পূর্বাচলে মিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, থাকছে স্পেশাল চা-ছপ-সিঙ্গারার ব্যবস্থা

৪৬৫ পঠিত ... ১৯:৫৫, নভেম্বর ১৮, ২০২১

Purbachole-DU

গত ১৬ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ‘প্রয়োজন ছাড়া’ নগরবাসীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেতে বারণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রক্টর বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা বেড়েছে, ক্যাম্পাস ছোট হয়ে গেছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা যদি নিরাপদে হাঁটতে-চলতে না পারে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকে, তাহলে জাতির বড় ক্ষতি হবে—এই জায়গায় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি...'

এমন মন্তব্যে ঢাকাবাসীর ভেতর বেশ আলোড়ন দেখা গেলেও বেশ কয়েকজন বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। গর্বিত ঢাবিয়ান জ্যাকেট পড়া একজন প্রাক্তন ছাত্র বলেন, 'কত্ত বড় সাহস! আমাদেরকে ফ্রি নাস্তাপানি খাওয়ানোর বদলে যাইতেই মানা কইরা দিছে। এই নিয়ম মানি না,সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই...'

তবে ‘ছমুছা’ নামের এক ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপ্লিকা হিসেবে অচিরেই পূর্বাচলে তৈরি হতে যাচ্ছে ‘মিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। এ ব্যাপারে এজেন্সির চিফ জানান, 'মূল বিদ্যালয়টি ৬০০ একরের হলেও আমাদের রেপ্লিকা টি হচ্ছে ২০০ একরের উপর। যেহেতু সেখানে আমাদেরকে যেতে মানা করেছে আমরা অল্টারনেটিভ হিসেবে এটিকেই বেছে নিচ্ছি। আমাদের একটা ইগোর ব্যাপার আছে না? ভ্রমণপিপাসুরা এখন থেকে পূর্বাচলে আসবেন, আপনাদের জন্য ১০ টাকায় ছা ছপ সিংগারার ব্যবস্থা হচ্ছে। সেখানে মিনি টিএসসির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে৷ দুই একজন ভেলপুরিওয়ালাকেও যাওয়া আসা করতে দেখেছি।'

এদিকে তিতুমীর কলেজের আফজাল মিয়া (২৩) জানান, 'পূর্বাচলে ঢাবি হওয়াতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ঢাবির পোলাপানের ভাব দেখতে দেখতে আর বাঁচি না। ভাব দেইখা মনে হয় অক্সফোর্ডে পড়ে। আমি তো আরও দুই বছর আগে থেকেই ওই ক্যাম্পাসে যাওয়া বন্ধ করছি। এখন ভাবতেছি পূর্বাচলে যাবো, অনেকদিন টিএসসিতে বিড়ি ফুঁকি না...'

মিনি ঢাবিতে কোনো পড়ালেখা হবে কিনা এমন প্রশ্নে জানা যায়, এখানে কোনো একাডেমিক কারিকুলাম নেই। স্রেফ ভ্রমন উদ্দেশ্য নিয়েই মানুষ আসবে। মধুর ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে সুখ দুঃখের দুটো আলাপ করবে, এইতো।

তবে আসল সুখবর রয়েছে টিকটকারদের জন্য। আসল ঢাবি না হলেও মিনি ঢাবিতে রয়েছে পুরোপুরি টিকটক বান্ধব পরিবেশ। দলবল নিয়ে এখানে টিকটক করা যাবে। তবে ঘণ্টাপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকার মতো মূল্য নির্ধারিত হতে পারে।

মিনি ঢাবি নিয়ে মানুষের কৌতুহলের কোনো কমতি নেই। মিনি ঢাবির কাল্পনিক প্রক্টর বলেন, 'আমরা এখন অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। কেউ জানতে চেয়েছেন, সেখানে ডাকসু নির্বাচন হবে কি না, কেউ জানতে চেয়েছেন মেয়েদের হলগুলো করা হবে কিনা, হলেও, সেখানে মেয়েরা থাকবে কিনা, যার ফলাফলে সেখানে দাঁড়িয়ে মেয়েদের জন্য অপেক্ষা করা যাবে কিনা,আবার কেউ জানতে চাইছেন রেজিস্টার বিল্ডিং আসল ঢাবির মতোই হবে কি না। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মিনি ঢাবি আপনাদের হতাশ করবে না, আপনারা সাথেই থাকুন। কাজ চলছে, শেষ হওয়া মাত্রই আপনাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে...'

৪৬৫ পঠিত ... ১৯:৫৫, নভেম্বর ১৮, ২০২১

Top