কেউ দাওয়াত না দেয়ায় নিজের বিয়েতেই গেলেন না সিলেটের সামাদ

২২৪৩ পঠিত ... ২১:৫৫, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১

 

বিয়ে সামাদের। অথচ সামাদকেই কেউ দাওয়াত দেয়নি। বিনা দাওয়াতি হবার ভয়ে সিলেটের ছেলে সামাদ নিজের বিয়েতেই গেলেন না। বিয়েতে উপস্থিত না থাকায় সামাদের পক্ষে ‘কবুল’ বলতে হয়েছে তার বেস্টফ্রেন্ড রাসেলকে। ‘বাবা আমার মেয়েকে দেখে রেখো’ বলে কাঁদতে কাঁদতে অপ্রস্তুত রাসেলের হাতেই কনেকে তুলে দিতে হয়েছে কনের বাবার।

গতকাল এমন অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো সিলেট। বিষয়টি সম্পর্কে ভুক্তভোগী বর সামাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সিলোডি। তার উপ্রে খান বংশের পোলা। দাওয়াত ছাড়া আমরা কুলখানিতেও যাই না। এটা তো আস্তো বিয়া।’

শেরওয়ানি, পাগড়ি পরে নাগরা জুতা হাতে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসে থাকা সামাদ আমাদেরকে জানান, বিয়ে ঠিক হইছে একমাস। কেউ দাওয়াত দেয়নি। হলুদের দিন আমার শ্বশুরপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে আসছে। আমাকে কেক খাওয়াইছে সবাই। সেদিন দাওয়াত দিলেও আমি বিয়েতে যাইতাম। অথচ সেদিন পর্যন্তও কেউ আমাকে বলে নাই, কালকে আমাদের বাড়িতে আপনার দাওয়াত। শেরওয়ানি পরে বসে ছিলাম, যদি ফোনেও কেউ দাওয়াত দেয় চলে যেতাম। দেয়নি। যাবো কেন? আমি এত সস্তা নাকি? আমার কি মান ইজ্জত নাই?’

এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে সামাদের বাবা জানান, ‘ঠিকই তো আছে। আমার ছেলেকে ওনারা দাওয়াত দিবে না? আমরা কি এতই পঁচে গেছি? আমার শ্বশুর বাড়ি থেকেও আমাকে দাওয়াত দেয়নি, সেজন্য আমার বিয়ে আমার ভাই মানে সামাদের কাকা করেছে। আমরা খান বংশের পোলা। আমাদের একটা বংশ মর্যাদা আছে।’

অবশ্য সামাদের শ্বশুররা বলছেন ভিন্ন কথা। হাসতে হাসতে সামাদের শ্বশুর জানান, ‘জামাই মনে হয় ছোটবেলায় বিনা দাওয়াতে খাইতে গিয়ে ভাত পায় নাই। কেউ উঠায়া দিছে। সেই ভয়েই হয়তো উনি আসেন নাই।’

সামাদের বিয়ের দাওয়াত না পাওয়া বন্ধুরা অবশ্য এমন ঘটনা মোটেও বিশ্বাস করছেন না। এমনই একজন বলেন, ‘ও আমাদেরকে দাওয়াত দেয় নাই। দাওয়াত দিছে শুধু রাসেলকে। এখন আমাদেরতো কিছু বলা লাগবে! সেজন্যই এমন গল্প সাজাইছে হালায়।’

২২৪৩ পঠিত ... ২১:৫৫, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১

Top