দশটি ‘অরাজনৈতিক’ কৌতুক

১২৫১ পঠিত ... ১৭:৩০, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২২

orajnoitik-koutuk

 

১# মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কলিন পাওয়েল সারাদিন বসে মিটিং করছেন। মিটিং এর আশেপাশে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। সারাদিন বুশ আর পাওয়েলের কোনো খবর নেই দেখে একসময় ত্যক্তবিরক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়ে বললেন, ‘আমি কি জানতে পারি কি নিয়ে আপনাদের এত আলোচনা?’ বুশ ভুরু কুঁচকে বললেন, 'চেনি আমরা এতক্ষন প্ল্যান করছি কীভাবে এক লক্ষ ইরাকি এবং একজন সাইকেল মেকানিককে খুন করা হবে।' অবাক হয়ে ডিক চেনি জানতে চাইলেন, সাইকেল মেকানিককে হত্যা করা হবে কেন?

এবার প্রেসিডেন্ট বুশের মুখে হাসি ফুটলো। তিনি উৎফুল্ল গলায় কলিন পাওয়েলকে বললেন, ‘দেখেছো পাওয়েল, আমি বলেছিলাম না এক লক্ষ ইরাকিকে হত্যা করা নিয়ে কেউ চিন্তিত হবে না?’

 

২# বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি মেলা বসেছে। মেলায় মানব দেহের বিভিন্ন সেকেন্ড হ্যান্ড অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নিজ নিজ পছন্দমতো অঙ্গগুলো কিনে যার যার দেহে ফিট করে নিচ্ছে। এই মেলায় এক ভদ্রলোক এসেছেন নিজের জন্য মগজ কিনতে। মগজের স্টলে গিয়ে তিনি প্রথমেই দেখলেন একটি গাঢ় খয়েরি রঙের মগজ। স্টলের লোকজন মগজটির গুণগান করে বললো এ মগজটি আইন্সটাইনের। খুব সস্তায় ছেড়ে দেবো আমরা। মাত্র দু’শ ডলার। ক্রেতা মগজটি নেড়ে চেড়ে দেখলেন, কিন্তু আইন্সটাইনের মগজ নিজের মাথায় ফিট করার ব্যাপারে তার উৎসাহ দেখা গেলো না।

এবারে স্টলের লোকজন নিয়ে এলেন একটি কালচে ধরনের মগজ। ক্রেতাকে আকর্ষণ করার জন্য বললেন, ‘এই মগজটি লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির, আপনাকে মাত্র দেড়শ ডলারে এই মগজটি বিক্রি করে দেবো।‘

কিন্তু ভিঞ্চির মগজের চেয়ে খানিক দূরে আরেকটি মগজের দিকে নজর গেলো ভদ্রলোকের। আঙুল তোলে বললেন ওই মগজটির দাম কত? স্টলের লোক একটু দ্বিধার সুরে বললো, ‘ঐ মগজটি কি আপনি কিনতে পারবেন স্যার? ওটার দাম বিশ হাজার ডলার।‘ বলে কী! মগজটি কার? সেলসম্যান উৎসাহ নিয়ে জবাব দিলো, ‘এই মগজটি ছিলো স্যার তৃতীয় বিশ্বের এক স্বল্পোন্নত দেশের নেতার। চল্লিশ বছর পুরনো মগজ, কিন্তু একেবারে ফ্রেশ। ওসব দেশের নেতাদের মগজ সারাজীবন-ই অব্যবহৃত থাকে কি না।‘

 

৩# এক নেতা এক ভদ্রলোককে রাজনীতিতে নামানোর জন্য ফুসলাচ্ছেন। কিন্তু ভদ্রলোক কোন অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলে নাম লেখাতে চাচ্ছেন না। তিনি নেতাকে বললেন, ‘দেখুন ভাই, আমার বাবা কোনদিন রাজনীতি করেন নি। আমার দাদাও কোনোদিন রাজনীতি করেন নি। আমরা ছাপোষা মানুষ, রাজনীতি আমাদের জন্য নয়।‘ এই কথা শুনে নেতা দমলেন না একটুও। স্বভাবসুলভ বাকপটুতায় বললেন, ‘তাতে কী হয়েছে? ধরুন আপনার দাদা গরু চোর ছিলেন, আপনার বাবাও গরু চোর ছিলেন, তাই বলে কি আপনিও গরু চোর হবেন?’

খানিক ভেবে এবার জবাব দিলেন ভদ্রলোক, কী’ যে বলেন, তৃতীয় প্রজন্মে আমি নির্ঘাত রাজনীতিবিদ হতাম।‘

 

৪# পশ্চিমা এক দেশে নতুন মডেলের লেক্সাস গাড়িতে অটো মিউজিক সিস্টেম লাগানো হয়েছে। গাড়িতে চড়ে শুধু মুখে বললেই হলো, স্পীকারে সেই পছন্দের গানটি বাজতে শুরু করে।  

এক ভদ্রলোক তার ভদ্রলোক তার এই নতুন গাড়ি চড়ে হাওয়া খেতে বেরিয়েছেন। তিনি প্রথমে বললেন গজল। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো মেহেদী হাসানের গজল। চমৎকৃত হয়ে ভদ্রলোক কিছুক্ষণ পর বললেন, ‘রক। এবার ধুমধাম শব্দে শুরু হলো মাইকেল জ্যাকসনের গান। হঠাৎ করেই ভদ্রলোকের গাড়ির রঙ সাইড দিয়ে হুশ করে বেরিয়ে গেল আরেকটি গাড়ি। অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে বাঁচতে ভদ্রলোক ছুটে যাওয়া গাড়ির ড্রাইভারের উদ্দ্যেশ্যে গালি দিয়ে উঠলেন, ‘ইডিয়ট।‘

এবার মিউজিক সিস্টেমে বেজে উঠলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষণ।

 

৫# সমুদ্রে তিন হাঙর তাদের খাওয়া দাওয়া নিয়ে গল্প করছে। প্রথম হাঙর বললো, ‘আমি গতকাল খেয়েছি এক আফগান নেতাকে। ব্যাটা এতো আদা খেতো যে, আমার এখন পর্যন্ত ঢেঁকুর উঠছে।‘ দ্বিতীয় হাঙর বললো, ‘আমি গতকাল খেয়েছি এক রাশিয়ান দোকানদারকে। তার রক্তে এতো ভোদকা ছিলো যে, এখন পর্যন্ত আমার নেশা নেশা লাগছে।‘ এবার তৃতীয় হাঙরটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, ‘ভাইরে আমি গত সপ্তাহে খেয়েছি এক মন্ত্রীকে। ব্যাটার মাথার মধ্যে বাতাস ছাড়া আর কিছু নেই। এক সপ্তাহ ধরে তাই ভেসে আছি, ডুবতে পারছি না।‘

 

৬# দেশের সেরা দশজন রাজনীতিবিদ নিয়ে দূর গ্রামে বিদ্ধস্থ হয়েছে একটি হেলিকপ্টার। খবর পেয়ে রাজধানী থেকে উদ্ধারকারী দল রওনা দিয়ে, সেখানে পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো। জায়গা মতো পৌছে তারা দেখলো, দশটি সারিবদ্ধ কবর। গ্রামবাসী ইতিমধ্যেই দশ রাজনীতিবিদকে দাফন করে ফেলেছে। উদ্ধারকারী দলের নেতা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, ‘কী আর করা।‘ এবার তিনি পাশে দাঁড়ানো এক গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করলেন 'সকলেই কি সঙ্গে সঙ্গে মারা গিয়েছিলেন?'

লোকটি দাঁত কেলিয়ে বললো, ‘দুয়েকজন কবর দেয়ার আগ পর্যন্ত বলছিলেন, তারা মরে যান নি, বেঁচে আছেন। আমরা তাদের কথা বিশ্বাস করিনি। জানেন তো, পলিটিশিয়ানরা প্রায়ই এ রকম ভূয়া কথা বলে।‘

 

৭# নির্বাচন সামনে রেখে এক রিপাবলিকান আর এক ডেমোক্রেটের মধ্যে গল্প হচ্ছিলো। ডেমোক্রেট বললেন, ‘আমি যখন কোন ট্যাক্সিতে চড়ি, সেই টেক্সি ড্রাইভারের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি, তার ছেলে মেয়ের খবর নেই, তাকে বেশি করে বকশিশ দেই, এবং নামার আগে বলি, ডেমোক্রেটদের ভোট দিও।‘ রিপাবলিকান সমর্থকটি জবাবে বললো, আমি ‘ট্যাক্সিতে উঠেই গালাগালি করি, সিগারেট ধরায়ে ড্রাইভারের মুখে ধোঁয়া ছুড়ে দেই, একটা টাকাও টিপস দেই না, কিন্তু নামার আগে তোমার মতোই বলি, ডেমোক্রেটদের ভোট দিও।‘

 

৮#  : বাবা, আমাদের দেশের পলিটিশিয়ানরা নাকি প্রায় সময়ই মিথ্যে কথা বলেন?

: ছি, বাবা ওনাদের নিয়ে এ রকম কথা বলতে নেই। তারা দেশের গুরুজন, তাদের দোষ ধরতে নেই, ওনাদের গুণকে বড়ো করে দেখতে শিখো। তুমি বরং বলতে পারো যে তারা মাঝে মাঝে সত্য কথাও বলেন।

 

৯#  আচ্ছা, বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা নির্বাচিত হন কী পদ্ধতিতে?

: সদস্যরা নেতা পছন্দ করতে পারেন। এ জন্য আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন নির্বাচন পদ্ধতিটি ব্যবহার করি।

: চমৎকার। কিন্তু সে কী রকম?

: ঐ যে, আদমকে ডেকে বলা হলো, এবার তুমি পাত্রী বাছাই করতে পারো, অথচ ইভই ছিলেন একমাত্র মানবী।

 

১০# রাজনৈতিক কৌতুকের প্রতিশ্রুতিতে আপনি আবার দশটি কৌতুকই শুনতে চাচ্ছেন? আশ্চর্য তো!

১২৫১ পঠিত ... ১৭:৩০, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top