মেরিলিন মনরো; 'সেক্স অবজেক্ট' নাকি 'ক্যারিশমেটিক অ্যাকট্রেস', কোনটা মূখ্য আমাদের কাছে?

৯৬০ পঠিত ... ১৮:০১, অক্টোবর ০৫, ২০২২

Blonde

২০২২ সালে মোস্ট অ্যান্টিসিপেটেড সিনেমাগুলোর একটি ছিলো মেরিলিন মনরোর বায়োপিক ‘Blonde’। জয়েস ক্যারোল ওটসের একই টাইটেলের ১১১০ পৃষ্ঠা বই থেকে ২ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট রানটাইমের বিশাল এই মিজারেবল, আনআর্টিকুলেটেড,ট্র্যাশ সিনেমাটি বানিয়েছেন নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ম ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু ডমিনিক।

মেরিলিনের চরিত্রে অভিনয় করা কিউবান অভিনেত্রী আনা দে আর্মাসের ২০২৩ সালে 'বেস্ট অ্যাক্ট্রেস ইন আ লিডিং রোল' ক্যাটাগরিতে অস্কার পাবার ঝিমঝিমে সম্ভাবনা আছে। তিনি তার সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলে মনে হলো। নয় মাস তিনি ব্যয় করেছেন কেবল আমেরিকান অ্যাকসেন্ট শিখতেই। উইনার না হলেও চমৎকার অভিনয়ের জন্য সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে অন্তত অস্কার নমিনেশন তিনি পেতে পারেন। ২০১০ সালে এই সিনেমার ঘোষণা দেওয়ার সময় মেরিলিনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শর্টলিস্টে ছিলেন জেসিকা চ্যাস্টেইন ও নাওমি ওয়াটস। এই সিনেমার প্রডিউসার ব্র্যাড পিটও জেসিকা চ্যাস্টেইনকেই মেইন রোলে পছন্দ করেছিলেন। গুড লর্ড, নাওমি এবং জেসিকা দু’জনেই ড্রপ আউট হয় এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে অ্যানা দে আর্মাস।  

হাতে গোনা দুই একটা যে ভালো দিক আছে সেটা প্রথমে বলে যাই। সিনেমাটোগ্রাফি,ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দুটোই বেশ চমৎকার, চোখের এবং কানের আরাম শতভাগ উপস্থিত। তবে যেটা অনুপস্থিত সেটা হচ্ছে মনের আরাম। এই সিনেমার মেজর সমস্যা হচ্ছে,একজন মানুষ, যিনি মেরিলিন মনরোকে একেবারেই চেনেন না, তিনি দেখতে পাবেন শুধুই একজন ইমোশনালি ভালনারেবল, কনফিউজড,  মেজর ডিপ্রেসসিভ ডিসঅর্ডারে ভোগা হলিউডের একটি সেক্সপটকে—যিনি দর্শকের কাছে মেরিলিন মনরো নামে পরিচিত। 

 ১৫-১৬ বছর বয়সী বাবা-মা ছাড়া একটি মেয়ে কীভাবে ফস্টার হোম থেকে মিডিয়াতে গেলো, কী স্ট্রাগল ছিলো সেখানে, কীভাবে তিনি হলিউডের দ্বিতীয় নারী হিসেবে নিজের প্রোডাকশন কোম্পানি চালু করলেন—সেসবের কোনো রিফ্লেকশন নেই।

আমার ধারণা, পরিচালক অ্যান্ড্রু ডমিনিক শাবানার বিশাল ফ্যান। প্রায় তিন ঘণ্টা মেরিলিনের চোখের পানি দেখতে দেখতে মনে হলো,পরিচালক আনা ডে আরমাসের মাধ্যমে মেরিলিনের বদলে শাবানাকেই দেখিয়েছেন। মেরিলিনের গলার স্বর নকল করার ব্যর্থ প্রয়াসের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে অদ্ভুত ফ্যাসফেসে বিভ্রান্তিকর এক ধরনের গলার স্বর ও কথা বলার ভঙ্গি—যা একটু বেশিই মেরিলিনীয়।  

বেশিরভাগ জায়গাতেই মেরিলিনের রগরগে সেক্স লাইফ প্রাধান্য পেয়েছে। সিনেমায় বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, নিজস্ব কোনো ক্ষমতা-যোগ্যতা ছাড়াই শুধুমাত্র ফিজিকাল ইন্টিমেসির মাধ্যমেই তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

অনেক বেশি ইন্টিমেট দৃশ্য থাকায় একে NC-17 (no children 17 and under) রেট করা হয়েছে।

১৯৬০ সালের একটি ইন্টারভিউতে মেরিলিন বলেন, ’Sex was a part of the job. If you didn’t go along, there were 25 girls who would.’

সময়ের সাথে সাথে তিনি এই পরিস্থিতিগুলো সামলে নেওয়া শিখেছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে আসা নতুন মেয়েদের সতর্ক করেছেন, এমনকি পাবলিকলি এসব প্র্যাক্টিসের বিরুদ্ধে তিনি কথাও বলেছেন ।

কলাম্বিয়া পিকচার্সের প্রোডিউসার হ্যারি কোন একবার এক সিনেমার স্ক্রিনিং টেস্টের আগে মেরিলিনকে তার সাথে ইয়াটে (Yacht) করে ট্রিপে যাবার প্রস্তাব দেন। মেরিলিন জানান হ্যারির স্ত্রীও ওই ট্রিপে গেলে তিনি যেতে রাজী আছেন। এরপরই ওই সিনেমাটি তার হাতছাড়া হয়ে যায়।

মনরো তার আত্মজীবনীতে লিখেন, ‘I met them all. Phoniness and failure were all over them. Some were vicious and crooked. But they were as near to the movies as you could get. So you sat with them, listening to their lies and schemes. And you saw Hollywood with their eyes — an overcrowded brothel, a merry-go-round with beds for horses.’

সিনেমায় ফেরত আসি।

সিনেমা এবং বই—দুটোতেই অসংখ্য মানুষের মেরিলিনকে অ্যাসল্ট এবং রেপ করার দৃশ্য থাকলেও এর সত্যতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 'Blonde' বইয়ের লেখক সমালোচনার মুখে পড়ে বলেছেন, তিনি ফিকশনালাইজড একটি বায়োগ্রাফি লিখেছেন। অ্যান্থনি সামারস নামের আরেক ভদ্রলোক জীবিত অবস্থায় মনরোর কাছের এবং পরিচিত ৭০০ লোকের ইন্টারভিউ নিয়ে ‘Goddess: The Secret Lives of Marilyn Monroe’ নামে একটি বই লিখেন। সেখানেও তিনি এ কথা বলেন। তার দেওয়া অনেক তথ্য এবং আর্কাইভ ফুটেজের সাহায্যে এ বছরের শুরুর দিকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং চমৎকার একটি ডকুমেন্টারি ‘The Mystery of Merilyn Monroe:The unheard Tapes’.

সিনেমায় প্রথমেই মেরিলিনের থ্রুপল (Throuple) এবং থ্রিসাম দেখানো হয় চার্লি চ্যাপলিনের ছেলে চার্লি চ্যাপলিন জুনিয়র এবং অভিনেতা এডি রবিনসনের ছেলে এডি জুনিয়রের সাথে। এরপরই হানা দেয় অ্যাবোর্শনের দৃশ্য (বায়োগ্রাফারদের মতে ,মেরিলিনের দু’বার মিসক্যারিজ ও একবার এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হলেও তার কোনো ক্রিমিনাল অ্যাবোর্শন হয়নি। বইয়ের লেখক এবং পরিচালক স্পাইসি করার জন্য অ্যাবোর্শনের গার্বেজ ঘটনাগুলো মাথা থেকে প্রসব করেছেন)

চার্লি চ্যাপলিন জুনিয়র তার আত্মজীবনী ‘My father, Charlie Chaplin’-এ মেরিলিনের সাথে স্বল্প সময় প্রেমের কথা বলেন। আবার ‘Gentlemen Prefer Blondes’ সিনেমা ফিল্মিং এর সময় এডি রবিনসন জুনিয়রের সাথে মেরিলিনের প্রেমের গুঞ্জন আছে । কিন্তু মেরিলিনের বায়োগ্রাফার এবং রেডিওটাইমসের মতে,তাদের দুজনের সাথেই মেরিলিনের আলাদা আলাদা সময় প্রেম ছিলো। থ্রুপলের গ্রাফিকটিও মসলা হিসেবে তারা ব্যবহার করেছেন।

১৬ বছর বয়সে মেরিলিনের (আসল নাম নর্মা জিন বেকার) প্রথম বিয়ে হয় পাশের বাসার জেমস ডগার্টি নামের এক পুলিশ অফিসারের  সাথে। ততদিনে ১১টি ফস্টার হোম বদলানো নর্মা জিন থিতু হবার স্বপ্ন দেখছেন।

কিছুদিন পরই ডগার্টি যখন মেরিনে যোগ দেন, এরপর থেকে তাদের সম্পর্ক নিভতে থাকতে। মেরিলিনও মনোযোগ দেন মডেলিং এর দিকে। এর মধ্যেই ঘটতে থাকে নানা কাহিনী। খুব সম্ভবত বিখ্যাত কেউ না হয়ে পাশের বাসার যদু-মধু হওয়ায় প্রথম স্বামীর কোনো অস্তিত্ব সিনেমায় নেই।

১৯৫৪ সালে বিয়ে করেন বিখ্যাত বেসবল প্লেয়ার জো ডিম্যাজিও-কে। ডিম্যাজিও স্বভাবগতভাবে বেশ পসেসিভ হওয়ায় সে বিয়ে টেকেনি নয় মাসও। 'The Seven Year Itch' সিনেমায় ফ্রক উড়ে যাওয়ার আইকনিক দৃশ্যে ক্ষুব্ধ ডিম্যাজিওর বিরুদ্ধে ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগও এনেছিলেন মেরিলিন। এর কিছুদিনের মাথায়ই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। কিন্তু স্বামী এবং প্রেমিকদের মধ্যে কেউ সত্যিই মেরিলিনকে ভালোবেসে থাকলে তিনি হচ্ছে ডিম্যাজিও। সে কথা পরে আসছে।

বাস্তব মেরিলিন ছিলেন বইপ্রেমী। তবে তার বই পড়ার অভ্যাসের তেমন কোনো প্রতিফলন সিনেমায় দেখা যায় না। দু'একটি জায়গায় মনে হলো তিনি বই নিয়ে জানেন, কিন্তু বইয়ের প্রতি যে প্রেমের টানে তিনি ইয়ুনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় (UCLA) ইভিনিং ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন সাহিত্য পড়তে—সেই প্রেম নেই। নেই সাইকো অ্যানালাইসিস বা রাজনীতির প্রতি তার কৌতূহলও। মেরিলিনের মৃত্যুর সময় তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বিভিন্ন জনরার ৪৩০টি বইয়ের কথা জানা যায়।

মেরিলিন মনরোর তৃতীয় স্বামী নোবেল পুরস্কারজয়ী নাট্যকার আর্থার মিলারের সাথে পাঁচ বছরের সংসার জীবনই ছিলো তার সর্বোচ্চ সময়ের দাম্পত্য জীবন। ১৯৫৬ সালে তাদের বিয়ের সময়ই মানুষ তাদের কাপল হিসেবে বেমানান ভাবতে শুরু করেন। বলা যায় কিছুটা Egghead এবং Hourglass এর মতো। একজন ক্রিয়েটিভ ইন্টেলেকচুয়াল এবং সেক্স আইকনের কেমিস্ট্রি আর কেমনই বা হবে! আর্থার মিলারকে বিয়ের জন্য মেরিলিন জুডাইজম ধর্মেও কনভার্ট হন।

ইংল্যান্ডে 'The prince and the Showgirl (1957)' সিনেমার শ্যুটিং এর সময় মেরিলিন প্লেরাইট মিলারের কিছু লেখা পড়ে ফেলেন কিংবা কে জানে—মিলারই হয়তো চেয়েছিলেন মেরিলিন কথাগুলো জানুক। আর্থার মিলার কিছু কাগজপত্রে মেরিলিন সম্পর্কে লিখেন— 'Pitiable,dependent,unpredictable waif'—যাকে বিয়ের শুরুতে 'অ্যাঞ্জেল' ভাবলেও পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তার ইন্টেলেকচুয়াল বন্ধুদের সামনে মেরিলিনের মতো স্ত্রী'কে নিয়ে বিব্রতও হতেন। মেরিলিন এসব জানতে পেরে আবারও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

ফ্যান এবং বন্ধু বান্ধবদের শঙ্কা সত্যি হয়ে আসে 'The Misfits' সিনেমার শ্যুটিং এর সময়। ততদিনে শিশুপ্রেমী মেরিলিনের দুটি মিসক্যারেজ হয়েছে। অ্যালকোহল, বার্বিচুরেটসহ বিভিন্ন ড্রাগে আসক্ত হয়ে সেটেও আসেন দেরি করে। ফাইনালি আর্থার মিলার ও মেরিলিন মনরোর ডিভোর্স হয় ১৯৬১ সালের ২০ জানুয়ারী।

সেদিনই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জন এফ কেনেডির প্রথম দিন হওয়ায় রাজধানীতে জমা হয় প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ । সৌভাগ্যক্রমে,কেনেডির আড়ালে চাপা পড়ে মেরিলিনের ডিভোর্সের সংবাদ।

-----

 মেরিলিনের জীবনে জন এফ কেনেডি এবং তার ছোট ভাই ও অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'Blonde' সিনেমায় রবার্ট কেনেডি অস্তিত্বহীন। আর জন এফ কেনেডির সাথে নিচের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো দেখানো হয়েছে শুধু দুই মিনিটের একটি ডিস্টার্বিং সেক্স সিনের মাধ্যমে।

বেশিরভাগ হিস্টোরিয়ানের মতে, জন এফ কেনেডির সাথে মেরিলিনের প্রেম শুরু হয় ১৯৬২ সালের মার্চ মাসে, বিখ্যাত আমেরিকান গায়ক বিং ক্রসবি'র পাম স্প্রিং এর বাসায়। সেসময় কেনেডি মে মাসে তার আসন্ন বার্থডে পার্টিতে মেরিলিনকে পারফর্ম করতে বলেন।

১৯৬২ সালের ১৯ মে।

জন এফ কেনেডির (ডাকনাম-জ্যাক) বার্থডে সেলিব্রেশন করতে ম্যডিসন স্কয়ার গার্ডেনে উপস্থিত হয়েছেন ১৫০০ জন নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। অনুষ্ঠানটি হোস্ট করছিলেন আরেক অভিনেতা ও কেনেডি ব্রাদার্সদের ভগ্নীপতি পিটার লফোর্ড।

মঞ্চে উঠার আগে মেরিলিনের উদ্দেশ্যে ওয়েলকাম স্পিচ হিসেবে লফোর্ড বলেন, ‘Mr. President …. the late Marilyn Monroe’

না। এর কয়েকমাস পরই আসা মেরিলিনের মৃত্যুর দিকে লফোর্ড ইঙ্গিত করেননি, বরং তিনি সিনেমার সেটে নিয়মিত লেট করে আসা মেরিলিনকে বোঝাতে চেয়েছিলেন।

এরপর মেরিলিন স্টেজে গিয়ে ভীষণ আবেদনময়ী কণ্ঠ ও মুখভঙ্গিতে শোনান ‘Happy Birthday Mr President…’ গানটি। সেসময় তিনি পরেছিলেন ২৫০০ কাচের (Rhinestone) তৈরি ন্যুড রঙের, স্কিনটাইট  গাউন—যা তাকে করে তোলে।

আরও বেশি অ্যাপিলিং,আরও উজ্জ্বল। কোনো আন্ডারগার্মেন্ট না পড়ায় সেসময় মেরিলিন সমালোচনার মুখেও পড়েন।

গানের শেষে জ্যাক কেনেডি স্টেজে গিয়ে কৌতুকময় গলায় বলেন, ‘I can now retire from politics after having had Happy Birthday sung to me in such a sweet, wholesome way.’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঞ্চে গান গাইতে ঢোকার আগে ব্যাকস্টেজে মেরিলিনের সাথে রবার্ট কেনেডির (ডাকনাম—ববি) হিটেড কনভারসেশন হয়। জানা যায়, জ্যাক কেনেডি এবং ববি কেনেডির সাথে প্রায় একই সময়ে মেরিলিন মনরোর প্রেম এবং ঘনিষ্ঠতা ছিলো। জ্যাক যখন মেরিলিনকে নিয়ে হাঁপিয়ে পড়েন, তখন ববি কেনেডির কাছে মেরিলিনকে গছিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। মেরিলিনের মৃত্যুর পর তার হাউজ কিপার ইউনিস মুর‍্যেও ববি কেনেডির সাথে মেরিলিনের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন।

কিউবার ক্ষেপনাস্ত্র সংকট এবং লাল ভীতির (Red Scare) সময় যখন ব্যাপকভাবে কমিউনিজমের উত্থান ঘটছিলো—কেনেডি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরিলিনকে কেনেডিদের সাথে সকল সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা আসে।

এফবিআই চিহ্নিত একজন ‘বামপন্থী’অভিনেত্রীর সাথে পৃথিবীর সেরা ক্ষমতাধর দু'জন ব্যক্তির (JFK & Robert) ওঠাবসা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেসময় মেরিলিনের আবার মেন্টাল ব্রেকডাউন হয় বলে জানা যায়।

তবে জন এফ কেনেডি/জ্যাক কেনেডির স্ত্রী জ্যাকি কেনেডির কাছে তার স্বামীর নারীঘটিত ব্যাপারগুলো নতুন কিছু ছিলো না। যতদিন না পর্যন্ত তিনি পাবলিক এমব্যারাসমেন্টের মুখোমুখি হন, এসব অ্যাফেয়ারের প্রতি ব্লাইন্ড রোল প্লে করতে তার কোনো সমস্যা ছিলো না। তবে মেরিলিনের সাথে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক জ্যাকি কেনেডিকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিয়েছিলো। কেননা ডিপ ডাউন তিনি জানতেন, মেরিলিনের অবস্থা তাক করে রাখা গুলির মতো। যে কোনো সময়ই এ ব্যাপারে জনসম্মুক্ষে মেরিলিন মুখ খুলতে পারেন এবং এতে করে প্রেসিডেন্টের রেপুটেশনের পাশাপাশি তাদের সংসারও ধ্বংস হবার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রেসিডেন্টকে আগেই সতর্ক করেছিলেন।

‘These Few Precious Days: The Final Year of Jack with Jackie’ বইয়ের লেখক ক্রিস্টোফার অ্যান্ডারসনের দেওয়া সূত্রমতে, মেরিলিন জ্যাকিকে হোয়াইট হাউজে ফোন করেছিলেন প্রেসিডেন্টের মেরিলিনকে দেওয়া বিয়ের আশ্বাস সম্পর্কে জানাতে। এ ব্যাপারে জ্যাকি কেনেডির উত্তরটি ছিলো স্যাভেজ।

তিনি বলেন, ‘Marilyn, you'll marry Jack, that's great ... and you'll move into the White House and you'll assume the responsibilities of first lady, and I'll move out and you'll have all the problems.’  

এ ঘটনার পর অবশ্য খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯৬২ সালের ৪ অগাস্ট বারবিচুরেট ওভারডোজে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান মেরিলিন। অ্যাকসিডেন্ট বা স্যুইসাইড বলে ফ্রেম করা হলেও মেরিলিন কেনেডি পরিবারের রাজনীতির বলি কি—এ নিয়ে মানুষ এখনো নিশ্চিত নয় । মেরিলিনের বাসার বিভিন্ন জায়গায় বাগড ডিভাইস থেকে জানা যায়, তিনি যেদিন মারা যান সেদিন রাতে ভগ্নীপতি পিটার লফোর্ডের বাসা থেকে তাকে ফোন করেছিলেন ববি কেনেডি। হিটেড কনভারসেশনের এক পর্যায়ে মেরিলিন বলেন, ‘Don’t bother me, leave me alone, stay out of my life. I feel passed around, I feel used, I feel like a piece of meat.’

মেরিলিনের মৃত্যু প্রসঙ্গে তার দ্বিতীয় স্বামী জো ডিম্যাজিও ‘Dinner with DiMaggio: Memories of an American Hero’ বইয়ের লেখক ডাঃ রক ও জন পজিটানোকে বলেন ,

'The whole lot of Kennedys were lady-killers and they always got away with it. They'll be getting away with it a hundred years from now.'

ডিম্যাজিও সম্ভবত আগেই বুঝতে পেরেছিলেন এমন কিছু ঘটবে। মেরিলিন-কেনেডি’র অন্তরঙ্গতা যখন মিডিয়াতে ফলাও করে প্রকাশ হতে থাকে,তখনও ডিম্যাজিও মেরিলিন’কে অনুরোধ করেছিলেন তাকে আবার বিয়ে করতে। তিনি জানতেন কেনেডি মেরিলিনকে ব্যবহার করছেন। মেরিলিনও তার এই প্রস্তাবে রাজী হয়েছিলেন,তবে সেই সময়টুকু আর আসেনি।

মেরিলিনের শেষকৃত্যে ডিম্যাজিও শিশুদের মতো কেঁদেছেন, ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে ফিসফিস করে বলেছেন ‘I love you.. I love you...’

পূর্ব প্রতিজ্ঞা রাখতে মেরিলিনের মৃত্যুর পর জো ডিম্যাজিও যতদিন বেঁচে ছিলেন সপ্তাহে তিনবার ছয়টি গোলাপ দিয়ে গেছেন প্রাক্তন স্ত্রীর সমাধিতে।

১৯৯৯ সালে মৃত্যু হয় জো ডিম্যাজিওর। মাত্র নয় মাস সংসার করা ডি ম্যাজিওর মৃত্যুর আগে শেষ কথা ছিলো, ‘I’ll finally get to see Marilyn again’

অন্যদিকে, পাঁচ বছর সংসার করা আর্থার মিলার মেরিলিনের মৃত্যুর পর তার ফিউনারেলেও যাননি। পরবর্তীতে তিনি বলেন, ‘It was meaningless to stand for photographs at her graveside'

কেউ কেউ ভেবে থাকেন, মিলার আসলে মনরোকে ভালোবাসেননি। ভালোবেসেছিলেন তার খ্যাতি ও প্রতিপত্তিকে।

ভাবতে কষ্ট হয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবার মতোও কেউ ছিলো না। মৃত্যুর পর মেরিলিনের সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে পান তার অ্যাক্টিং কোচ লি স্ট্রাসবার্গ।

আহারে মেরিলিন,আহারে নর্মা জিন!

জীবনভর শুধু ভালোবাসা কিংবা থিতু হতে চেয়েও শূন্য হাতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। মৃত্যুর ৬০ বছর পর তৈরি হওয়া বায়োগ্রাফি সিনেমাও তার প্রতি সুবিচার করতে পারলো না।

পৃথিবীতে কেউ কেউ এত একা হয়ে আসে কেন?

৯৬০ পঠিত ... ১৮:০১, অক্টোবর ০৫, ২০২২

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top