কোভিডের আগে কম্বাইন্ড স্কুলে পড়তাম, এখন মনে হচ্ছে বয়েজ স্কুল: জনৈক ছাত্র

১৫৩ পঠিত ... ১৪:২৯, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

Combind-school

দীর্ঘ ৫৪৪ দিন পর আজ খুলেছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতদিন পর স্কুল কলেজ খোলা তাই আজ উৎসাহের সীমা নেই। তবে কিছু স্কুল কলেজ ঘুরে জানা গেছে, ক্লাসে ঢুকে বেঞ্চের দিকে তাকাতেই অনেক ছাত্রের উৎসাহে ভাটা পড়েছে। বাল্যবিবাহ ও নানান জাঁতাকলে পড়ে অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীই ফেরেনি স্কুলে, ফলে অনেক কম্বাইন্ড স্কুলে পড়া ছেলে শিক্ষার্থীরা বুঝে উঠতে পারছে না, তারা কি কম্বাইন্ড স্কুলে পড়তো নাকি বয়েজ স্কুলে!  

সহপাঠীদের এভাবে হারিয়ে বেশ হতাশ অনেক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে ইয়াকুচিয়া স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র রাশেদ (১৬) জানান, ভাই, কিছুই বুঝলাম না। করোনার আগে কম্বাইন্ড স্কুলে পড়তাম। কিন্তু আজ এসে দেখি বেশিরভাগই ছেলে। একবার ভেবছিলাম মনের ভুলে বয়েজ স্কুলে চলে আসলাম কী না! নাকি আমি বয়েজ স্কুলেই পড়তাম, দেড় বছরে ভুলে গেছি। পরে দুএকজন মেয়ে দেখে বুঝতে পারছি, বেশিরভাগেরই বিয়ে হয়ে গেছে।'

এদিকে, মুকুলনিকেতন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রফিক (১৭) বিষণ্ণ মনে মেয়েদের টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় eআরকি'র রংপুর প্রতিনিধিকে বলেন, 'রীতু ওখানে বসতো। চোখে চোখে কথা হতো আমাদের। চোখে চোখেই আমরা ঠিক করেছিলাম৷ বাচ্চার নামও ঠিক করেছি চোখে চোখেই। আজ শুনলাম ওর নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। একটা বাচ্চাও আছে। কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে ভাই, রীতু নাই, শুধু ওর টেবিলটা আছে।'

এক পর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কাঁদতে থাকে রফিক। অতিরিক্ত অশ্রুক্ষরণের ফলে ক্লাসে অজ্ঞান হয়ে যায় সে। দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অজ্ঞান অবস্থায় রীতু, রীতু বলে চিল্লাতে থাকায় ডাক্তার বিষয়টি বুঝতে পেরে রীতুকে কল দেয় রীতু বলেন, 'বাচ্চা কাঁদছে, এখন কথা বলতে পারবো না... রফিককে বলেন ও পড়ালেখা করে অনেক বড় হোক। এরপর পলিসি মেকার হোক। পলিসি মেকার হয়ে এমন এক পলিসি বানাক, যাতে এমন বিপর্যয়ে কোন শিক্ষার্থী আমার মত ঝরে না যায়। ওকে আমাদের প্রেমের কসম।'

১৫৩ পঠিত ... ১৪:২৯, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

Top