দেশে চিকিৎসা নিতে অপারগ দুস্থদের জন্য শিকদার ব্রাদার্সের 'ভাই-ভাই এয়ার এম্বুলেন্স সার্ভিস'

৮৮৭ পঠিত ... ১৫:৩৫, মে ২৯, ২০২০

দেশের মানুষ যখন ঘরের ভেতরে ম্যাড়ম্যাড়ে সময় পার করছে, ঠিক তখনই উত্তেজনার পারদ উঁচিয়ে হাজির হলেন সিকদার গ্রুপের দুই পরিচালক- রন হক সিকদার ও তাঁর ভাই দিপু হক সিকদার। 'গ্যাং অব ওয়াসিপুরের' মত এই দুই ভাই আমাদের দেখালেন 'গ্যাং অব সিকদারপুর'।

এর আগে ঋণের জন্য বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য বেশি দেখাতে রাজি না হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের পদস্থ দুই কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন সিকদার গ্রুপের ওই দুই পরিচালক। অবশেষে গত ২৫ মে তারা একটি এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে উঠে দেশ থেকে পালিয়ে যান। (সূত্র: প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার)

তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এক বিস্ময়কর তথ্য, এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ওনারা পালানোর জন্য ওঠেননি। মূলত, দেশে চিকিৎসা নিতে অপারগ দুস্থ রোগীদের জন্য তারা চালু করেছেন 'ভাই-ভাই এয়ার এম্বুলেন্স সার্ভিস', আর ওটা ছিলো তারই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ভয়েস মেসেজে eআরকিকে এমনটাই জানিয়েছেন রন হক সিকদার। ব্যাংককে বসে নিজের একটি ফেক আইডি থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাগুলি করলেও আমাদের দুই ভাইয়ের আছে গলিত সিসার মত নরম দুইটা মন, এমনটা উল্লেখ করে রন বলেন, 'দুস্থদের জন্য কিছু করতে চাই। দুস্থরা করোনায় চিকিৎসা পাচ্ছেনা। ব্যাংকক-সিঙ্গাপুরেও যেতে পারছে না। আমরা তাই লোকাল বাস এর ভাড়ায় তাদের জন্য এনেছি এয়ার এ্যাম্বুলেন্স। এখানে নানান জোগাড় যন্ত্র করতেই তো এলাম!'

কিন্তু বর্তমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিভাবে যাতায়াত করবে আপনাদের এ্যাম্বুলেন্স, এমন প্রশ্নে হোহো করে হেসে ওঠেন তিনি। তারপর কঠিন গলায় রন বলেন, 'আমাদের ঘোড়া চালানোর অভ্যাস আছে। তাই অন্য কোনো গাড়ি কেউ আটকায় না।' এ সময় একটি ঘোড়া রিলোড হওয়ার শব্দ পাওয়া যায়।

'রবিন হুড' আমাদের আইডল এমনটা জানিয়ে সব শেষে রন বলেন, 'আমরা দুই ভাই ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে গরীব দুঃখীর মাঝে বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। এরজন্য ঘোড়া চালানো লেগেছে। সেটাকেই রং মাখিয়ে উপস্থাপন করেছে সংবাদ মাধ্যম। আশা করি এয়ার এ্যাম্বুলেন্সের এই মহৎ উদ্যোগটাকে বিকৃত করা হবে না।'

শিকদার ব্রাদার্সের এই এয়ার এম্বুলেন্স সার্ভিসে মূলত কারা সেবা পাবেন, এমন প্রশ্ন করলে ছোট ভাই দিপু হক সিকদার উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'ওই মিয়া, লাগব নাকি আপনার সেবা? পাঠাবো এয়ার এম্বুলেন্স? এহুনি ট্রিটমেন্ট কইরা দিতেসি...' অতঃপর আমাদের প্রতিবেদক আতঙ্কিত হয়ে লাইনটি কেটে দেন।

৮৮৭ পঠিত ... ১৫:৩৫, মে ২৯, ২০২০

Top