যেভাবে শুরু হয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ট্রেন্ড হয়ে উঠলো 'নো শেভ নভেম্বর'

৬৮৯ পঠিত ... ১৮:১১, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

২০০৭ সালের নভেম্বর মাস, শিকাগোল্যান্ড হিল পরিবারের জন্য সময়টি বড়ই বেদনার। এ মাসেই পরিবারটি ম্যাথিউ হিলকে হারায়। বাবাকে হারিয়ে আটটি ছেলে-মেয়েই তখন শোকে মুহ্যমান।

কী অবাক কান্ড! দু বছর পর সেই নভেম্বর মাসেই হিল পরিবারে আসে নতুন এক উদ্যম। দু’বছর আগে তাদের বাবা যে কোলন ক্যান্সারে ভুগে মারা যান, এবার সেই ক্যান্সারের বিরুদ্ধেই হিল পরিবার খুঁজে বের করেছে অভিনব এক অস্ত্র। সেই উদ্যোগের নামই ‘নো-শেভ নভেম্বর’।

হিল পরিবারের সুখের সেই দিনগুলো! ম্যাথিউ হিলের সঙ্গে হিল পরিবার। প্রাণঘাতী ক্যান্সার তখনো মলিন করতে পারেনি হিলদের হাসি।

‘নো-শেভ নভেম্বর’ নাম শুনে যেমনটাই মনে হোক, এটি জটিল কোন ধাঁধা নয়। এ মাসে আপনাকে শুধু নভেম্বর মাসের ত্রিশ দিন শেভ না করে থাকতে হবে। যাদের দাড়ি অনেক দ্রুত বাড়ে তারা হয়ত ভাবছেন এ আবার কেমন চ্যালেঞ্জরে বাবা। তাদের জন্য একটা সুসংবাদ আছে। আপনাদের জন্য নিয়মটি সহজ করা হয়েছে। চাইলেই আপনারা আপনাদের দাড়ি ট্রিমিং করতে পারেন, গ্রূমিং করতে পারেন। তবে শেভ করতে পারবেন না। আর শেভ না করতে গিয়ে আপনার যে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, সেটিই সংগ্রহ করে ‘নো-শেভ নভেম্বর’। আর সেই অর্থ ব্যয় হয় ক্যান্সার প্রতিরোধে।

আমরা সবাই কম-বেশি জানি, ক্যান্সারের চিকিৎসায় রোগীদের কেমোথেরাপি দেয়া হয়। এর ফলে তাদের শরীরের থেকে অনেক চুল পড়ে যায়। সম্পূর্ণ শরীরের চুল পড়ে যাওয়ায় শারীরিক রোগের পাশাপাশি রোগী মানসিকভাবেও অনেক ভেঙ্গে পড়েন। এ কথা ভেবেই মূলত 'নো-শেভ নভেম্বর' সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে। তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের উদ্দেশ্য নিয়ে বলা আছে, ‘আমরা চাই সকল অংশগ্রহণকারীরা যেন অত্যন্ত আগ্রহের সাথে নিজেদের শরীরের চুল এই এক মাস কোনরকম রেজরের সংস্পর্শে না আনেন, যেন ক্যান্সার রোগীদের গায়ের পশম এবং মাথার চুল তাড়াতাড়িই ফিরে আসে।’

নো শেভ নভেম্বর ব্যাপারটা কিন্তু শুধু দাড়ি শেভের বিষয়ে নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের চুলও (হ্যাঁ, সব রকম অঙ্গ!) যাতে ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণকারীরা না ছাঁটেন সেটাও বলা হয়ে থাকে। তবে সেটা অবশ্যই ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাপার! কেউ চাইলে শুধু দাড়ি অথবা গোঁফ না কাটতে পারেন, চাইলে সম্পূর্ণ শরীরের পশম/চুল না ছেঁটে থাকতে পারেন। এতে করে সেলুনে অথবা ওয়াক্স করার জন্য আপনার যে টাকাটা ব্যয় হতো তা এই সংস্থাকে দান করতে পারেন। হতে পারে সেটা আপনার কেনা রেজরের দাম ১০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা ব্যয় করেন এমন পার্লারের খরচ পর্যন্ত। ১০০ টাকা দান করলেও সেটি নিয়ে তারা অন্তত আপনাকে খোঁচা দিবে না। 

হিল পরিবারের সন্তানেরা, যারা 'নো শেভ নভেম্বর' নিয়ে দাঁড়িয়েছেন পৃথিবীর ক্যান্সার আক্রান্ত হাজারো পাশে, শামিল হয়েছেন তাদের যুদ্ধে। ফাদার মাস্ট বি প্রাউড!

নো শেভ নভেম্বর ব্যাপারটা যে হিল পরিবারই গোড়াপত্তন করেছে, এমনটা ভাবার কিন্তু সুযোগ নেই। বহু আগে থেকেই নো-শেভ নভেম্বর ব্যাপারটি একটি ঐতিহ্য হিসেবে পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত ছিল। তবে এই বিষয়টিকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত করেছে হিল পরিবারই। তাদের নিজ খরচায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এই অলাভজনক সংস্থাটি। প্রথম দিকে শুধু ফেসবুকের বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এটি সারা আমেরিকা ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন যার পুরোটাই খরচ হয়েছে ক্যান্সার রোগীদের সহায়তায়। এই টাকার একটা বড় অংশ ক্যান্সার প্রতিরোধে, ক্যান্সার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে এবং ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা কাজে ব্যয় করা হয়। 

সংস্থাটি এখনও ওয়েবভিত্তিক। তাদের সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। সাইটে তাদের ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এবং টুইটার একাউন্টের লিংকও দেয়া আছে। তারা তাদের ওয়েবসাইট থেকে আপনাকে একটি পোস্টার ফ্রিতে পেতে সাহায্যও করবে। এটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রের মানুষদেরকে জানাতে পারবেন, কেন গত একমাস আপনাকে বুনোমানুষের মতন দেখাচ্ছে। এছাড়াও ওয়েবসাইটটিতে রয়েছে নো-শেভ নভেম্বর লেখা ক্লাসিক টি-শার্ট, রিস্টব্যান্ড, পিন। 

সুতরাং রিস্টব্যান্ড আর টি-শার্টের জন্য হলেও অন্তত একবার ঘুরে আসতে পারেন এই ওয়েবসাইটি। তবে হ্যাঁ, প্রোডাক্টগুলোর মূল্য কিন্তু নির্ধারণ করা হয়েছে আমেরিকান ডলারের মানে। কাজেই দাম দেখে আবার ভোক্তা অধিদপ্তরে মামলা করে দিয়েন না যেন...

৬৮৯ পঠিত ... ১৮:১১, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top