পিরিচে ঢেলে চা খাওয়ার রীতি থেকে মার্কিন সিনেটের জন্ম!

৩৯১ পঠিত ... ১৭:৫৫, জানুয়ারি ০৬, ২০২১

আমরা ছোটকালে দেখতাম মুরুব্বিরা কাপ থেকে পিরিচে ঢেলে চা বা কফি পান করতেন। এখন তা বেশি চোখে পড়ে না। তবে এর ইতিহাস বেশ পুরোনো। মজার বিষয় হচ্ছে, কাপ থেকে পিরিচে ঢেলে চা/কফি পান করার এ রীতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের উচ্চকক্ষ বা সিনেট ধারণার জন্ম হয়েছে! এটাকে যদি বাড়িয়ে বলা মনে হয়, তাহলে অন্তত এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে, সিনেট গঠনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে জর্জ ওয়াশিংটন স্বয়ং কাপ-পিরিচ প্রসঙ্গ টেনেছেন। ইউএস সিনেটের ওয়েবসাইটে এ ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।

 

পিরিচে ঢেলে চা পান করার রীতি কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসছে। কাপের গরম চা ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগে। কিন্তু পিরিচে ঢেলে নিলে চায়ের লেয়ার পাতলা হওয়ায় তা তুলনামূলক দ্রুত ঠান্ডা হয়। এতে আরাম করে চা পান করা যায় এবং জিহ্বা পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সম্ভবত সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগ কিংবা অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে এ রীতির প্রচলন হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্বব্যাপী এটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে, স্বয়ং জর্জ ওয়াশিংটন মার্কিন সংবিধান প্রণয়নের সময় এটিকে মেটাফোর হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রথম দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কংগ্রেসের প্রস্তাব দেন। কনভেনশনাল ডেলিগেটরা তার প্রস্তাবে সম্মত হন এবং সিনেট গঠন করেন। থমাস জেফারসন তখন একটি সাংবিধানিক কনভেনশানে যোগ দিতে ফা্রন্সে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের কাছে সিনেট গঠনের ব্যাখ্যা জানতে চান। ওয়াশিংটন তখন তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কাপ থাকা সত্বেও আমরা কেন পিরিচে ঢেলে কফি পান করি?’, জেফারসন জবাব দেন, ‘ঠান্ডা করার জন্য’। ওয়াশিয়ংটন তখন বলেন, ‘এখানেও একই উদ্দেশ্য। আমরা আইনপ্রণেতাদের (নিন্মকক্ষ) প্রণীত আইন আরও ঠান্ডা (অধিক বিবেচনা) করার জন্য সিনেটে (উচ্চকক্ষ) ঢালব।’

৩৯১ পঠিত ... ১৭:৫৫, জানুয়ারি ০৬, ২০২১

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top