ফার্নিচারের দোকানে বিক্রি হচ্ছে না কোনো তিন সিটের সোফা

৫০৯৯ পঠিত ... ১৭:৩২, আগস্ট ২২, ২০২২

Bikri-hocchena-3-seat-er-sofa

ইতিহাসের শুরু থেকেই স্টোরিটেলিং এর ক্ষমতা অপরিসীম। শেক্সপিয়র, তলস্তয়, মার্কেজ, ভার্জিনিয়া উলফ, কেট শপিন, আগাথা ক্রিস্টি প্রমুখ বিখ্যাত লেখকেরাও ফিকশনের গায়ের জোর প্রমাণ করেছেন। সাহিত্যের সুদিন এখন আর নেই। তবুও এখনও মাঝে মাঝে কিছু গল্প  আমাদের ভেতরটা নাড়া দেয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এমনই এক তিন সিটের সোফার গল্প পড়ে পাঠকের ভেতর ম্যাসিভ রিয়েকশন দেখা গেছে। যার ফলশ্রুতিতে ফার্নিচারের দোকানগুলিতে আর বিক্রি হচ্ছে না তিন সিটের কোনো সোফা।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে জানা যায়, অনেক তরুণী এবং মহিলারা ঘুমের মধ্যেও তিন সিটের সোফা দেখে আঁতকে উঠছেন। প্রায়ই তারা এমন সোফায় বসে থাকার দুঃস্বপ্ন দেখেন। রাবেয়া নামের এক তরুণী বলেন, ‘এই গল্প কে লেখছে জানি না। তবে গল্প পড়ার পরে আমি সোফা তো দূরে থাক, কোথাওই বসতেছি না। তিন দিন ধরে দাঁড়ায়ে আছি। এছাড়া আমরা থাকি জয়েন্ট ফ্যামিলিতে, সব কাজিন-টাজিন মিলে। কয়দিন ধরে সবার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিছি। ভয়টাতো বুঝতেই পারতেছেন …’

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যার কথা শোনা গেলো ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের মুখ থেকেই । এই গল্প ফেসবুকে সার্কুলেট হবার পর থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে সোফার বিক্রি-বাটা। প্রথম দিকে তারা কাহিনী উদ্ধার করতে না পারলেও এখন তারা এর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানেন। ‘শেফা ফার্নিচার’ এর কর্ণধার জানান, ‘আর বইলেন না, দুইদিন পরে পরে নতুন নতুন সমস্যা কই থাইকা আসে বুঝি না। কালকে একটা কাপল ফার্নিচার দেখতে আসছে, দেইখা মনে হইলো নতুন বিয়ে হইছে। পুরা সময় ফার্নিচার দেখলো, হাতাইলো, কিন্তু যেই সোফার সামনে আসছে, মাইয়াটা সেন্সলেস হইয়া গেলো। হিসাবটাই মিললো না। পরে ধরাধরি কইরা নিয়া গেলাম হাসপাতাল, কী আর করা…’

একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় আরও অসংখ্য ফার্নিচার ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে। লতিফ নামের আরেক দোকানদার বলেন, ‘এই সোফা কাহিনীর জ্বালায় বাইরে দেখেন পোস্টার টাঙ্গাইছি। এই দোকানে কোনো সোফা বিক্রি হয় না। এরপর থেকে আল্লাহর রহমতে  ধীরে ধীরে কাস্টমার বাড়া শুরু হইছে।‘ লতিফের  দাবী, তার এই বুদ্ধি অ্যাপ্লাই করে আরও অনেকেই এখন কাস্টোমার টানছেন।  

শুধু তাই নয়, সোফা নিয়ে দাম্পত্য কলহের রিপোর্ট করেছেন অসংখ্য স্বামী-স্ত্রী । স্ত্রীরা বাসার মেহমানকে সোফায় বসতে দেয়া দূরে থাক, সেদিকে তাকাতেই দিচ্ছেন না, বহুদিনের স্মৃতিবিজড়িত সোফা ফেলে দিচ্ছেন ডাস্টবিনে, সোফা ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন ইত্যাদি অভিযোগ শুনতে পাওয়া গেছে । ভুয়া গবেষকরা এই নতুন ফোবিয়ার নাম দিয়েছেন ‘সোফা ফোবিয়া’। এতে আক্রান্ত বর্তমানে ৭২.৬৭ শতাংশ নারী। তবে সম্প্রতি যে ভুয়া খবরটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে তা হলো মিরপুর ডিওএইচএসের ঘটনাটি। সুমাইয়া (২৪) নামের এক সদ্য বিবাহিত নারী নতুন বাসায় সোফা আনার অপরাধে বিয়ের তিনদিনের মাথায় ডিভোর্স দিয়েছেন তার স্বামীকে। শুধু তাই নয় , তাকে মারার জন্য রান্নাঘর থেকে রামদাও নিয়ে এসেছিলেন।

এ ঘটনায় সম্পূর্ণ হতভম্ব ও নির্বাক হয়ে পড়েছেন সুমাইয়ার স্বামী পলক (২৬)। তিনি কাঁদতে কাঁদতে  বলেন, ‘ভাই আমি ফেসবুক টেসবুক চালাই না। আমার কোনো দোষ নাই। সুমাইয়া তো জানে না এই মানুষটা তাকে কতটা ভালোবাসে …’

৫০৯৯ পঠিত ... ১৭:৩২, আগস্ট ২২, ২০২২

Top