কুড়িগ্রামে নারী সাংবাদিকদের কর্মশালায় নারীরা 'প্রেজেন্টেশন হয়রানি'র শিকার

৪৩৮ পঠিত ... ১৪:৪৮, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

সম্প্রতি কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত নারী সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক কর্তৃক প্রেজেন্টেশন হয়রানির শিকার হয়েছেন উপস্থিত নারী সাংবাদিকগণ। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম আলোচ্য হয়রানির ঘটনা ঘটান। তিনি তার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থিত নারী সাংবাদিকদেরকে যৌন হয়রানি থেকে 'বাঁচার শিক্ষা' দিতে গিয়ে এমন কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করেন, যেগুলো উপস্থিত নারীদের জন্য ছিলো হয়রানিমূলক। জনৈক নারী সাংবাদিক অবশ্য এটাকে কর্মশালা বলতে নারাজ। তিনি এটার নাম দিয়েছেন 'হয়রানিশালা'।

উক্ত কর্মশালা ওরফে হয়রানিশালায় অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম নারী সাংবাদিকদের হয়রানি থেকে বাঁচতে ভেজা চুলে বাইরে বের না হওয়া, বিয়ের আংটি পরে রাখা (বা রিং ফিংগারে কোনো আংটি পরে থাকা), বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা, দামি অলংকার না পরে থাকা ইত্যাদি পরামর্শ দেন। যৌন হয়রানি এড়াতে একজন নারীর সাংবাদিকতা করারই দরকার নাই, এই পয়েন্টটি যদিও বাদ পড়ে গিয়েছিল। এই প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অনেকেরই মনে পড়ে গেছে ধর্ষকদের সেই পুরাতন যুক্তি, 'খাবার খোলা থাকলে মাছি তো বসবেই...'

সবাই যে যৌন হয়রানি এড়ানোর এই সাংবাদিক ম্যানুয়ালের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন, এমনটা নয়। ড. নজরুলের এই এন্টি-যৌন হয়রানি ম্যানুয়ালে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়ে একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন ধর্ষকদের সংগঠন 'বাংলাদেশ ধর্ষক কমিটি' বা 'বাধক'। বাধকের সভাপতি পরিমল ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম আশরাফ স্বাক্ষরিত সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এতদিন ধরে এইটাই তো বলতেছি মিয়া! এই প্রথম একজন জ্ঞানীগুণী মানুষ আমাদের কথাটা বললো। আমরা নজরুল স্যারের শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সহমত। আমরা রাস্তায় বের হয়ে দেখি কোন নারীর ভেজা চুল, কার আঁটোসাটো পোষাক, কার বিয়ের আংটি নেই৷ এইগুলা ঠিকঠাক না থাকলে তো যৌন হয়রানি করা যাইতেই পারে।'

নারী সাংবাদিকতায় এ এক মাইলফলক, এমনটা উল্লেখ করে ধর্ষক কমিটির সভাপতি পরিমল বলেন, 'আশা করছি এই ম্যানুয়াল ফলো করে দেশে নারী সাংবাদিকরা সেফ এন্ড সাউন্ড থাকবে। এগিয়ে যাবে আগামীর পৃথিবীর দিকে। সেই আগামীর আদর্শ পৃথিবী, যেখানে "যৌন হয়রানি হইতেই পারে" বলে নারীকে নিজের পোশাক, আচরণ ও চলাফেরাবিধি সেট করতে হবে। আমরা সেই পৃথিবীরই স্বপ্ন দেখি, যেখানে পুরুষ কোনো কারণে আকর্ষিত হলেই যৌন হয়রানি করতে পারে এ ব্যাপারটা সবাই মেনে নিয়েছে, এমনকি সাংবাদিকরাও।'

তাহলে হিজাব পরা নুসরাত, তনু, বা ছোট বাচ্চারা কেন ধর্ষণের শিকার হয় জানতে চাওয়া হলে তাদের মুখপাত্র অধ্যাপক সিরাজউদ্দৌলা বলেন, 'ঐ সময় আমরা ঘুমে থাকি। আমাদের হিসাব থাকে না।'

এ বিষয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন নারী সাংবাদিকদের রিং ফিংগারে আংটি আছে কিনা তা নিয়ে গবেষণায় একটু ব্যস্ত আছেন। এ সব সতর্কতা মেইনটেইন করে না চললে কি যৌন হয়রানির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়? নজরুল ইসলাম স্যারের একজন ক্লোজ জুনিয়র কাছে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি eআরকিকে বলেন, 'রাস্তার পাশে খোলা হাড্ডি পড়ে থাকলে কুকুর তো হামলা করবেই।'

তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মুষড়ে পড়েছেন স্বয়ং নারীজাগরণের অগ্রদূত। একটি অলৌকিক (নাকি পারলৌকিক) বিশেষ বার্তায় তিনি জানান, 'আমার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং সেখানকার টিচার নারী সাংবাদিকদের এসব শেখাবে তা আগে জানলে কখনোই আমার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হতে দিতাম না।'

৪৩৮ পঠিত ... ১৪:৪৮, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

Top