বৃষ্টির দিনের কৌতুক

৮২৭ পঠিত ... ১৬:০২, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২২

Brfisty-diner-koutuk

বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। অনেকক্ষণ বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাঘাটে প্রচুরপানি জমে আছে। কোত্থেকে যেন এক মাতাল চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলছে, ‘কে আছো ভাই? একটু ধাক্কা দাও।‘

মালেক সাহেবের স্ত্রী তাকে ডেকে তুলে বললো, ‘আমার মনে হয় তোমার যাওয়া উচিত।‘

মালেক সাহেব: কিন্তু বাইরে অনেক বৃষ্টি। রাস্তায় অনেক কাদা।

মালেক সাহেবের স্ত্রী: তোমার গত বছরের কাহিনী মনে নাই?

: মনে আছে। কিন্তু এই ব্যাটার গলা শুনে তো মনে হচ্ছে পুরা মাতাল।

: তোমার গলা শুনে সেদিন কি অন্যরা মাতাল ভাবেনি?

গত বছর মালেক সাহেবের স্ত্রীর বাচ্চা হবে। রাতের বেলা হাসপাতালে নিয়ে যাবে। সেদিনও এমন বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেসে যাচ্ছিলো। তাদের গাড়িটা আটকা পড়ে গিয়েছিল কাদায়। অনেকক্ষণ ঠেলেঠুলেও মালেক সাহেব গাড়িটা গর্ত থেকে বের করতে পারছিলেন না। এদিকে তার স্ত্রীর বাচ্চা প্রসবের সময় হয়ে যাচ্ছে। বার বার মালেক সাহেব ধাক্কা মারছিলেন। কিন্তু গাড়িটা বের করে আনতে পারছিলেন না। একসময় হতাশায় তিনি চিৎকার করে কাঁদা শুরু করেছিলেন, ‘ধাক্কা দাও। কেউ একজন এসে ধাক্কা দাও।‘

আশেপাশের বাসা থেকে দুইজন সহৃদয় মানুষ বের হয়ে এসেছিল। নিজেরা ভিজে, কাদায় মাখামাখি হয়ে গাড়িটা বের করে দিয়েছিল ধাক্কা মেরে। আর সেদিন রাতেই তাদের ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছিল। আজকে, বছরখানেক পর, আরেক বৃষ্টির দিনে এক মাতাল চিৎকার করে বলছে, ‘ধাক্কা দাও। আমাকে ধাক্কা দাও।‘

মালেক সাহেব বের হয়ে আসলেন। রাস্তার পাশের লাইটগুলোও নিভে আছে কেন জানি। বেশ অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুধু চিৎকার শোনা যাচ্ছে, ‘ধাক্কা দাও।‘ মালেক সাহেব বললেন, ‘ভাই আপনি কোথায়?’

: এদিকে আসেন।

মালেক সাহেব সামনে এগিয়ে গেলেন।

: বাগানের ভিতর আসেন।

মালেক সাহেব বাগানে ঢুকে পড়লেন, ‘ভাই, আপনাকে দেখছি না তো!’

: ভাই, টবগুলার পাশে আসেন।

মালেক সাহেব টবের পাশে গেলেন।

: ভাই ,আপনার মত মানুষ হয় না। আসেন, একটু ধাক্কা দেন তো। অনেকক্ষণ দোলনায় বসে আছি। এত ডাকছি। কেউ ধাক্কা দিতে আসে না।

৮২৭ পঠিত ... ১৬:০২, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top