বেকার যুবকদের জন্য এবারের নির্বাচনে এলো নতুন পদ 'অ্যাসিস্ট্যান্ট ভোটার'

১৯৮২ পঠিত ... ১৮:৫৬, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

দেশে একেকটা নির্বাচন মানেই বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দারুণ সব সম্ভাবনা। সহযোগী প্রচারক, ভাড়াটে সমর্থক, ভাড়াটে স্লোগান দাতা, নিশি-ভোটার, কেন্দ্রের অভ্যর্থনা কমিটি, কেন্দ্র থেকে বুথ পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া পথ-পদর্শক, শান্তি রক্ষায় (!) নিয়োজিত বিশেষ দূতসহ আরো অনেক অনেক পদ-পদবীর ছড়াছড়ি।

এইসব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলো না গতকাল (১ ফেব্রুয়ারি) হয়ে যাওয়া ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনও। তবে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। অন্যান্য সকল সুযোগের পাশাপাশি ইভিএমে হওয়া এই নির্বাচন যুবকের জন্য 'অ্যাসিস্ট্যান্ট ভোটার' নামে নতুন এক আনঅফিশিয়াল পদের সৃষ্টি করেছে।

প্রথম চিত্র, ভোটার যন্ত্রে আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর ব্যালট উন্মুক্ত হলো। কাপড় দিয়ে ঘেরা গোপন কক্ষে ভোট সম্পন্ন করতে গেলেন। এ সময় কোন মার্কায় ভোট দিয়েছেন, তা উঁকি দিয়ে প্রত্যক্ষ করছেন অবাঞ্ছিত ব্যক্তিরা। দ্বিতীয় চিত্র, ভোটার গোপন কক্ষে গিয়ে দেখলেন, সেখানে থাকা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি তাঁর ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। তৃতীয় চিত্র, ভোটার গোপন কক্ষে প্রবেশ করার পর কোন মার্কায় ভোট দিতে হবে, তা বলে দিচ্ছেন অবাঞ্ছিত ব্যক্তি। বেশির ভাগ ভোটকক্ষের দৃশ্য ছিল এমনই। খবর: প্রথম আলো।

অ্যাসিস্ট্যান্ট ভোটারের সেবা নেয়া বয়োবৃদ্ধ নাগরিক ড. কমল সেন eআরকির এক এসিস্ট্যান্ট প্রতিনিধিকে জানান, 'অ্যাসিস্ট্যান্ট ভোটার থাকায় আমাদের মতো বয়স্ক মানুষদের বেশ উপকার হয়েছে। আমরা অনেকেই চোখে দেখি না, আঙ্গুল দিয়ে সুইচ চাপতে কষ্ট হয়। আমাদের এই কাজটি তারা করে দেয়!' সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ রাখার জন্য ধন্যবাদও জানান এই সিনিয়র সিটিজেন।

যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে গিয়ে কনফিউশনের মাল্টি ইরেকশনে ভোগা অন্য এক যুবকও বেশ প্রশংসা করেন এই পদে থাকা যুবকদের। তিনি জানান, 'কাকে ভোট দিবো তা নিয়ে প্রচুর কনফিউশনে ছিলাম। কিন্তু এসিস্ট্যান্ট ভোটার পদে থাকা ছেলেরা আমাকে কনফিউশনে থাকার কোন সুযোগই দেয়নি! চিপা থেকে বের হয়ে নিজেরাই আমার ভোটটি তার পছন্দের প্রার্থীকে দিয়ে দিয়েছে।' এমন উদ্যোগের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রশংসাও করেন তিনি।

এদিকে বিএনপির এক কর্মী অ্যাসিস্ট্যান্ট ভোটার পদে তাদের নিয়োগ দিয়ে অন্তত কেন্দ্র পর্যন্ত যাওয়ার আকুতি জানান নির্বাচন কমিশনের কাছে। নিজের বুড়ো আঙ্গুলের দিকে ছলছল নয়নে অপলক তাকিয়ে থাকা এই কর্মী একটু নিচু গলায় বলেন, 'কতদিন হয় নির্বাচনের কেন্দ্র দেখি না। দিতে পারি না একটা টিপ। অ্যাসিস্ট্যান্ট ভোটার পদে আমাদের নিয়োগ দিলে এই দুঃখ কিছুটা ঘুচতো আমাদের! শুধু টিপটা দিতে চাই ভাই! ব্যালট পেপার দেখে জুড়াতে চাই চোখ! বিশ্বাস করেন, এই সুযোগ দিলে ভোটটা আমরা নির্বাচন কমিশনের কথামতোই দিবো!'

সামনের নির্বাচনগুলোতে এমন সব হতভাগা যুবকদেরকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হবে কি না? আমরা এমন প্রশ্ন রাখি নির্বাচন কমিশনের ফেক ফেসবুক পেজে। তারা জানান, 'কমিশনার স্যার নাই! আমি ওনার অ্যাসিস্ট্যান্ট বার্তাবাহক। স্যার কিছু বলা লাগবে না। আমিই বলছি, তাদের সুযোগ দেয়া যাবে না। সুযোগ দিলে তারা তাদের পছন্দের বা প্রার্থীর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে!'

১৯৮২ পঠিত ... ১৮:৫৬, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

Top