২৫ টাকা বেতন বাড়ায় দার্জিলিং এর চা শ্রমিকরা চলে আসছেন সিলেটে

৪৯৪ পঠিত ... ১৭:৩৬, আগস্ট ২১, ২০২২

Darjiling-er-cha-sromik-ra-bangladeshe-asche

উন্নয়নের রানী বাংলাদেশে একজন চা শ্রমিকের মজুরি এতদিন পর্যন্ত ছিলো ১২০ টাকা। পাতা তোলার এই ভর মৌসুমে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার সাময়িক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন সারাদেশের ২৪১ টি চা-বাগানের দুই লক্ষাধিক শ্রমিক। বাংলাদেশ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে অনেকেরই হতাশার বিষয়বস্তু হলো এখানের দাবি দাওয়া পূরণ হয় না। অথচ দেখুন, এক সপ্তাহ না যেতেই বেড়ে গেলো চা শ্রমিকদের মজুরি। এর পরিমাণও কোনোভাবেই ক্ষুদ্র নয় ,১২০ টাকা থেকে তা লাফ দিয়ে হয়ে গেছে ১৪৫ টাকা । ইতিহাসে এর আগে অন্য কোনো আন্দোলনের ফলাফল এত দ্রুত আসেনি । এর থেকে বোঝা যায়, সত্যিই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশীদের এই সাফল্য নাড়া দিয়েছে দার্জিলিংসহ আরও বেশকিছু চা প্রধান জায়গায়। তবে এক ভুয়া সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশীদের বাড়তি মজুরির ব্যাপারে জানতে পেরে বাংলাদেশে চলে আসছেন অসংখ্য দার্জিলিং এর অসংখ্য চা শ্রমিক।

এদিকে এই দুর্মূল্যের সময়ে বেতন ২৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের চা শ্রমিকেরা। এ ব্যাপারে কিছু চা শ্রমিকের সাথে কথা বলে তাদের উচ্ছ্বসিত অবস্থায় বন্দী করা হয়। আমাদের প্রতিনিধি যখন তাদের সাথে কথা বলতে যায়, তাদের বেশিরভাগই ডিজে পার্টিতে নিমগ্ন ছিলেন। ব্যস্ততার ফাঁকেই আব্দুর রহমান নামে এক শ্রমিক জানান, ’ আমরা আসলে এতোটা আশাই করিনি। সর্বোচ্চ পাচ দশ টাকা বাড়তে পারতো, সেখানে বেড়ে গেছে ২৫ টাকা। আসলেই দেশটাকে এখন বেহেশত মনে হচ্ছে। এত টাকা দিয়ে কী করবো সিদ্ধান্তই নিতে পারছি না…।’কথা বলতে বলতে রহমানের চোখে পানি চলে আসে।  

এত টাকা দিয়ে কী করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের চা শ্রমিকেরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। কেউ ঘুরতে বালি যাবেন, কেউ গুলশান বনানীতে ফ্ল্যাট কিনবেন, কেউ আবার তাদের ছেলেমেয়েদের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা পরিকল্পনা করছেন। অনেক চা শ্রমিকই ততক্ষণে ক্রিমসন কাপ, ফার্মহাউজ বার্গারে বসে  চেক-ইন দেওয়া শুরু করেছেন।  

তাদের এমন উচ্চবিলাসী জীবন যাপন দেখে ঈর্ষান্বিত হচ্ছেন দার্জিলিংসহ বিশ্বের সকল দেশের চা শ্রমিকেরা—এমনটাই জানা্লেন এক ভুয়া চা বিভাগের কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে দার্জিলিং এর এক চা শ্রমিক বলেন, ‘বাংলাদেশে না জন্মানোর জন্য মাঝে মাঝে খুব আফসোস হয়। এতদিনে নিশ্চয়ই একটা মার্সিডিজ কিনতে পারতাম! একটা এতিমখানা দেওয়ারও শখ অনেকদিনের। তাই আমরা দলগত সিদ্ধান্ত নিছি যদি আমাদের বেতন বাংলাদেশীদের সমান না বাড়ায়, আমরা ওইখানেই চলে যাব। এই যে দেখেন , ব্যাগ-ট্যাগ গুছায়াও রেডি করে রাখছি। এই যে দেখেন…’এই বলে তিনি রেডি করা তল্পি তল্পার দিকে ইঙ্গিত করেন।

৪৯৪ পঠিত ... ১৭:৩৬, আগস্ট ২১, ২০২২

Top