নিরাপদে মারধোর করার জন্য সামরিক বাহিনীমুক্ত রাস্তা চান সাংসদপুত্ররা

৯৯১৯ পঠিত ... ১৬:৫৯, অক্টোবর ২৬, ২০২০

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার বাইকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। গাড়ি থামিয়ে ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে সাংসদ হাজি সেলিমের পুত্র এরফান সেলিম ও তার সহযোগীরা নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম আহমেদ খানকে বেধড়ক পিটিয়ে পালিয়ে যায়। (প্রথম আলো)

এই ঘটনার পর গাড়ির ড্রাইভারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ হাজি সেলিমের বাসায়ও র‍্যাব অভিযান চালায়।

বাসায় গিয়ে র‍্যাবের এমন অভিযানের ঘটনাকে সাংসদপুত্রদের নিরাপত্তার জন্য ভয়ানক হুমকি হিসেবে দেখছে ঢাকার একদম ভূয়া সাংসদপুত্ররা। রাস্তায় নেমে নিরাপদে মারধর করার জন্য সামরিকবাহিনী মুক্ত রাস্তার দাবিও তুলেছে তারা।

সাংসদপুত্রদের করা একটি কাল্পনিক সমাবেশ থেকে বলা হয়, 'আমরা সাংসদপুত্র। রাস্তায় নামলে একেওকে একটু মারধর করতেই হয়। নইলেতো আর প্রেস্টিজ থাকে না। কিন্তু মাঝে মাঝে বেখায়লে দুএকজন সামরিকবাহিনীর লোককে মারধোর করলে একটু থানা, পুলিশ, গ্রেফতার ঝামেলা পোহাতে হয়। সাংসদপুত্র হিসেবে যেগুলো আসলে আমরা ডিজার্ভ করিনা। সেজন্য আমরা চাই, রাস্তায় যেন কোন সামরিকবাহিনী না থাকে। তাহলে আমরা নিশ্চিন্তে যাকে তাকে মারধোর করতে পারি।'

নোয়াখালীর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর পূত্র শাবাব চৌধুরীও নিজের ফেক ফেসবুক আইডি থেকে সমাবেশ যুক্ত হন। তিনি বলেন, সামরিকবাহিনীদের জন্য মাঝে মাঝে ফুটপাতের লোকলেও মেরে পার পাওয়া যায় না। আমি একবার ফুটপাতের সামান্য একজনকে গাড়িচাপা দিয়ে পুলিশের জন্যই ঝামেলায় পড়ছি। চট্টগ্রামে পুলিশের গাড়িতে সামান্য ধাক্কা লাগছে, তাতেই থানা, পুলিশ, মুচলেকা কত কী করা লাগছে। রাস্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এরা কেউ না নামলেই তো আর ঝামেলা হয় না।'

অন্য এক সাংসদপুত্র বলেন, শালার ডেইলি কত মানুষকে পিটাই, 'কিন্তু এই বাহিনী টাহিনী পিটাইলেই ঝামেলায় পড়ি। ভাল্লাগেনা। দুশ্চিন্তায় এখন আর পিটাইয়াও আরাম পাই না।'

অন্য একজন প্রশ্ন রেখে বলেন, 'একজন সাংসদপুত্র হয়েও রাস্তায় নেমে নিরাপদে মানুষকে মারধর করার অধিকার থাকবে না! এ কেমন দেশে বসবাস করছি আমরা?'

'নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তো নিজের পরিচয় দিয়েছেন, তাও তাকে মারলেন কেন?' হাজি সেলিমের ছেলের ফেক আইডিতে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'মাইরের চ্যাত উইঠা গেলে এতসব খেয়াল থাকে না ভাই। মটকায় লাগলে সামনে যেই আসুক মাইরা দেই। একটু ঝামেলা হইলেও, ছাড়া তো পাবোই জানি।'

মারধোর করলেও আসলে ঝামেলা এড়াতে চান, একবার ঝামেলায় পড়লে কয়েকদিন আর কাউকে মারা যায় না, হাতব্যথা করে, মেরেও শান্তি পাওয়া যায় না, এমনটা জানিয়ে সাংসদপুত্র এরফান সেলিম বলেন, 'এমন ঝামেলা হবে জানলে ফুটপাতে শুয়ে থাকা কাউকে গাড়িচাপা দিয়ে রাগ কমিয়ে নিতাম।'

৯৯১৯ পঠিত ... ১৬:৫৯, অক্টোবর ২৬, ২০২০

Top