গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে নানান প্রশ্ন

৫৭৮ পঠিত ... ২০:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?’ ফেসবুকে এমন একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে। এছাড়াও ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করায় বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয় একাধিক শিক্ষার্থীকে। তার উপর জিনিয়ার সাথে বশেমুরবিপ্রবি-র ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিনের একটি ফোনালাপ প্রকাশিত হলে তাতে শোনা যায়, উপাচার্য অকথ্য ভাষায় কথা বলছেন জিনিয়ার সাথে। এরপর থেকেই ফেসবুকে জুড়ে চলতে থাকে সমালোচনা। অনলাইন ও অফলাইনের প্রতিবাদে অবশেষে জিনিয়ার বহিস্কারাদেশ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন ১৪টি সিদ্ধান্ত নেয়। তার মাঝে দুটি সিদ্ধান্ত ছিল এমন, ফেসবুকে লেখার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না এবং কোন অভিভাবককে ডেকে অপমান করা হবে না। খবর: প্রথম আলো।

নতুন এসব সিদ্ধান্ত জানার পর থেকেই সাড়া পড়ে গেছে বশেমুরবিপ্রবি-র শিক্ষার্থীদের মাঝে। উপাচার্য ও কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ। আনন্দিত এক পলিটিকাল ছাত্র eআরককিকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও বাকস্বাধীনতার মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সিদ্ধান্ত ইতিহাসে এক বিশাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশ্বের সকল ভার্সিটির কাছে একটি আদর্শ হয়ে থাকবে এটি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এসব তথ্যের কথা জানতে পারে, তাহলে তারা ছুটে ছুটে আসবে গোপালগঞ্জের পানে। গিনেজ বুকে নাম ওঠাটাও সময়ের দাবি।’ এ ব্যাপারে তারা একটি অক্সফোর্ডের উপাচার্যের সাথে কথা বলছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। 

আনন্দ প্রকাশ করে অন্য এক শিক্ষার্থী eআরকিকে বলেন, ‘প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই নিজস্ব নাপা ভবন আছে। আমাদের ভার্সিটিতেও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, এটি খুব আনন্দের সংবাদ। তবে নাপা পুরনো ওষুধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, এটিকে যেন ‘এইস সেন্টার’ করা হয়।’ তবে অনেকেই দ্বিধায় পড়েছেন সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে। এক ছাত্র বলেন, ‘ফেসবুকের স্ট্যাটাস কমেন্ট নিয়ে কাউকে প্যারা দিবে না, সেইটা শুনলাম! কিন্তু ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, টিন্ডার এসবের ব্যাপারে কিছু বলা হয় নাই! সেইখানে কিছু বললে কি আমাদের বহিষ্কার করা হবে?’ 

তবে সাধারণ মানুষের মাঝে পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক ব্যক্তি eআরকির দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘শুনলাম ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর অভিভাবক ডেকে অপমান করা হবে না! তাহলে কি এতদিন ধরে ঐ ভার্সিটিতে অভিভাবকদের ডেকে অপমান করা হতো?’ তবে ‘শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের ক্ষোভ একাডেমিক জীবনে প্রভাব ফেলবে না’ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য এক ব্যক্তি eআরকিকে বলেন, ‘স্যাররা যদি শাসন না করে, তাইলে করবে কে? ভার্সিটিতে এইসব নিয়ম থাকা অনুচিত।’ জিনিয়ার সাথে ভিসির কথোপকথনের বিষয়টি নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এইটা কোন ইস্যু হইতে পারে না। এত বড় টিচার হইছে একজন। সে শাসন কইরা দুই চারটা গালাগালি দিতেই পারে! তাতে এত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কী হইল? এইভাবে তো শিক্ষা হবে না!’

এ পর্যায়ে ভিসি সাহেবকে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে 'বাংলার গালি বয়' উপাধিতে ভূষিত করেন।

৫৭৮ পঠিত ... ২০:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

Top