিষ্টতা নষ্ট হবে। তাছাড়া পুলিশ যেসব সুযোগ-সুবিধা বেতন-ভাতা পায়; ওগুলো ছাড়াই সাধারণ মানুষ চুল বিসর্জন দিতে রাজি হবে কী! 

পুলিশ বিরক্ত হয়ে বলে, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশেষ করে উঠতি বয়সের যুবকদের সংযত আচরণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা। সম্প্রতি কিশোর ও উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে খুনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যেটির পেছনে তাদের অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও আচরণের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। 

আরেক সুশীল বলে, ইতিহাসে অনেক অপরাধ আর অপরাধী তো দেখলাম। সেই একাত্তর বলেন, পচাত্তর বলেন, একুশে অগাস্ট বলেন; এসব সময়ের বড় বড় অপরাধের অপরাধীদের চুল তো ছোট করে কাটাই দেখেছি। 

পুলিশ বলে, অযথা তর্ক করবেন না। আমরা গবেষণা করে দেখেছি; চুলের স্টাইলেই সমস্যা। 

এক সুশীল বলে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেয়ার বাজার লুন্ঠন, ব্যাংক লুট যারা করেছে; তাদের চুল ছোট ছোট করে কাটা। হত্যা-ধর্ষণের যেসব অপরাধীর ছবি পত্রিকায় আসে তাদের চুলও ছোট করে কাটা। আপনার সূত্র তো মিলছে না। 

পুলিশ ধমক দেয়, এতো বোঝার দরকার নাই। এই এক সমস্যা সুশীলদের নিয়ে। আপনাদের দোকান থেকে ফিল্মের নায়ক-ফুটবলার-ক্রিকেটারদের ছবি সরান। ওসব মডেল চলবে না। 

সুশীল জিজ্ঞেস করে, তাহলে কী পত্রিকা থেকে কেটে ছোট চুলের অপরাধীদের ছবি টাঙ্গিয়ে দেবো! তাতে কী অপরাধ কমবে! 

আরেক সুশীল বলে, রূপপুরের বালিশ বিক্রেতার ছোট চুলের চশমা পরা ছবিও দেয়া যায়; অথবা হাসপাতালের স্টেথো ক্রয়কারীর ছবি হলেও চলে। দুর্নীতি দমন কমিশনে এ পর্যন্ত ধরা পড়া অপরাধীদের ছবিগুলি যদি একটু আনাইয়া দেন; ছোট চুল তাদের; অত্যন্ত মোটিভেশনাল হবে তাদের ছোট চুলগুলো। তারাই বেশ যুগোপযোগী মডেল। 

এক চিন্তাশীল সুশীল উল্লেখ করে, আমার দোকানে কবি রবীন্দ্রনাথ আর কবি নজরুলের ছবি আছে। তাদেরও অপরাধী লম্বা চুল। ঐগুলি সরাইতে হবে। আপনার একটা ছবি দেন। বড় কইরা বান্ধাইয়া রাখি।

আরেক সুশীল মুগ্ধতা প্রকাশ করে, কল্যাণ রাষ্ট্রে জনগণ রাষ্ট্রের কাছ থেকে অনেক সুবিধাই পায়; কিন্তু রাষ্ট্র নাগরিকের চুল কাটার দায়িত্ব নিয়েছে; এটা ইতিহাসে বিরল! 

সুশীলদের সভাপতি বলে, কর্তা ইচ্ছাতেই কর্ম; সরকারি দলের নেতা-প্রশাসক-পুলিশ; যারা আমাদের সুখের স্বর্গে রেখেছেন; তাদের চুলের সঙ্গে ইঞ্চি ইঞ্চি মিলিয়ে তরুণদের চুল কেটে দেবো। আর বখাটে কাট নয়; সমসাময়িক চুলের ফ্যাশান হবে ইঞ্চিমত কাট, কেমন!

১৬৮ পঠিত ... ১৬:৫৩, আগস্ট ২২, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top