বাংলাদেশ, দারিদ্র্য ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন নিয়ে স্যার ফজলে হাসান আবেদের ১৩টি উক্তি

৮৯৩ পঠিত ... ১৯:৫৭, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯

১৯৭০ সালের ঘুর্ণিঝড়-পরবর্তী বিধ্বস্ত মনপুরা দ্বীপে ত্রাণ সহায়তা করতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের দুর্দশা তাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। বহুজাতিক কোম্পানির বড় চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশে শুরু করেন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক। বাকিটা ইতিহাস। ব্র্যাক আজ বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংগঠন। দারিদ্র বিমোচন, স্বাস্থ্য , নারীর কর্মসংস্থান থেক শুরু করে নানা দিকে সংগঠনটি দীর্ঘদীন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে দেশে ও বিদেশে। প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবেদ তার কর্মময় জীবনে পেয়েছেন নাইটহুডসহ দেশ বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন আপামর মানুষের ভালোবাসা।

স্বাপ্নিক এই মানুষটি কেমন ভাবতেন, দেশ ও মানুষ নিয়ে কেমন ছিলো তার চিন্তা, বুঝতে পড়তে পারেন তার কিছু উল্লেখযোগ্য উক্তি।

১# একটা উপলব্ধি হলো, পরিবার বা সমাজে আসলে দারিদ্র্য মোকাবিলা করেন প্রধানত নারীরা। যদি তাঁরা দারিদ্র্যকেই ম্যানেজ করতে পারেন, তাহলে এঁদের দিয়েই আমরা উন্নয়নের কাজ আরম্ভ করি না কেন? আমি আগে যখন গ্রামেগঞ্জে বেশি যেতাম, দেখতাম পাঁচ বছরের মেয়েশিশু এক বছরের ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে দেখাশোনা করছে। আর তার বড় ভাইটা বাড়ির বাইরে গিয়ে খেলছে। এসব দেখে মনে হলো আমাদের মেয়েদেরই আগে তৈরি করতে হবে। আমরা মেয়েদের সংগঠিত করা শুরু করলাম। কারণ, মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই ব্যবস্থাপনা শেখে।

২# আমার ধারণা ছিল, ত্রাণ দেওয়া শেষে বছর দুই-তিনেক পর আমি আমার পেশায় ফিরে যাব—ইংল্যান্ড-আমেরিকা বা অন্য কোথাও। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে যে দারিদ্র্য দেখলাম, এত দরিদ্র মানুষকে এভাবে ফেলে রেখে আমি বিদেশে চাকরি করে আরাম-আয়েশে থাকব, এটা কোনো কাজের কথা নয়। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার সারা জীবনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের কাজে নিয়োজিত থাকব

৩# বাংলাদেশে বাস করে কারও পক্ষে আত্মতৃপ্ত হওয়া সম্ভব নয়। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, দারিদ্র্য দেখে আত্মতৃপ্ত হওয়া যায় না। মানুষ যে কত অসহায় হতে পারে আমি কাজ করতে গিয়ে তা দেখেছি। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই মানুষগুলোর জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারলাম কই?

৪# নিজেকে আমি খুব বেশি সফল মনে করি, তা নয়। আমি আমার কর্তব্যটা করার চেষ্টা করেছি, এর বেশি কিছু না।

৫# বাংলাদেশের সহজাত সুবিধা হলো, মানুষগুলো বুদ্ধিমান। এদের যদি একটু ভালো শিক্ষার সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে আমরা অনেক এগিয়ে যেতে পারতাম। পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে, যেসব দেশের মানুষ এতটা বুদ্ধিমান নয়। আমাদের লোকগুলো বেশি সুযোগ পায়নি কিন্তু তাদের মেধা আছে, বুদ্ধি আছে। এদের একটু সুযোগ দিলে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পরিচিতি পেত।

৬# জীবনের সূচনায় আমি আসলে একজন কবি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার কবিতা লেখার হাত অতো ভালো ছিলো না। সুতরাং সিদ্ধান্ত নিলাম আমি অন্য কিছু করি।

৭# আমি সেই কাজ করতে আগ্রহী, যা দরিদ্রের উপকারে আসে।

৮# আমি এই ভেবে তৃপ্ত, যে আমার জীবন বৃথা যায়নি।

৯# আমি একদিন থাকবো না, কিন্তু ব্র্যাক রয়ে যাবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্র্যাককে কাজ করে যেতে হবে।    

 ১০# আমার ধারণা ছিল, ত্রাণ দেওয়া শেষে বছর দুই-তিনেক পর আমি আমার পেশায় ফিরে যাব— ইংল্যান্ড-আমেরিকা বা অন্য কোথাও। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে যে দারিদ্র্য দেখলাম, এত দরিদ্র মানুষকে এভাবে ফেলে রেখে আমি বিদেশে চাকরি করে আরাম-আয়েশে থাকব, এটা কোনো কাজের কথা নয়। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার সারা জীবনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের কাজে নিয়োজিত থাকব

১১# আমি সব সময় চেয়েছি, লোকে আমার সংস্থাটি চিনবে, আমাকে চেনার তো দরকার নেই। এই সংস্থায় এত লোক কাজ করে, সেখানে একজনকে চিনে লাভ কী? ব্র্যাকে যে এতো কাজ হয়েছে, সেটা কি আমার একার কাজ? হাজার হাজার কর্মীর কাজ। কাজেই সেই পরিচিতি তো তাদের প্রাপ্য। আমি নেতা হিসেবে হয়তো একটু বেশি কাজ করেছি। কিছু হাজার হাজার কর্মী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে বলেই ব্র্যাক এতটা সুনাম অর্জন করেছে। 

১২# আমি ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কার নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাই না কিন্তু এটা প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি নোবেল পেতে চাই না। এটা আমার জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে। চারদিক থেকে সাক্ষাৎকার দেওয়া, বক্তব্য দেওয়ার চাপ আসবে। আমার মৃত্যুর পর যদি ব্র্যাক নোবেল পায়, সেটাই হবে ভালো।

১৩# আমাদের নায়ক আসলে দরিদ্র লোকেরাই, বিশেষত দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা সেই নারী, যারা জীবনের প্রতিটি পদে বাধার সম্মুখীন হন এবং তা কাটিয়ে ওঠেন। কারণ, একজন নারী যেভাবেই হোক না কেন, তিনি তার পরিবারের জন্য খাদ্য জোগাড় করতে পারেন।

৮৯৩ পঠিত ... ১৯:৫৭, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top