যে ১০টি আবিষ্কারে কখনোই নারীদের কথা ভাবা হয়নি

৩৬৮৯ পঠিত ... ১৮:০৩, মার্চ ০৮, ২০২১

আপনার যদি কখনও মনে হয় পৃথিবীতে মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে জীবন কাটানো তুলনামূলকভাবে কঠিন, তবে আপনি মোটেও ভুল নন। যে পৃথিবীতে প্রায় সব কিছু পুরুষদের সুবিধা বা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে তৈরি (তৈরিকারকও পুরুষ), সেগুলো যখন নারীদের সুবিধার কথা না ভেবেই তাদেরও ব্যবহার ও কাজের জন্য চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন নারীদের জন্য তা কঠিন হয়ে পড়বেই। তেমনি পৃথিবীর নানা পুরুষতান্ত্রিক কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুবিধার কথা না ভেবে, নারীদের সুবিধার্থে গবেষণা বা কাজ না করেই যে তাদের ওপর কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তার কতগুলো জ্বলন্ত উদাহরণ দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কার্লি হোউ। চলুন দেখে নেওয়া যাক নারী-পুরুষের কাজ সমান হলেও সুবিধা যে সমান নয় এবং পৃথিবীর ৫০% জনসংখ্যা তথা নারীদের  বসবাসের জন্য উপযোগী নয় তার কিছু উদাহরণ। 

purush nari

১# পিপিই নারীদের জন্য তৈরি করা হয় না। কোট, গগলস কিংবা বুট জুতাগুলো মেয়েদের শারীরিক গঠনের চাইতে অনেক বড় এবং লম্বা হয়। ফলে কাজের সময় বিরক্তির পাশাপাশি ঢোলা পিপিই পরায় যেকোনো সময় হোচট খেয়ে দূর্ঘটনা ঘটার প্রবণতা থাকে প্রবল।

২# সকলের হাতে থাকা স্মার্টফোনগুলো মোটেও নারীবান্ধব নয়। প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনের স্ক্রিন বড় হচ্ছে। কিন্তু শারীরিকভাবে মেয়েদের হাত ছেলেদের চাইতে অনেক ছোট হওয়ায় মেয়েদের জন্য বড় স্ক্রিনের স্মার্টফোন বহন করা হয়ে ওঠে বেশ ঝামেলার। 

৩# মিলিটারির সাজ-সরঞ্জাম নারীদের জন্য তৈরি করা হতো না। ২০১৬ সালে আমেরিকার মিলিটারি বাহিনীতে পুরুষদের যুদ্ধক্ষেত্রের কিছু পদে মহিলাদের নেওয়া হয়। কিন্তু মিলিটারিতে ব্যবহৃত বর্ম বা ভেস্ট (Vest) নারীদের পরার উপযোগী ছিল না। বরং ভেস্ট থেকে প্রতিরক্ষামূলক অংশ ফেলে দিয়ে মহিলাদের পরানো হয়, যা তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার জন্য ছিল যথেষ্ট। 

৪# ইতিহাসে কখনও ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য কোনো নারীকে বেছে নেয়া হয়েছিল কিনা সন্দেহ আছে। সবসময় পুরুষদের ওপর ওষুধের কার্যকারিতার পরীক্ষা করানো হয়েছে। এর কারণ, মেয়েদের হরমোন নাকি খুব জটিল! ফলে তাদের মাধ্যমে ঔষধের সঠিক কার্যকারিতা বোঝা যায় না। কিন্তু কার্যকারিতা বোঝা না গেলে যে তা সকল মহিলার জন্য উপযোগী হবেনা, তার বেলায় কী হবে? এসব কারণে নারীদের ক্ষেত্রে যেকোনো ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দ্বিগুণ প্রভাব পড়ে। 

৫# পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য অধিকাংশ জায়গায় সমান আকারের, সমান সংখ্যক বাথরুম দেওয়া হয়। যদিও মহিলাদের বাথরুমে বাচ্চা বা বয়স্কদের নিয়ে যাওয়া ও পিরিয়ডের জন্য পুরুষদের চাইতে ২.৩ গুণ সময় বেশি লাগে। ফলে অন্য মহিলাদেরও অনেক সময় ধরে বড় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়।

৬# নারীরা 'হরমোনাল', এটি তাদের অপরাধ। তাই তো তাদের অকাল রোগে ভুগে মৃত্যু হয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে পুরুষদের বিভিন্ন রোগের উপসর্গকে কেন্দ্র করে রোগ নির্ণয় করা হয়। ফলে মহিলাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকসহ নানা রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দেখে ডাক্তাররা রোগ নির্ণয় করতে পারে না এবং চিকিৎসা ছাড়া রোগীর জীবন বিপন্ন হয়। 

৭# পাবলিক প্লেসে মৃত্যুমুখী ব্যক্তিকে সিপিআর (CPR) দিলে নারীদের চেয়ে পুরুষদের বাঁচার সম্ভাবনা ২৩% বেশি থাকে। কারণ সিপিআর ট্রেনিংয়ে সবসময় পুরুষদের কৃত্রিম দেহ ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া অনেকে নারীদের ওপর সিপিআর প্রয়োগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, কারণ মেয়েদের বুক তাদের অস্বস্তিতে ফেলে! 

৮# নারী-পুরুষ সমানভাবে হার্টের রোগে ভুগে থাকেন। কিন্তু কৃত্রিম হার্ট বা হৃদয়ের আকার এত বড় হয় যে, মহিলাদের বুকে তা স্থাপন করা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (heart failure) হয়ে তাদের অকালে মৃত্যু হয়। 

৯# গাড়ি কিন্তু মোটেও নারীদের জন্য তৈরি করা হয় না। গাড়ি তৈরির সময় ড্রাইভার সিটের পরীক্ষা করতে কৃত্রিম পুরুষ দেহ ব্যবহার করা হয়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে পুরুষের চাইতে মহিলাদের ৪৭% বেশি সুযোগ থাকে গুরুতর আহত কিংবা নিহত হওয়ার। সিটবেল্ট বা ব্রেকের অবস্থান ও আকারও মেয়েদের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে মহিলাদের গাড়ি চালানোর সময় ব্রেক কষতে হলে সামনে এগিয়ে বসতে হয়। 

১০# বাসে দাড়িয়ে থাকা যাত্রীদের সুবিধার জন্য যেসব হ্যাংগার দেওয়া হয়, সেগুলো ধরে দাড়িয়ে থাকা খুব কম মহিলার পক্ষে সম্ভব হয়। পুরুষদের উচ্চতা বিবেচনা করে তৈরি করা হ্যাংগারের নাগাল মহিলাদের পক্ষে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মহিলাদের জন্য বাসে দাড়িয়ে থাকা হয় খুব কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

৩৬৮৯ পঠিত ... ১৮:০৩, মার্চ ০৮, ২০২১

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top