২০৪৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে বিসিএস আবেদনকারীর সংখ্যা

৬৮০ পঠিত ... ২১:০৬, জানুয়ারি ০৫, ২০২০

 

বাংলাদেশের তুলনামূলক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও সময়ের সাথে সাথে অনিয়ন্ত্রিত হারেই বেড়ে যাচ্ছে বিসিএস প্রার্থীর জনসংখ্যা। ২০১৮ সালে যেখানে বিসিএস প্রার্থী ছিলো ৪ লাখ ১২ হাজার জন, মাত্র ১ বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজারে।

সর্বশেষ দুই বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিসিএস প্রার্থীর বৃদ্ধির হার বছরে ১৫.২৯ শতাংশ। ইংরেজ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুযায়ী, এই সংখ্যা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে তাহলে ২০৪৯ সালের মধ্যে বিসিএস প্রার্থীর সংখ্যা বাংলাদেশের জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

টমাস রবার্ট ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোন দেশের খাদ্যশস্যের উৎপাদনে গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায় (১,২,৩,৪,৫...), তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (২,৪,৮,১৬,৩২...)। বিসিএসে আবেদন করা সবাই যেহেতু মানুষই (কেউ কেউ এলিয়েন বলে, কিন্তু এলিয়েনরাও তো মানুষই) সেহেতু বলাই যায়, আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। 

এ বিষয়ে দুইবার বিসিএসে অকৃতকার্য হয়ে তৃতীয়বারের প্রস্তুতি নেয়া এক  বিশিষ্ট বিসিএস স্পেশালিষ্টের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এটা একটা আতঙ্কের খবর। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির লাগাম এখনই টানা উচিত।'

কীভাবে লাগাম টানা যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'স্নাতক পাস করে প্রথম বছরেই কেউ বিসিএস দিতে পারবে না, তাকে অন্তত দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে অথবা আবেদন করার পরেই তাদের ফেল ঘোষণা করা হবে; এমন সিস্টেম রাখা যেতে পারে। সুযোগ দিতে হবে আমাদের মত অভিজ্ঞদের। অন্তত দুইবার বিসিএস ফেল করা ছাড়া কেউ যেন বিসিএসে আবেদনই করতে না পারে।'  

বিসিএস বিশেষজ্ঞের এই পরামর্শ নিয়ে এ বছরই প্রথম বিসিএসে আবেদন করা নব্য প্রার্থী সোহাইল শিকদারের কাছে গেলে তিনি এমন বিস্ফোরণের জন্য উলটো  এই বিসিএস বিশেষজ্ঞদেরই দায়ী করেন। সোহাইল শিকদার বলেন, 'এই ধরনের অযোগ্য লোকদের জন্যই আমাদের বদনাম হয়। যে লোক একবারে কিছু পারে না সে ১০০ বারেও পারবে না। উলটো এরা এসে এসেই আমাদের উপর চাপ বাড়ায়।' 

দুপক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আমরা হতাশ হয়ে বিসিএস মন্ত্রণালয় নামে খ্যাত পিএসসি-এর কাছে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত এই বৃদ্ধির হারের কথা জানালে পিএসসির এক কর্মকর্তা শুরুতেই ক্যালকুলেটর নিয়ে বেশ কিছু জটিল হিসেব করতে থাকেন। এরপর বেশ হাসি হাসি মুখ করে তিনি আমাদের বলেন, 'এটা বেশ ভালো খবর। বাড়তে দেন। বাড়বে যখন, শুধু জিডিপি কেন? সবকিছুই বাড়া উচিত। আবেদন এমন জ্যামিতিক হারে বাড়লে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কী হারে বাড়বে তা নিয়েই ভাবতে দেন আমাদের।'

৬৮০ পঠিত ... ২১:০৬, জানুয়ারি ০৫, ২০২০

Top