মেসি মাত্র ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের ক্লাবগুলোতে তোলপাড়

৩১১ পঠিত ... ২১:২৫, আগস্ট ০৭, ২০১৯

গত কয়েক মাস ধরে গরু জগতের বৃহত্তম তারকা গরু ‘মেসি’ বসিলার সাদেক এগ্রো থেকে বিক্রি হয় ২৪ লাখ টাকায়। মেসি বিক্রির খবরটি বাংলাদেশি গরুর বাজারে মোটামুটি সাড়া ফেললেও, তোলপাড় হয়ে গেছে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের বাজারে। ২৪ লাখ টাকায় মেসির ট্রান্সফারের খবরে ইংল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স এমনকি আমেরিকার ফুটবল ক্লাবগুলোর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। 

ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে এখন খোলা আছে ট্রান্সফার মার্কেট। প্রতিদিনই বিলিয়ন ডলারের বেচাকেনা হচ্ছে ফুটবল তারকাদের সেই হাটে। ট্রান্সফারের বাজারে যখন রমরমা অবস্থা তখনই আচমকা মেসি ট্রান্সফারের খবরে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন ক্লাবের কর্তাব্যক্তিরা। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মালিক শেখ মনসুর বিন যায়েদ আল নাহিয়ান একটি টুইটে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ওর জন্য ডলারের বস্তা নিয়ে বসেছিলাম। মেসির কাছে আমার অসংখ্য ব্ল্যাংক চেক এখনো জমে আছে। অথচ ও কিনা মাত্র ২৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে গেল! ছিহ!’

ক্লাবটির কোচ পেপ গার্দিওলাও বিস্মিত। গোল ডট কমকে দেয়া এক বিবৃতিতে মেসির এই সাবেক কোচ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি যখন বায়ার্নে গেলাম তখন ওকে বলেছিলাম, ফলো মি! লিও শোনেনি। যখন সিটিতে আসলাম তখনো লিও আমার কথা শোনেনি। ও বলেছিল, বার্সাতেই ও থেকে যাবে আজীবন। অথচ আজ শুনি সে নাকি ঢাকায়! ওকে আমার সাবেক শীষ্য বলতেও এখন বাধছে। যেখানেই যাক, ও ভালো থাকুক!’

একইরকম চাঞ্চল্য দেখা গেছে, আরব টাকায় বড় হওয়া অন্যান্য ইউরোপিয়ান ক্লাবেও। ফ্রান্সের পিএসজি থেকেও বেশ কয়েকবার মেসিকে কেনার ইচ্ছা পোষণ করা হয়েছিল। মাত্র ২৪ লাখ টাকায় মেসির বিক্রি হওয়া নিয়ে ক্লাবটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মেসিকে অফার করেছিলাম ২৪০ মিলিয়ন ডলার, অথচ সে কিনা মাত্র টু পয়েন্ট ফোর মিলিয়ন ডলারে চলে গেল ঢাকা এফসিতে?’ এ সময় পাশ থেকে একজন ডলার নয়, টাকার ব্যাপারটি মনে করিয়ে দিলে মূর্ছা যান এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের মাঝে দেখা গেছে প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস। রোনালদো জুভেন্টাসে চলে যাবার পর এমনিতেই দুই ক্লাবের মাঝে ভারসাম্যের আকাশ-পাতাল ফারাক হয়ে পড়েছিল। মেসির ট্রান্সফারে তাই স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত মাদ্রিদ ফ্যানরা। এ ব্যাপারে সাবেক মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মন্তব্য চেয়েও পাওয়া যায়নি। 

তবে ইউরোপিয়ান ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকেই সন্দিহান ঢাকায় মেসির পারফরম্যান্সের ব্যাপারে। তাদের ধারণা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন না মেসি। কিন্তু মেসি কী করে ঢাকায় এলেন সেটি নিয়েও কৌতূহলী হয়ে পড়েছেন সবাই। অনেকের ধারণা, ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে যখন মেসি এসেছিলেন ঢাকায় এক প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে তখনই ঢাকা এফসির সাথে তার একটি মৌখিক চুক্তি হয়ে যায়। 

এই শোরগোল পৌঁছে গেছে সুদূর স্পেনে লিওনেল মেসির কান পর্যন্তও। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি বার্সেলোনাতেই আছি, কোথাও ট্রান্সফার হইনি। আমার কেনাবেচার যা খবর শুনছেন, সবই গুজব! মাদ্রিদিস্তারা এমন গুজব ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

অবশ্য ইউরোপের কেউ কেউ ঢাকার মেসি নামক গরুর সত্যিকারের রূপ জানতে পেরে ফেলেছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। ইউরোপে মেসিকে অনেকেই বলে থাকেন ছাগল অর্থাৎ GOAT- Greatest of all Time. তাই বাংলাদেশে গরু মেসির খোঁজ পেয়ে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মেসিকে দেখতে।

৩১১ পঠিত ... ২১:২৫, আগস্ট ০৭, ২০১৯

Top