হেলমেট, রড ও হাতুড়ির পর আত্মপ্রকাশ করলো নতুন অস্ত্র ডিম

২১০৮ পঠিত ... ১৯:৫৩, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গন্ডগোলে আমরা দুর্বৃত্তদের দেখেছি রড, লাঠি, হাতুরি, হেলমেট ইত্যাদি নিয়ে অ্যাকশনে নামতে। কিন্তু গত ২ এপ্রিল আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক অস্ত্রকে আত্মপ্রকাশ করতে দেখা গেছে।

১ এপ্রিল (সোমবার) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল (এসএম হল) ছাত্র সংসদের ভিপি ফরিদ হাসানকে মারধোর করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর ফরিদের ডান কপাল থেকে ডান কান পর্যন্ত ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এসএম হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজার ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ফরিদকে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে৷ এই নৃশংসতার বিচার চেয়ে ২ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ডাকসুর ভিপি নুরুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে যান। সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হতে হয় প্রতিবাদকারীদের। মারধোরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। খবর: প্রথম আলো।

ডিমকে আমরা অনাগত মুরগি কিংবা ব্যাচেলরদের প্রধান খাবার হিসেবেই জানি। কিন্তু অস্ত্র হিসেবে ডিমের ব্যবহার বাংলাদেশে কখনো দেখা যায় নি। ভাইদের হাতে রড, হাতুরি, লাঠিসোটার বদলে ডিম এল কেন- তা জানতে পেঁয়াজ মরিচ হাতে মাঠে নামে eআরকি ডিম বিশেষজ্ঞ দল।

সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিতে ডিমের খোঁয়াড়ে হাত পেতে রাখা এক ‘ভাই’কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদের বলেন, ‘হামলা তো ভাই কম করলাম না। এইসব হেলমেট, লাঠিসোঁটা, হাতুরি রড নিয়ে মারামারি করতে প্রচুর ঝামেলা। তার উপর রুমের মধ্যে এগুলা রেখে দিলে কর্তৃপক্ষ রেইড দিয়ে সব নিয়ে যায়। এসব চিন্তা করে আমরা ডিমাক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভারি ভারি লাঠিসোঁটা ক্যারি করার ঝামেলা নেই, টুপ করে পকেটে এক হালি ডিম নিয়েই ডাইরেক্ট অ্যাকশনে নামা যায়। আর রুমে চেক করতে আসলে ডিম দেখে কিছু বলতেও পারবে না কেউ। রাতে ক্ষুধা পেলে চটপট ডিম ভেজেও খেয়ে নেয়া যায়। ডিম জিনিসটা খাওয়াও যায়, মারাও যায়- কমপ্লিট একটা প্যাকেজ।’

ডিম পাড়া এক মুরগির পেছনে ছুটতে থাকা জনৈক প্রাক্তন হেলমেট স্পেশাল ফোর্সের সদস্যকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাদের বলেন, ‘ইদানিং শুনতে পাচ্ছি, অছাত্রদের হল থেকে বের করে দেয়ার জন্য জোরেশোরে প্রচারণা চলছে। কিন্তু হলে থাকা এই বহিরাগতরা তো ছাত্র নয়ই, তারা মানুষও নয়। তারা আসলে আমাদের হলে থাকা মুরগি। ডিমের এই ফ্রেশ সোর্সকে কেন হলে থাকতে না দিয়ে ছাত্রদের প্রোটিনের সাপ্লাই থেকে বঞ্চিত করা হবে, তা নিয়ে আমরা ক্ষুব্ধ। তাই গতকাল আমরা এলোপাথাড়ি ডিম ছুঁড়ে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে সারা দেশকে জানানোর চেষ্টা করেছি।’

এ ব্যাপারে একজন ডিম্বাকৃতির ডিমভক্ত ছাত্র আমাদের জানান, ‘ভাই, আমরা স্টুডেন্ট মানুষ, ডিমের উপরেই চলি। খাওয়ার জন্য ডিম কিনতেই দামের ধাক্কায় হিমশিম খাই, আর এখন শুনছি হামলা করার জন্য ডিম ব্যবহার করা হবে। ডিমের হালি কত দামে এখন বিক্রি হয়, তা নিয়ে তো ভাবতেও ভয় লাগছে। তার উপর ভেজে খাওয়ার জন্য ডিম রেখে দিলে কিছু সহমত ভাই আমাদের ডিম রিকুইজিশন করে নিয়ে যায় হামলা চালাতে। খাবার জিনিস এভাবে তো নষ্ট না করলেও তারা পারে!’

২১০৮ পঠিত ... ১৯:৫৩, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

Top