তেলপড়া ও পানিপড়া দেয়ার ওয়াইফাই প্রযুক্তি আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি কবিরাজ

৬৯৪ পঠিত ... ১৫:০৮, নভেম্বর ১২, ২০১৯

প্রযুক্তির এই রমরমা যুগে আমরা আমাদের শেকড় থেকে সরে যাচ্ছি বলে নানান আফসোস ও অভিযোগ শোনা যায় দেশের মানুষের। অতঃপর চিকিৎসাবিজ্ঞানে মিললো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ডাবল শক্তি, আধুনিক প্রযুক্তি ও সনাতন বাংলার ঝাড়ফুঁক-পানিপড়া চিকিৎসার একটা বিশেষ মেলাবন্ধন ঘটিয়ে পানিপড়া দেয়ার ওয়াইফাই প্রযুক্তি নিয়ে আসলেন কিশোরগঞ্জের কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়া। তার এই ডিজিটাল আধ্যাত্মিক ওয়াইফাই রাউটার দেখতে মাইক সদৃশ, এবং এই রাউটার থেকে ডাটা বের না হয়ে আধ্যাত্মিক ফুঁ বের হয়।

গত ১০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার, চরপলাশ গ্রামে সবুজ মিয়ার ওয়াইফাই প্রযুক্তির পানিপড়া নিতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করেও হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। হাজার মানুষের সবাইকে যেহেতু এক এক করে বোতলে ফুঁ দেয়া সম্ভব না তাই তিনি সবাইকে বোতল উঁচিয়ে ধরলে বলেন। এরপর নিজের আবিষ্কার করা ডিজিটাল আধ্যাত্মিক ওয়াফাই রাউটারের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ফুঁ দিয়ে পুরো এলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মতো একটি আধ্যাত্মিক ফুঁ ক্ষেত্রে রূপান্তর করেন। এবং জানান, যতদূর পর্যন্ত এই ফুঁ-ক্ষেত্র বিদ্যমান ততদূর পর্যন্ত সব বোত, তেল ও পানি পড়ার সমান সুফল পাবেন।

ওই সমাগমে ছিলেন আমাদের প্রতিনিধিরাও। আমাদের লক্ষ্য ছিলো কবিরাজের এই আধ্যাত্মিক ওয়াইফাইয়ের সাথে আমাদের দুর্বল ওয়াইফাইগুলারে একটু মার্য করে অধিক শক্তিশালী কোন রাউটার বানিয়ে অন-অফের মোটিভেশন থেকে জাতিকে রক্ষা করা। সেজন্যই পানি পড়ার চেয়ে তাদের বিশেষ নজর ছিলো কবিরাজের আধ্যাত্মিক ওয়াইফাই রাউটারের প্রোটোটাইপের দিকে।

ফুঁ কার্যক্রম শেষে আমরা কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়ার কাছে প্রোটোটাইপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নতুন বোতলে পুরোনো একটা গল্প শোনান। তিনি জানান, জঙ্গলে কাঠ কাটতে কাটতে কুড়াল হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু ওই পুকুর থেকে একটা পরী উঠে তাকে কুড়াল না দিয়ে দিয়েছিলেন বিশেষ আধ্যাত্মিক ওয়াইফাইটি। পরী আরও বলেছেন, 'কাঠ কাটা অনেক কষ্ট। তোদের কষ্ট আমার সহ্য হয় না। গল্পে সোনা দিতে দিতে আমার সোনার স্টক শেষ। তবে মানুষের কাছ থেকে সোনা হাঁকিয়ে নেয়ার একটি টোটকা দিলাম তোকে।'

আমরাও এমন কিছু পাবো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কাঠ কাইটা দেখতে পারেন। পরী আইলেও আইতে পারে।'

ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও কী কী নতুন প্রযুক্তি আনতে চান, এমনটা জানতে চাইলে কবিরাজ জানান, 'থ্রিডি ঝাড়ফুঁক আর তড়িৎচুম্বকীয় বল ব্যবহার করে রোগ সনাক্ত করার প্রযুক্তি আনার ইচ্ছা আছে।' পানিপড়া আর তেলপড়ার ক্ষেত্রে পানি আর তেল ছাড়াই পানিপড়া/তেলপড়া দেয়ার প্রযুক্তি আবিষ্কারের চেষ্টাও চালাচ্ছেন বলে জানালেন।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা আর কাঠ কাটার রিস্কে যেতে চায়নি। তবে আসার সময় পানিপড়ার সুফল সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন কয়েকজনের কাছে। এদের মধ্যে একজন জানান, 'আমার হার্ট, লাংস, কিডনি, লিভার একটাও নাই। তাও আমি কবিরাজ বাবার ফুঁ খেয়ে বেঁচে আছি।' 'আপনার বোতল তো কানায় কানায় পুরো, পানি খেলেন কখন?' আমাদের প্রতিনিধির এমন জিজ্ঞাসায় সুফল পাওয়া ভদ্রলোক একটা ধমক দিয়ে বলেন, 'হুর মিয়া। পানি খাইতে হইবো কিয়েল্লাইগা? বাতাসে লেগে থাকা হুজুরের ফুঁ নিশ্বাসের লগে ভিত্রে ঢুকছে না!?'

ফেসবুকে হুজুরের এই আধ্যাত্মিক প্রযুক্তি ও সনাতন বাংলার ঝাড়ফুঁকের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ফেসবুক লাইভে এসে ঝাড়ফুঁক দিয়ে দেশের সব মানুষকে আবিষ্কারের সুফল দেয়ার জন্য হুজুরের কাছে দাবি রাখেন। একজন নিজের ওয়াইফাই রাউটার নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে হুজুরের আইডি মেনশন করে করে বলেন, 'হুজুর আমার এই ওয়াইফাই এর হার্ট দুর্বল। কিছুক্ষণ পর পরই নিস্তেজ হয়ে যায়। আপনি এর দিকে তাকিয়ে একটু ফুঁ দিয়ে দেন না!'

এভাবে অনেকেকে হুজুরকে ডিস্টার্ব করলে হুজুর লাইভে এসে বলেন, বাসার ওয়াইফাইয়ের মতো ছোট খাটো বিষয় নিয়ে উনি ভাবছেন না। দেশের সব মেডিকেল কলেজের আধুনিক চিকিৎসার সাথে তার আধ্যাত্মিক ওয়াইফাই ও আধ্যাত্মিক ফুঁ মিলিয়ে একটা ঝাঁড়ফুক চিকিৎসা বিভাগ খোলার ব্যাপারে কাজ করছেন বলে তথ্য দিলেন তিনি।

৬৯৪ পঠিত ... ১৫:০৮, নভেম্বর ১২, ২০১৯

Top