শান্তিতে নোবেলজয়ী সংস্থার মাসকট আমাদের কক্সবাজারের কুকুর ‘ফক্সট্রট’

৬৯৬ পঠিত ... ২৩:০৪, অক্টোবর ১৩, ২০২০

 

২০২০ সালে শান্তিতে নোবেল পেল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। ক্ষুধা নিরসনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ডব্লিউএফপিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ক্ষুধাকে যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার রোধে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে ডব্লিউএফপি। 

কিন্তু জানেন কি, ডব্লিউএফপির রয়েছে ‘ফক্সট্রট’ নামের এক কুকুর মাস্কট? নামে খুব বিদেশি ভাব থাকলেও কুকুরটি কিন্তু দেখতে মোটেও সোনালী কিংবা ধূসর পশমের রাজকীয় কিংবা শিকারী কোনো কুকুর নয়। সে হল বাংলাদেশের কক্সবাজারে কুড়িয়ে পাওয়া আমাদের দেশি কুকুর, ফক্সট্রট। গত শুক্রবার পুরো ইনস্টাগ্রাম জুড়ে ফক্সট্রট তার সংস্থার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ সকলের সাথে ভাগ করে নিয়েছে এবং ‘Woweee’ বলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছে। 

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আবাসস্থল হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। তারই সাথে নানা ধরণের সাহায্যকারী সংস্থার অস্থায়ী হেডকোয়ার্টারও গড়ে উঠেছে সেখানে। তেমনি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-র কার্যক্রমও চলছিল কক্সবাজারে। রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার পাশাপাশি প্রতিমাসে বিভিন্ন চ্যারিটি গ্রুপের কর্মীরা একত্রিত হয় কক্সবাজারের ‘বিচ ক্লিনআপ’ বা সমুদ্র তীর পরিষ্কারের লক্ষ্যে। তেমনি নভেম্বর মাসে এই কার্যক্রম চালানোর সময় কিছু কর্মীর পিছু লেগেছিল মাত্র এক মাস বয়সী ছোট্ট এক কুকুরছানা। এসময় ডব্লিউএফপি’র যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা জেমা স্নোডন কুকুরছানাটিকে তার মা’কে খোঁজার জন্য পাঠাতে চায়। কিন্তু কুকুরছানা তো আর তাদের পিছু ছাড়ে না! অন্যদিকে কুকুরছানাটিও ছিল বেশ দুর্বল এবং তার মা’কে খুঁজে বের করার চেয়ে স্নোডনের পিছু নেওয়াতেই যেন তার আগ্রহ ছিল বেশি। অতঃপর স্নোডনের মায়া পড়ে যাওয়ায় তিনি কুকুরটিকে ডব্লিউএফপি’র প্রাঙ্গণে আশ্রয় দিলেন। মা’কে ছাড়া এত ছোট কুকুরছানার বাঁচার সম্ভাবনা কেউই দেখেনি। কিন্তু পরদিন স্নোডন অফিসে এসে দেখেন, ছানাটি পুরো প্রাঙ্গন দৌড়ে বেড়াচ্ছে মনের খুশিতে। সেই থেকেই এখন পর্যন্ত পুরো প্রাঙ্গনে ঘুরে ঘুরে সে মাতিয়ে রাখে ডব্লিউএফপি’র অফিস। 

বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে ডব্লিউএফপি’র কার্যক্রম বিষয়ক আলোচনার অনলাইন ভিডিও করে বেড়াচ্ছে ফক্সট্রট! না, না, সত্যিই ফক্সট্রট কথা বলতে শুরু করে দেয়নি। ভয়েসওভারের ব্যবস্থা করে নেপথ্যে মানুষ কথা বললেও পর্দায় রাখা হয়েছে ফক্সট্রটকে। আর তাই দেখে মনে হবে যেন ফক্সট্রটই কথা বলতে শুরু করে দিয়েছে আর ঘোষণা দিচ্ছে, ‘আমিও এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরনার্থী শিবিরের সাহায্যকারী সংস্থার অংশ’। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ এখনও সরকারিভাবে কাজ করার অনুমতি দেয়নি। ফলে খাদ্যের জন্য তাদের জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ওপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে। ডব্লিউএফপি প্রতি মাসে ৮৬৯,৬৯০ জন রোহিঙ্গাদের জন্য ৮০০০ মেট্রিক টন চালের ব্যবস্থা করে থাকে। বিশ্বব্যাপী এমন কাজের নজির থাকলেও তাদের অধিকাংশ উদ্যোগ সম্পর্কেই জানে না কেউ। কিন্তু তাদের কাজ ও বিশ্বব্যাপী তার প্রভাব চোখ এড়িয়ে যায়নি ফক্সট্রট ও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সভাপতি বেরিট রিস-অ্যান্ডারসনের। ডব্লিউএফপি খাদ্য সুরক্ষাকে বিশ্বশান্তির একটি বড় চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ক্ষুধাকে যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে লড়তে সাহায্য করছে। 

বিশ্বব্যাপী ডব্লিউএফপির মানবিক কাজের জন্য নোবেল কমিটি তাদের শান্তিতে নোবেল দিয়েছে। আর অন্যদিকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে তাদের কার্যক্রমের খবর বিশ্বকে জানাচ্ছে ফক্সট্রট তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। মাঠে নামলে ফক্সট্রট সুপারম্যানের মতন ‘World Food Programme’ লেখা এক কেপ পরে ঘুরে বেড়ায় এবং ছবি তুলে ডব্লিউএফপি’র কাজ সম্পর্কে মানুষকে জানায়। তাই কর্মীদের মতে, ফক্সট্রট হল ডব্লিউএফপি’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। 

৬৯৬ পঠিত ... ২৩:০৪, অক্টোবর ১৩, ২০২০

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top