মাহমুদ রহমানের ক্যামেরায় বাংলাদেশের বেদে সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবন

৫৬ পঠিত ... ১৫:৫৩, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

‘শিঙ্গা লাগাই, দাঁতের পুক ফালাই, বাতের ব্যথা সারাই...’ এমন অথবা কাছাকাছি কথা চিৎকার করে বলতে বলতে একদল নারী হাঁটছে রাস্তা ধরে। অলিতে গলিতে ঢুকছে, কখনো বা কোন বাড়ির সামনের খালি আঙিনায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কেউ সাড়া দেয় কিনা তার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখা যেত কোন এক এলাকায় রাস্তার পাশে খালি জায়গায়, হাট-বাজারে মাঠে কিংবা বাড়ির উঠোনে অনেক মানুষ ঘিরে থেকে শিঙা লাগানো দেখছে কিংবা দেখছে সাপের খেলা। কিছুদিন আগেও রাজধানী শহরেই দেখা যেত এই বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের।

 

লোকেমুখে ‘বাইদ্যা’ নামেই বেশি পরিচিত প্রায় হারিয়ে যেতে বসা বেদে সম্প্রদায়ের জীবন-যাপন ও আচার বৈচিত্র্যময়। নানা ধর্ম বর্ণ মিলে এক অদ্ভুত অতীন্দ্রিয় সংস্কৃতি তাদের। ফটোগ্রাফার মাহমুদ রহমানের ছবিতে ফুটে উঠেছে তাদের জীবনের আবছায়া। বহুদিন ধরে মাহমুদ পর্যবেক্ষণ করছেন বেদেদের জীবন, তাদের সংস্কৃতি। তিনি খুব কাছ থেকে বেদে জীবন দেখেছেন তার ক্যামেরার চোখ দিয়ে। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু করে তিনি ফ্রেমবন্দি করেছেন বেদে জীবনের অসংখ্য সব মুহূর্ত।

মাহমুদ রহমানের পর্যবেক্ষেণ অনুযায়ী বাংলাদেশে বিভিন্ন গোত্রের প্রায় তিন লক্ষ বেদের বাস। বেদে বলতে যদিও বাস্তবে বা সিনেমায় দেখা কিছু প্রথাগত বিষয়ই আমাদের মাথায় আসে, তবুও বিভিন্ন গোত্রের বেদেদের পেশা এবং যাপনে কিছুটা পার্থক্য আছে।  প্রায় দুই যুগের যাত্রায় মাহমুদ দেখা পেয়েছেন ৫টি গোত্রের বেদেদের। বেদে সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রকে ‘মান্তা’ বলা হয়।

যেমন মাল মান্তা গোত্রের বেদেরা সাপের খেলা দেখায়, রোগ উপশম করে এবং ভাগ্য গণনা করে উপার্জন করে। বাংলাদেশে এই গোত্রের বেদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। সিনেমার কল্যাণে বহুল পরিচিত ওঝা বা সাপুরিয়া মান্তার সদস্যরা সাপ ধরে থাকেন। অন্য কোন গোত্রের বেদেরা সাধারণত সাপ ধরার কাজ করেন না। বাজিগর মান্তার বেদেরা যাদু দেখায়। আজকাল এদের অনেকেই পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। এদের অনেকেই এখন মোটরের ব্যাটারি বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

তৈলা মান্তা গোত্রের বেদেরাও ভাগ্য গণনা করে। তবে তা করে বানরের মাধ্যমে। আরও রয়েছে সান্দার মান্তা। এরা নৌকায় থাকে। ঝিনুক কুড়ায়, কাচের চুরি, কসমেটিকস, খেলনা, ইত্যাদি নানা কিছু বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করে।

মাহমুদ রহমানের ক্যামেরায় ধরা পড়া বেদেদের এই বৈচিত্র্যময় জীবনের কিছু ছবি থাকছে eআরকির পাঠকদের জন্য।   

 

১#

 

২#

 

৩#

 

৪#

 

৫#

 

৬#

 

৭#

 

৮#

 

৯#

 

১০#

 

১১#

 

১২#

 

১৩#

 

১৪#

 

১৫#

 

১৬#

 

১৭#

 

১৮#

 

১৯#

 

২০#

 

২১#

 

২২#

 

২৩#

 

 

২৪#

 

২৫#

 

২৬#

 

২৭#

 

২৮#

 

২৯#

 

৩০#

 

৩১#

 

৩২#

 

৩৩#

৫৬ পঠিত ... ১৫:৫৩, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top