দ্য পাবজি ফেনোমেনন: যেভাবে বিশ্বব্যাপী এত জনপ্রিয় গেম হয়ে উঠলো পাবজি

১১২০ পঠিত ... ২১:২৩, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

এরাঙ্গেল আইল্যান্ডটা সুন্দর। পাহাড়, উপত্যকা, এবং উপকুল ধরে ছোট ছোট বসতি। একটাই সমস্যা। ওখানে প্রতিটি মুহূর্তে সবাই সবাইকে হত্যা করতে চায়। এই আইল্যান্ড পাবজি (প্লেয়ারআননোন’স ব্যাটলগ্রাউন্ডস) জগতের আইল্যান্ড।

গত দুই বছরে বিশ্বব্যাপী গেম ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে জনপ্রিয় গেমগুলার একটা পাবজি। যদি নাও খেলে থাকেন, খুব সম্ভব আপনি পাবজি নামটা শুনেছেন। না খেলেও কেন এই গেমের নামটা শুনেছেন, তার কয়েকটা কারণ বলি।

মাল্টিপ্লেয়ার এই অনলাইন গেমটা আনঅফিশিয়াল, এর আর্লি এ্যাকসেস রিলেজ হয় ২০১৭ সালের মার্চে। রিলিজের প্রথম চার মাসেই ১০ মিলিয়ন রাউন্ড খেলা হয় এবং গেম কোম্পানি ৩ দিনের মাথায় আয় করে ১১ মিলিয়ন ডলার। ভাবেন, তাও অফিশিয়াল রিলিজের আগেই! আর্লি এ্যাকসেস রিলিজের ১ মাসের মধ্যে ১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়ে যায়। 

২০১৭’র সেপ্টেম্বরে ডোটা ২’র একসাথে  ১.৩ মিলিয়ন প্লেয়ারের অনলাইনে খেলার রেকর্ড ভেঙে ফেলে পাবজি। অক্টোবরে স্টিম-এ অনলাইনে একসাথে দুই মিলিয়ন প্লেয়ার পাবজি খেলেছে। একই মাসে লিগ অফ লিজেন্ডকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচে বেশি খেলা গেমের রেকর্ড করে পাবজি। পাবজি মোবাইল ভার্সনে মাসিক খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২০০ মিলিয়ন, দিনে ৩০ মিলিয়ন। শুধু ২০১৮ সালেই পাবজির রেভিনিউ ছিলো ১.০৩ বিলিয়ন। তাও এন্ড্রয়েড বাদ দিয়ে হিসাবে। অনুমান করা কঠিন না, পাবজি কিরকম হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে গেমের দুনিয়ায়।   

 

কেমন গেম এই পাবজি?  

ভিডিও গেমের ক্ষেত্রে ব্যাটল রয়্যাল, হাঙ্গার গেমসের বই এবং বিভিন্ন শুটিং গেম থেকে অনুপ্রাণিত। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে কিনজি ফুকাসাকু’র জাপানিজ কাল্ট সিনেমা ‘ব্যাটল রয়্যাল’ থেকে। ব্যাটল রয়্যালে দেখা যায়, একটা দ্বীপে ১০০ জন খেলোয়াড় সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়। তারা ব্যাকপ্যাক আর্মর, বন্দুক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছু খুঁজে বের করে এবং একে অপরকে হত্যা করার চেষ্টা করে। শেষে যে ব্যক্তি বেঁচে থাকবে, সে-ই বিজয়ী। এই ধরনের রাউন্ড প্লেয়িংকে বলা ব্যাটল রয়্যাল।

পাবজিতেও একই রকম নিয়ম। প্রত্যেক রাউন্ডে ১০০ জন ভার্চুয়াল ক্যারেক্টাররের মধ্যে যুদ্ধ হয়। এই ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারদের কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করে রিয়েল লোকজনই।  প্লেনে করে তারা একটা আইল্যান্ডে চলে যায়, প্যারাশুটে অবতরণ করে। আর যতদ্রুত সম্ভব অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় করে, যাতে চারপাশের সবাইকে সে হত্যা করতে পারে। সময়ের সাথে সাথে খেলার জায়গা সঙ্কুচিত হতে থাকে। লড়াইও তাই হতে থাকে তীব্র থেকে তীব্রতর। রাউন্ড শেষে টিকে থাকা একজনই জয়ী।

খেলায় উত্তেজনা বাড়াতে, প্রয়োজনীয় নানান জিনিসপত্র বিভিন্ন পরিত্যক্ত বাড়িঘরে রেখে দেয়া হয়। আপনি রাস্তা ধরে এবং নানা জায়গায় আতঙ্কিত হয়ে ছুটছেন আর মরিয়া হয়ে বাড়িঘর ও জিনিসপত্র লুট করছেন। আর সতর্ক নজরে লক্ষ্য করছেন, আশেপাশে কোথাও কোনো মানুষ আছে কিনা। বন্দুক খুঁজে না পেলে আপনাকে চাকু , চাপাতি এমনকি নিজের হাত দিয়ে লোকজনকে সাইজ করতে হবে। যাই পান না কেন, করতে হবে কঠিন, নিষ্ঠুর লড়াই।  বেশিরভাগ সময় আপনি একা একা ছুটছেন। হতে পারে কোনো কর্পোরেট অফিস এরিয়া ধরে যাচ্ছেন, হঠাৎ দেখলেন চিপা দিয়ে কেউ আপনার দিকে এ-কে-এম তাক করে আছে। 

 

পাবজি কেন এতো জনপ্রিয়? 

পাবজির অকল্পনীয়  জনপ্রিয়তার একটা প্রধান কারণ এর আনপ্রেডিক্টিবিলিটি বা অনিশ্চিয়তা। স্বাভাবিক যে আপনি যত খেলবেন, খেলায় দক্ষ হয়ে উঠবেন, ভালো খেলার সম্ভাবনা বাড়বে। তবু খেলাটা অনেক বেশি নৈরাজ্যময় আর অনিশ্চয়তায় ভরা। কারণ গেমের অনেক কিছুই পিওর লাকের ব্যাপার। একটা র‍্যান্ডম বুলেট খেয়ে আপনার চরিত্র, এবং যেহেতু চরিত্রের সঙ্গে আপনি আইডেন্টিফাই করেন, ‘আপনি’ই যেকোনো মুহূর্তে মারা পড়তে পারেন বা ভয়ংকর বা মারাত্মক কোনো প্রতিপক্ষকেও অনেক সময় ভাগ্যের জোরে হারিয়ে দিতে পারেন। মানুষ ভার্চুয়াল রোবট না। তাদের বিরুদ্ধে খেলায় তাই ম্যাক্সিমাম ইম্প্রোভাইজেশন দরকার হয়। প্রত্যেকটা পাবজি ম্যাচের আনপ্রেডিক্টিবিলিটি গেমটাকে উত্তেজক করে তোলে।    

গেমের ডিজাইনের দিক দিয়ে ডেইজ-এর সাথে অনেক মিল পাবজির। তবে ডেইজ-এ যেখানে প্লেয়াররা ইচ্ছামতো ল্যান্ডস্কেইপ ধরে ঘুরে বেড়াতে পারে, ব্যাটলগ্রাউন্ডস-এ সেটা সম্ভব না। একটা মারাত্মক ইলেক্ট্রিক্যাল ফোর্স দিয়ে লড়াইয়ের পুরো এরিয়াটা ঘেরা থাকে। তার উপরে আবার গেম যতো এগোতে থাকে, মাঠ তত ছোট হতে থাকে। খেলোয়াড়দের শুরু থেকেই বৃত্তের কেন্দ্রের থাকার চেষ্টা করতে হবে। তাতে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে আবার সংঘর্ষের সম্ভাবনাও বাড়বে। এই খেলায় ভালো করতে তাই আকস্মিক আক্রমণ করা, আবার নিরাপদেও থাকা- এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারা জরুরি। 

এই ধারার অন্যান্য গেমের চেয়ে পাবজি কিছু দিক দিয়ে আলাদা। যেমন, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি ইত্যাদি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই এই গেমে। অসুস্থ হয়ে পড়া বা হাত পা ভাঙারও কোনো ভয় নাই। প্লেয়ারের একমাত্র চাওয়া, বেঁচে থাকা। সারভাইভালই সবকিছু এই খেলায়। এ জন্য আপনার কাছে আছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্র! অবশ্যই সেগুলো আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে, সংগ্রহ করতে হবে, লুটপাট করতে বা দখল নিতে হবে। অস্ত্রশস্ত্র বা হাতিয়ার খুবই কাস্টোমাইজেবল। আপনার পছন্দমতো গুলি, বন্দুক, ম্যাগাজিন নেয়ার সুযোগ আছে। সম্মুখ সমর যদিও প্রতি মুহূর্তে হয় না, তবু টেনশন আর হুমকি প্রতিটি মুহূর্তেই বাড়তে থাকে। পাবজির একটা দারুণ ফিচার হলো, এর ব্ল্যালিস্টিক সাউন্ড ডিজাইন। দূরে গোলাগুলির শব্দ পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হওয়া, অগ্ন্যুৎপাতের আভা দিগন্তে দেখতে পাওয়া যথেষ্ট বাস্তবধর্মী।  

ঐরকম না দেখা দূরের শব্দ যখন আপনার কাছে চলে আসতে থাকে, ব্যাপারটা টেনশন থেকে ভয়াবহ আতঙ্কে রূপ নেয়। তার উপর অগ্নুৎপাতের শব্দ শুনে স্নাইপার খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। স্নাইপার ব্যবহারও খুব আনন্দের। নানারকম ডিলেমা গেমটাকে অনেক বেশি উত্তেজক করে তোলে। মনে করেন, একটা খেলায় আপনি নদীতীরে পৌছলেন। ওপারে সেফ জোন। ওপারে পৌঁছানোর একটা উপায় হচ্ছে, দিগন্তপ্লাবী দীর্ঘ ব্রিজ পেরিয়ে যাওয়া। আপনি মনে করলেন, ব্রিজ দিয়ে চলে যাবেন। কিন্তু এমনও হতে পারে, কোনো নিশ্চয়তা নেই, ব্রিজটা আসলে একটা ট্র্যাপ। বিকল্প হলো, আপনি সাঁতরে নদী পার হবেন। সেক্ষেত্রে নদী পারাপারে একটা উল্লেখযোগ্য সময় আপনি পানির নিচে থাকতে পারবেন, কিন্তু একবার ধরা পড়লে আপনি শেষ! কারণ, সেক্ষেত্রে আপনি সম্পূর্ণ অরক্ষিত।

 

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় পাবজির অর্থনীতি 

এই সময়ের গেমারদের কাছে শুধু খেলার জন্য খেলাটাই যথেষ্ট না। তাদের চেষ্টা আর ব্যয় করা সময় থেকে আরও বেশি কিছু পেতে চায় তারা। একটা গেম যদি কোনো ভার্চুয়াল আইটেম থেকে রিয়েল কিছু পাওয়ার দরজা খুলে দেয়, তবে অটোমেটিক তা পুরোনো খেলোয়াড়দের আরও বেশি সময় খেলতে মোটিভেট করে এবং অনেক নতুন খেলোয়াড়কে আকৃষ্ট করে। সিএস.গো বা ডোটা টু এর মতো গেমের সাফল্যে পেছনের রহস্য এটাই। পাবজি এই জিনিসগুলোকে কাজে লাগিয়েছে সাফল্যের সঙ্গে। এমনকি পাবজির ডেমো ভার্সনেও, যদিও খেলার মানকে সরাসরি প্রভাবিত করে না, পোশাক বা যন্ত্রপাতির মতো জিনিস দিয়ে প্লেয়ারের অবয়ব বদলে ফেলা যায়। এই জিনিসপত্র ভার্চুয়াল মানি দিয়ে কেনা যায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, আইটেমগুলো আবার রিয়েল মানিতে বিশেষ মার্কেট প্লেসে বিক্রিও করা যায়। এইসব বিরল আইটেম পাওয়া এবং সেগুলোকে বিশেষ মার্কেটে বিক্রি করে অর্থোপার্জন করার আকাঙ্ক্ষা ব্যাটলগ্রাউন্ডসকে আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। খেলোয়াড়েরা তাদের দক্ষতা ও রণকৌশল শিখতে বেশি বেশি খেলতে থাকে, পাবজির জনপ্রিয়তায় এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। 

 

এত সহিংসতা! সমস্যাজনক? 

পাবজি ভয়াবহ মাত্রায় সহিংস একটা গেম। এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি মুহূর্ত সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আসতে পারে। একটা মুহূর্ত আপনি রিল্যাক্স করতে পারেন না, যেকোনো মুহূর্তে , যেকোনো অঞ্চল থেকে শত্রু আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে । আপনার নিজেকেও তাই এমন শত্রু হয়ে উঠতে হবে যে অপ্রত্যাশিতভাবে , আচমকা অন্যদেরকে ভড়কে দিয়ে হত্যা করবে। হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ- পাবজির মূল দর্শন।  তাহলে, গেমটা এত জনপ্রিয় কেন?  

প্রকৃতিগতভাবে আমাদের ভেতরে  জন্তুসুলভ কিছু দিক তো আছেই, যা বাস্তব দুনিয়ায় সামষ্টিক নিরাপত্তার খাতিরে আমরা অবদমিত করে রাখতে বাধ্য হই। বাধ্য হয়ে একঘেয়েও লাগে আমাদের। বাস্তবে অবশ্যই গেমারদের কেউ অমন সহিংস রক্তপাত দেখতে চাইবে না (মাঝেমধ্যেই দেশি মিডিয়ায় সহিংসতার জন্যে ভিডিও গেমসকে দায়ী করার হাস্যকর, অর্থহীন, জ্ঞানহীন চেষ্টা দেখা যায়।)। কিন্তু ভার্চুয়াল দুনিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে আপনি নিজের রাগ-ক্ষোভ, কামনা-বাসনাকে সংকোচ ছাড়া প্রকাশ করতে পারেন, ইন ফ্যাক্ট, যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন- নিরাপদে এক জায়গায় বসে এবং সমাজের অন্য কারো ক্ষতি না করে। এরকম একটা নিরাপদ সম্ভাবনার দুনিয়ায় সহিংসতা খুব মন্দ কিছু না। বরং তা বাস্তব দুনিয়ার সহিংসতা কমাতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে।   

সত্যি বলতে, এই সময়ের প্রতিনিধিত্বকারী গেম হিসেবে পাবজির মতো গেমের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সম্পূর্ণ নিহিলিস্টিক, মুখোমুখি সংঘর্ষময় এবং সাইকোপ্যাথিক একটা গেইম। প্রত্যেকটা সংঘর্ষ জিরো সাম গেম। যতক্ষণই আপনি খেলেন না কেন, একই রকম লড়াই আপনাকে দুইবার করতে হবে না।

গেমের ডেভেলপার ব্রেন্ডেন গ্রিন, যিনি অনেকের কাছে ‘প্লেয়ারআননোন’ নামেও পরিচিত, গেমটা তৈরি করেছেন ‘ডেইজ’ নামে একটা গেমের উপরে বেজ করে। ‘ডেইজ’ একটা জম্বি সার্ভাইভাল গেইম। যেখানে খেলোয়াড়েরা একটা অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায় আর চেষ্টা করে জম্বিদের খাদ্য হওয়া এড়াতে। সেখানে আরেকজন মানুষ পেলে তার সঙ্গে সহযোগিতামূলক কমিউনিটি গড়ে তোলার সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে, অর্থাৎ এখানে আশাবাদী হওয়ার মতো, মানবিকতা খোঁজার কিছু উপাদান আছে। কিন্তু পাবজির ধরন আলাদা। যেকোনো আগন্তুক আপনার মাথা বরাবর গুলি করে ফেলবে। খেল  খতম। পাবজি অন্ধ ক্রোধ আর মৃত্যুর খেলা।   

অনলাইন শুটিং গেম আগে থেকেই অনেক ছিলো। ‘ডুম’ বা ‘কল অফ ডিউটি’র মতো গেমগুলো এমনভাবে সাজানো যে অনেকাংশে এগুলা  জাস্ট খেলাধূলা। যেখানে গোলাগুলি, খুনোখুনি এমন কাঠামোতে সেট করা যে সবকিছুই খেলামাত্র, অনেক সময় সবকিছুই কৃত্রিম লাগে। কিন্তু পাবজির ক্ষেত্রে সবকিছু ঘটে অনেকটা ন্যাচারালিস্টিক লোকেশনে।

রিয়েল লাইফের চিহ্ন বহন করা পরিত্যক্ত বাড়িঘর, টেলিভিশন, ল্যাপটস, সোফা কিন্তু- সিভিলিয়ানরা নাই। কী হয়েছে আমরা না জানলেও অনুমান করতে আমাদের কষ্ট হয় না। সিরিয়ার আলেপ্পোর রাস্তাঘাটের খবর বিস্তারিত মিডিয়ায় বিস্তারিত আসার পরে, অনেকে পাবজির পরিত্যক্ত রাস্তাঘাটের নিঃশব্দ হররের সাথে  মিল খুঁজে পেয়েছেন। 

এটাই কথা। পাবজি এক অর্থে একটা হরর গেম। সবকিছু র‍্যান্ডম আর এত নিষ্ঠুর, প্রাণঘাতী! এমন কারও হাতে আপনি মারা পড়তে পারেন যাকে আপনি কখনোই দেখেন নাই। আপনি হয়তো কোনো রাস্তা ধরে হাটছেন, ভাবছেন যে কোনো বাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মোটরসাইকেলের হেলমেট, বন্দুক বা  দরকারি কিছু পেয়ে যেতেও পারেন। এমন সময় বুম! গুলি খেয়ে আপনি শেষ। অনেকটা নাইট অফ দ্য লিভিং ডেড-এর মতো, যেখানে সাফল্যের সাথে আপনি জম্বিদের সাথে ফাইট করে ফিরছেন নিশ্চিন্ত মনে, হঠাৎ রাস্তার কোনো পুলিশের গুলিতে খেল খতম। জর্জ রোমেরো’র মুভিতে, অবশ্যই, পুলিশের দ্বারা প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের ব্যাপারটা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু পাবজিতে এর মানে হলো একটা স্নাইপার রাইফেল নিয়ে ঘোরাফেরা করা মাত্র ১৪ বছর বয়সী একটা ছেলের পর্যবেক্ষণক্ষমতা আপনার চেয়ে বেশি হতে পারে।  

এমন অনেক লোক আছে, যারা পাবজি ছাড়া অন্য কোনো গেম খেলে না। গ্রিন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ছয় মিলিয়নেরও বেশি লোক  ১০০ ঘন্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছেন পাবজি খেলে। 

লোকে কেন এতটা সময় এমন জায়গায় ব্যয় করবেন, যেখানে সভ্য সমাজের যেকোনো উপাদানের অস্তিত্বই নাই, শুধু অচেনা লোকেরা একে অপরকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে চায়?  

একটা  ইতিবাচক দিকটা হলো, পাবজি আমাদেরকে স্পষ্ট করে দিলো যে, ভিডিও গেমকে আগ্রহ উদ্দীপক ও আকর্ষণীয় করতে স্টোরিগুলো প্লেয়ারদের হাতে ছেড়ে দিলেই ভালো। কোনো ন্যারেটিভ বা ব্যাকস্টোরি নাই, কোন ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং নাই পাবজিতে। প্রত্যেক খেলোয়াড় তার  ভাগ্য, মৃত্যু আর দুর্ভাগ্য বা টিকে থাকার গল্প তৈরি করে নিজের খেলার মাধ্যমে। খেলতে খেলতে হয়তো ফাইনাল থ্রিতে গিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় লড়াই করলেন। আরেকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাতাহাতি করলেন, বা গাড়ি দুর্ঘটনায় নদীতে গিয়ে পড়লেন। আবার সেখান থেকে উঠে হয়তো দুজনেই আবার মারামারি করতে যাবেন এমন সময় স্লাইপার রাইফেল নিয়ে আরেকজন আপনাদের দুজনকে গুলি করে মেরে ফেললো।  বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ মানুষ যে জীবন যাপন করে, বা করতে বাধ্য হচ্ছে, ৬০ ঘন্টার ড্রাগন বা ভ্যাম্পায়ার ফ্যান্টাসি সিরিজের চেয়ে ভিডিও গেমের এই নিষ্ঠুর দুনিয়া্য টিকে থাকার লড়াই কি তাদের কাছে অনেক বেশি অর্থবহ মনে হওয়ার কথা না?

১১২০ পঠিত ... ২১:২৩, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top